জাতীয় পার্টির (জাপা) ঘাঁটি রংপুর অঞ্চলেই দলের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় নয়া আলোচনার খোরাক হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ভোটে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে প্রশাসনের ওপর দোষ চাপিয়ে নাকি ব্যক্তি বা দলের ইমেজ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
জানা গেছে, রংপুরে জাপার ঘাঁটি ৩৩ আসনের মধ্যে ২৮টিতে প্রার্থী ঘোষণা হলেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত দলের প্রার্থী ঠেকল ২৬-এ। নির্বাচনে এই ২৬ থেকে ৫টিতে বিজয়ের সম্ভাবনা থাকলেও বাকি ২২টির কটিতে আসবে বা কোনো চমক থাকবে কি না, সেটিই এখন আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে প্রার্থী পাঁচজন থাকলেও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার নির্বাচন থেকে সরে আসছেন। তার দাবি, নির্বাচনি ক্যাম্প আগুনে পোড়ানো, কর্মীদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর, প্রশাসনের অসহযোগিতা, কর্মীদের মারপিট, হুমকি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরে দাঁড়ান তিনি। তিনি বলেন, ‘মূলত এই অস্থিতিশীল পরিবেশে নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’
আতাউর রহমান দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাঘাটা উপজেলার আহ্বায়ক।
স্থানীয়রা জানান, বাকি চারটি আসনে জাতীয় পার্টি তাদের কর্মী-সমর্থকদের বড় সুখবর দিতে পারবে না।
অন্যদিকে দিনাজপুর-২ আসন থেকেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাপার প্রার্থী মাহবুব আলম। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে এ নির্বাচন কতটুকু ফ্রি ফেয়ার হবে, বিশেষ করে ভোট কাউন্টিং কতটুকু ট্রান্সপারেন্ট হবে এবং ডিক্লারেশন কতটুকু অথেন্টিক হবে, এ নিয়ে আমি সন্দিহান। তারই ধারাবাহিকতায় আমি আপনাদের সবাইকে জানান দিতে চাই আজ থেকে আমি আমার নির্বাচনি সব কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখলাম। অব্যাহতি নিলাম এবং আমি এই ইলেকশন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’
দিনাজপুরের চারটি আসনে জাপার প্রার্থী থাকলেও সেখানে জাপার অবস্থা খুব একটা শক্তিশালী নয় বলে জানান ওই এলাকার ভোটাররা।
একইভাবে কুড়িগ্রাম চারটি আসনের সব কটিতে প্রার্থী থাকলেও কুড়িগ্রাম-১-এ সুখবরের আভাস থাকলে বাকিরা আছেন চ্যালেঞ্জে।
লালমনিরহাটে তিনটি আসনে তাদের বড় সংকট থাকলেও রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে রংপুর-৩ আসনটি অনেকটা নিশ্চিত। বাকি পাঁচটি নিয়েও বড় সংকট থাকতে পারে।
নীলফামারীর চারটি আসনের একটিতে নির্ভার, ঠাকুরগাঁওয়ে একটিতে আশার আলো দেখলেও সংকট ঘুচবে কি না সেই শঙ্কা আছে ভোটারদের মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় জাতীয় পার্টির দখলে থাকা এই আসনগুলোতে দাপট এখন আওয়ামী লীগের। তৃণমূলের জাপা কর্মীরাও দলের এই পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগের দাপটকে দুষছেন। জাপার বেসামাল অবস্থার সুযোগে দুর্গ দখলে উঠেপড়ে লেগেছে আওয়ামী লীগ।
সুজন রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন বলেন, দলের মধ্যে বিভক্তি, সমন্বয়হীনতা, তৃণমূল থেকে হাইকমান্ড চেইন ঠিক না থাকা এবং এরশাদের প্রতি মানুষের যে আবেগ-ভালোবাসা ছিল, সেটি ধীরে ধীরে কমে আসার একটি বড় কারণ রয়েছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ভাষ্য, রংপুরের মানুষ এরশাদের জন্য ইতিহাস পরিবর্তন করে দিয়েছেন। এরশাদকে যখন ভোটে অযোগ্য করা হয়, নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি তখনো রংপুরের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলন করে নির্বাচন যোগ্য করে তুলেছেন। এমনকি জেল থেকে তিনি এই অঞ্চলের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন, সেটি রংপুরের মানুষের জন্য হয়েছে। এটি এরশাদের প্রতি রংপুরে মানুষের ভালোবাসা। সুতরাং জাতীয় পার্টি অনেক শক্তিশালী।