ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে সেখানে প্রথমে নিজেদের তাঁবেদার শাসককে বসিয়ে এবং ভবিষ্যতে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন করে সে স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে, তা কেবলমাত্র ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। আপতত: যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে, ইরানের সামরিক শক্তি যথেষ্ট প্রতিরোধক। এখন প্রশ্ন হলো মানসিকভাবে ইরানের জনগনণ এ প্রতিরোধের সংকল্প কতদিন ধরে রাখতে পারবে। যদি তারা সফল হয়, তা হয়তো ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিপটকে এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার রূপ দান করতে সক্ষম হবে।...

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এ যুদ্ধের শেষ কবে এবং পরিণতি কোথায়, তা বলা অত্যন্ত কঠিন। তবে কোনো সন্দেহ নেই যে, যুদ্ধাবসানে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সব সময় আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায়ই পতিত হয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে দুটি বড় বড় যুদ্ধ হয়েছে, যেখানে অসীম ক্ষমতাবান যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর প্ররোচনায় অঞ্চলটির গুরুতর ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২ আগস্ট ১৯৯০ সালে এবং শেষ হলো ১৭ জানুয়ারি ১৯৯১-এ। এ যুদ্ধের মূল কুশিলব ছিলেন প্রেসিডেন্ট জ্যেষ্ঠ বুশ। একদিকে ছিল কেবলমাত্র একাকী ইরাক এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জোটের অধীনে ৪২টি দেশের সমাবেশ। উদ্দেশ্য কুয়েত থেকে আগ্রাসী ইরাকিদের উৎখাত করা। সে যুদ্ধে ইরাকের বিপক্ষে বাংলাদেশও যোগদান করেছিল। কিন্তু লক্ষ্যণীয় হলো সে জোটে ইরাকের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের সব মুসলিম রাষ্ট্রই যোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে গোপন গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস হলে জানা গেল যে, কুয়েত আক্রমণের পেছনে ইরাককে ইন্ধন জোগানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রেরই হাত ছিল।
১৯৯০ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন এপ্রিল গ্লেসপি। গ্লেসপি সাদ্দামকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ইরাক কুয়েত আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু মৌখিক ভর্ৎসনা ব্যতীত তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। গ্লেসপি আরও নিশ্চিত করেছিলেন যে, কুয়েতের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। কিন্তু কুয়েত আক্রমণের পর পরই ইরাকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এরূপ আমূল পরিবর্তন কী কারণে ঘটল। এ যুদ্ধকে ন্যায়যুদ্ধের বৈধতা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন হয়েছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত অনুমোদন।
প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্রগুলো সাদ্দামের অপসারণে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী ছিল। সৌদি আরব, যুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, কুয়েত, এবং জর্ডান রাজতন্ত্র হওয়া বিধায় ইরাকের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো ব্যবস্থাকে তাদের রাজ পরিবারের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার বিপরীতে নিজ জনসাধারণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সর্বদাই সন্দেহের চোখে দেখে আসছিল।
দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ছিল আরও বেশি জটিল। যে কাজ জ্যেষ্ঠ বুশ করেননি, সে কাজ কনিষ্ঠ বুশ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার করে দেখালেন। ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে বলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্য ছিল সাদ্দামের অপসারণ। সম্পূর্ণ মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরাক আক্রমণ করা হলো। এ যুদ্ধের প্রতি কিন্তু জাতিসংঘের অনুমোদন ছিল না। দুঃখের বিষয় সৌদি আরব, জর্ডান, মিসর, মরক্কো মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি রাষ্ট্রের সঙ্গে; উদ্দেশ্য সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা। কী অদ্ভুত ব্যাপার। এ যুদ্ধের নামকরণ দেওয়া হলো অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম। ধারণাটি এরূপ যে, সাদ্দামের পতনের মধ্যদিয়ে ইরাকি জনসাধারণের মুক্তি আসবে। এ যুদ্ধের মেয়াদকাল হয়েছিল আট বছর, ২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত। ইরাকি জনসাধারণের মুক্তি তো এলই না, বরং ইরাকে শুরু হলো সশস্ত্র বিদ্রোহ, যার জের এখন পর্যন্ত চলছে।
ইরাক পতনের পর সাদ্দাম গুপ্ত আশ্রয়ে চলে যান, পরে ধরা পড়েন। ৩০ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে তার বিচার ইরাকের একটা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হয়। অত্যন্ত মর্মদায়ক হলো তার ফাঁসি হয় ৩০ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে। দিনটি ছিল ঈদুল আজহার প্রথম দিন। বলা হয়ে থাকে যে, সাদ্দামের মৃত্যুদণ্ডে ইরাকিরা আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েছিল কারণ, সাদ্দামের মৃত্যুতে একজন ফ্যাসিস্টের পতন হয়েছিল বটে। অথচ এর সঙ্গেই শুরু হলো ইরাক রাষ্ট্রের জৈবিক এবং মানসিক পতন। সাদ্দামের মৃত্যুর প্রায় এক যুগ পর্যন্ত ইরাক বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহের জন্য ভগ্ন অবস্থায় পতিত হয়েছিল। অবশ্য ২০১৭ সাল থেকে ইরাকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ আবার ইরাকে আইএসআইএস-এর উত্থানকে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলছে।
সাদ্দামের মতো লিবিয়ার গাদ্দাফিরও করুণ পরিণতি ঘটেছিল। ১৯৬৯ সালে পশ্চিমা-পুষ্ট রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে গাদ্দাফি ক্ষমতা দখল করেন। প্রায় চার দশক গাদ্দাফি লিবিয়া শাসন করেন। তার সময় লিবিয়ার যথেষ্ঠ অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে কিন্তু তার সঙ্গে তিনি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে লিবিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথকে রুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু গাদ্দাফির সবচেয়ে গুরুতর চরিত্র ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোর সাম্রাজ্যবাদ এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের তাঁবেদার মুসলিম রাজতন্ত্রের অবনত নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা। গাদ্দাফি সমাজতন্ত্র এবং কমিউনিজমের সমর্থক ছিলেন।
গাদ্দাফির পতন ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর চক্রান্তের একটা অংশ ছিল। ২০১১ সালে আরব বসন্ত নামে বিপ্লবের শুরু হয়। এ বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারবিরোধী আন্দোলন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, এ বিপ্লবের ফলে যে রাষ্ট্রপ্রধানরা ক্ষমতাচ্যুত হলেন, যেমন- লিবিয়ার গাদ্দাফি, মিসরের হোসনি মোবারক, ইয়েমেনের আবদুল্লাহ সালেহ, তিউনিসিয়ার আবেদিন বেন আলি এবং সিরিয়ার বাশার আল আসাদ। তাদের সবাই পশ্চিমা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল ছিলেন। অথচ রাজতন্ত্রগুলোতে আরব বসন্তের স্পর্শ অনুভূত হলেও কোনো রাজক্ষমতার পতন ঘটল না।
বাশার আল আসাদের পতনের আগের সিরিয়া এবং পরের সিরিয়ার মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে সিরিয়া বিভিন্ন গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। সিরিয়ার সবচেয়ে করুন ব্যাপার হলো গত ১৪ বছরে সিরিয়ার ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নিজ বাসভূমি থেকে স্থানচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ লোক দেশের ভিতরে বাস্তুহারা হয়েছে এবং অবশিষ্ট দেশ ত্যাগ করে বিদেশে উদ্বাস্তুর মানবেতর জীবনযাপন করছে। তথাকথিত ইসলামী সন্ত্রাসী সংগঠন দায়েশের (ইসলামিক রাষ্ট্র) বিচরণক্ষেত্র এখানেই।
সাদ্দাম, গাদ্দাফি এবং আসাদের পতনের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে আজ অবধি মধ্যপ্রাচ্যে তার সমাপ্তি ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে তার অবস্থান সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সুদৃঢ় করা। এ কারণে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাজতন্ত্রগুলোর প্রতি তার সমর্থন ছিল একপক্ষীয়। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য মোতায়েন ছিল। এদের দায়িত্ব হলো, মুসলিম রাজতন্ত্রগুলোর নিরাপত্তা প্রদান করা। প্রশ্ন হলো এ রাষ্ট্রগুলোর হুমকি কোথায়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো, যথা পাকিস্তান, ইরান, কিংবা রাশিয়া কোনো রাষ্ট্রই সৌদি আরব, যুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান কিংবা কাতারের জন্য নিরাপত্তা হুমকির কারণ হতে পারে না। অতএব, এখানে মনে হতে পারে যে, মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি রাজতন্ত্রগুলোকে তাদের নিজেদের জনসাধারণের বিরোধিতা থেকে রক্ষা করা, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এ স্ট্রাটেজিক অবস্থানের আর একটি লক্ষ্য রয়েছে, ইরানের মোল্লাতন্ত্রের পতন নিশ্চিত করা। এবং তা সম্ভব হবে একমাত্র ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানোর মধ্যদিয়ে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা কোনো না কোনোভাবে ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম প্রচেষ্টা ছিল বিল ক্লিনটন এবং বারাক ওবামার। কিন্তু ট্রাম্পের আগমনের পর ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সব পথই বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের চরিত্র হলো লুণ্ঠনকারী আধিপত্যবাদীর মতো। ইতোমধ্যেই সে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে বল প্রয়োগের যে উদাহরণ দিয়েছে তাতে প্রমাণিত হয় যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মুক্তবাজার অর্থনীতি সমর্থিত উদারনীতি প্রবর্তনের কোনো ইচ্ছাই ট্রাম্পের নেই।
ট্রাম্পের এ চরিত্রের সঙ্গে ইসরায়েলের নেতানিয়াহুর অসম্ভব মিল রয়েছে। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু উভয়ে শূন্য-সমষ্টির খেলায় বিশ্বাস করেন। অতএব, ইরানের পতনের মধ্যদিয়েই হবে বৃহত্তর ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। সাম্প্রতিক নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর এ ধারণাটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক আলোচনায় আবার সামনে চলে এসেছে। ফিলিস্তিন, সিরিয়া, জর্ডান এবং লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেতানিয়াহু মনে করেন ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের নৈতিক অধিকার ইহুদিদের রয়েছে। এবং তার জন্য প্রয়োজন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো বাতিকগ্রস্ত ব্যক্তির সমর্থন। ট্রাম্প অবশ্য বিশ্ব রাজনীতিতে স্বৈরাচারী শক্তির সীমাহীন ক্ষমতার সাফল্যের মানসিকতায় আক্রান্ত। তার এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পুরোধা হলেন নেতানিয়াহু। সব মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের সফলতাই হবে ট্রাম্পের শাসনের ঐতিহাসিক পরাকাষ্টা। নেতানিয়াহু এটা জেনেই ট্রাম্পকে তার ফাঁদে ফেলেছেন। কিন্তু বর্তমানে নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের এ দূরভিসন্ধির একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হলো ইরান।
ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে সেখানে প্রথমে নিজেদের তাঁবেদার শাসককে বসিয়ে এবং ভবিষ্যতে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন করে সে স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে, তা কেবলমাত্র ভবিষ্যৎই বলতে পারবে। আপতত: যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে, ইরানের সামরিক শক্তি যথেষ্ট প্রতিরোধক। এখন প্রশ্ন হলো মানসিকভাবে ইরানের জনগনণ এ প্রতিরোধের সংকল্প কতদিন ধরে রাখতে পারবে। যদি তারা সফল হয়, তা হয়তো ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিপটকে এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার রূপ দান করতে সক্ষম হবে।
লেখক: ডিস্টিংগুইস্ড এক্সপার্ট, অ্যাভিয়েশেন
অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ
এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত


.jpg)