ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব
Nagad desktop

আজিজ, বেনজীর ও আনারের ঘটনা রাজনীতিতে ‘স্পেস’ পেয়েছে বিএনপি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ এএম
রাজনীতিতে ‘স্পেস’ পেয়েছে বিএনপি

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসেছে আওয়ামী লীগ সরকার। অন্যদিকে প্রায় ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি রাজনৈতিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে একটি ধারণা ও আলোচনা ছিল যে আপাতত বেশ কয়েক বছর সরকার ঝামেলামুক্ত থাকছে। বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখে কি না, এমন প্রশ্নও তুলেছিলেন অনেকে।

কিন্তু মাত্র চার মাসের মধ্যে পরপর সংঘটিত কয়েকটি ঘটনায় বিএনপি কথা বলার ইস্যু পেয়েছে। তাই বলা হচ্ছে, অতি অল্প সময়ের মধ্যে ‘রাজনীতি’ করার সুযোগ পেয়েছে দলটি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের প্রভাবশালী আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের কলকাতায় খুন হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, এসব ঘটনায় সরকার কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে আজিজকে নিয়ে পরিস্থিতি আরও কিছুটা ঘোলাটে হয়েছে। কারণ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করা হয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের মতে, “পরপর চারটি নির্বাচনে ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে বিএনপির উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই ছিল না। কিন্তু আজিজ ও বেনজীরকে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক এবং এমপি খুনের ঘটনায় বিরোধী দলগুলোর কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক কথায় তারা ‘ব্রিদিং স্পেস’ পেয়েছে।” ওই তিনটি ঘটনাই সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মনে করেন তিনি।

যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এসব ঘটনায় সরকার বিব্রত নয়। তবে তিনি এও বলেছেন, বেনজীরের বিষয়ে দুদক তদন্ত করছে, চাইলে আজিজেরও তদন্ত হতে পারে। ‘সরকারের বিচার করার সৎ সাহস আছে এবং সরকার তাদের অপরাধ অস্বীকার করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি’- এমন কথাও বলেন সরকারের এই সেতুমন্ত্রী।

তবে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ নিজে এ প্রসঙ্গে দেশের একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘সরকারকে বিব্রত ও হেয় করার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন।

জেনারেল (অব.) আজিজ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। 

পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ তাদের ‘সরকারের ছায়া’ বলেও মনে করেন। ফলে দুজনের বিরুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং একজনের স্থাবর সম্পদ জব্দ ও তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ার ঘটনায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। অনেকে এর কারণ ও তাৎপর্য খোঁজারও চেষ্টা করছেন। সংশয় প্রকাশ করে তাদের কেউ কেউ বলছেন, সরকারের ভেতরকার ক্ষমতাবলয়ের কোনো হিসাব-নিকাশের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে এই ঘটনা। আবার কারও মতে, ঘটনার নেপথ্যে শক্তিধর কোনো রাষ্ট্রের চাপ থাকতে পারে। কারণ ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু ও সময়ে হলেও আজিজ ও বেনজীর দুজনেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ‘সরকারের ব্যর্থতার ফলেই সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক স্পেস পেয়েছে। কারণ সরকার একের পর এক ইস্যু নিজেরাই তৈরি করছে। সরকারের অপকর্মই সরকারের বড় শত্রু। এখানে বিরোধী দলের কোনো কৃতিত্ব নেই।’

‘তা ছাড়া অর্থনৈতিক দুরবস্থা, দুর্নীতি, দলীয়করণ, ভোটাধিকার হরণ, আইনের শাসনের অভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের মধ্যে ভঙ্গুর অবস্থায় সরকার দাঁড়িয়ে আছে। ফলে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ থাকাও অস্বাভাবিক নয়’ যোগ করেন সুধী সমাজের এই প্রতিনিধি।

পরপর সংঘটিত কয়েকটি ঘটনায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে কি না- জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর কিছু নেই। কারণ দেশের জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে বলেই ভুয়া নির্বাচন করে তাদের ক্ষমতায় থাকতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিষয় হলো তারা (সরকার) নিজেদের অপকর্মে নিজেরাই জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের লোকদের এ রকম হাজার হাজার অপকর্মের ঘটনা রয়েছে; যা সময় হলে বেরিয়ে আসবে।’ 

আজিজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয় গত ২১ মে। কিন্তু গত ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর বাংলাদেশ সফরের পর সরকারের মধ্যে একধরনের স্বস্তির ভাব দেখা গেছে। ওই সফরকে কেন্দ্র করে ‘যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান বদলায়নি’ বলে দাবি করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। আর সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘লুর বক্তব্য পরিষ্কার, ফখরুলের বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে দেখে বিএনপি হতাশ। ‘দলটির নেতাদের মাথায় হাত উঠেছে’ এমন কথাও বলেছেন তিনি। কিন্তু ওই ‘স্বস্তির’ মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপ কি না এ আলোচনা যেমন উঠেছে; তেমনি চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এসে সরকার ‘শুদ্ধ’ হওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা আছে। কারণ ‘দুর্নীতির পাশাপাশি গণতন্ত্রের অবনতিতে সাবেক সেনাপ্রধানের জড়িত থাকার অভিযোগ’ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। 

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে আজিজ আহমেদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সুধী সমাজের মধ্যেও আলোচনা আছে। নির্বাচনের আগের দিন ২৯ ডিসেম্বর ‘গত ৪৭ বছরে এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখিনি’ এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি আলোচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে যে প্রক্রিয়া রয়েছে তার ওপর মানুষের বিশ্বাস ক্ষুণ্ন করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন’ এমনটি উল্লেখ রয়েছে। এও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের দুর্নীতি করেছেন আজিজ আহমেদ।

এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আল-জাজিরায় প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশের পরও আলোচিত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ। ওই রিপোর্টে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কিছু দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। তিনি তার ভাইকে বাংলাদেশের অপরাধের জবাবদিহি থেকে বাঁচাতে সহযোগিতা করেছেন, এমন অভিযোগও করা হয় নিষেধাজ্ঞাসংবলিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে। 

যদিও পরবর্তীকালে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেতে এক সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন আজিজ আহমেদ। ২০২১ সালের ২৪ জুন তিনি অবসরে যান। তবে গুরুতর দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২১ মে আজিজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণায় এখন আবারও তাকে নিয়ে জোর আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে।

এই নিষেধাজ্ঞা এবং বেনজীরকে দুদকের তলব ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংসদ সদস্য আনার খুনের ঘটনা। এ ছাড়া গত ২১ মে ডয়চে ভেলেতে প্রকাশিত এক প্রামাণ্যচিত্রের কারণেও সরকারের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের প্রতিবাদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ওই তথ্যচিত্র একপেশে ও উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এ সত্ত্বেও এক সপ্তাহ ধরেই এই তিন ঘটনা নিয়ে রাজনীতির মাঠে সোচ্চার হয়েছে বিএনপিসহ মাঠের প্রায় সবগুলো বিরোধী দল। বেনজীর ও আজিজকে অপরাধী বানাল কারা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। 

প্রায় একই সুরে বক্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন দেশের সুধী সমাজের অনেকেও। তারা বলছেন, আজিজ এবং বেনজীরের দুর্নীতি ও কর্মকাণ্ডের দায় সরকারেরও রয়েছে। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এক নিবন্ধে লিখেছেন, আজিজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার দায় অনেকাংশে সরকারের। এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার সোনা চোরাচালানসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে। ফলে তার মতো একজন নেতা আওয়ামী লীগের মতো বড় একটি দলের তিন-তিনবার মনোনয়ন কীভাবে পেলেন এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে নির্বাচিত ৮০ শতাংশ এমপিই চোরাকারবারে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। আর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, নিহত আনোয়ারুল আজীম এমপি তার এলাকায় মাফিয়া হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে ওবায়দুল কাদেরের মতো ব্যক্তিরা প্রশ্রয় দেন বলেই তিনি নিজেকে এমপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন- এমন মন্তব্য করেন রিজভী।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এ প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিরাজনীতিকীকরণ, দুর্বৃত্তায়ন ও টাকা দিয়ে মনোনয়ন-বাণিজ্যের যে রাজনীতির চর্চা, আনারের ঘটনা তারই ফসল। এর চেয়ে ভালো কিছু আমরা আশা করতে পারি না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য এমপি আনার, জেনারেল আজিজ এবং বেনজীর; কারোরই সরাসরি পক্ষ নেননি। তিনি বলেছেন, আনারের জনপ্রিয়তা দেখে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি অপকর্মে জড়িত কি না তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

কোনো অপরাধী শাস্তি ছাড়া পার পাবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে এখন তদন্ত হচ্ছে এবং আরও তদন্ত হবে এ কথা দুদক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত হচ্ছে মানে মামলা হলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

‘যিনি সেনাবাহিনীর প্রধান, তিনিও যদি অপরাধী হোন, তার বিরুদ্ধেও তদন্ত করতে দুদকের কোনো বাধা নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করতে পারবে। অপরাধী হলে অপরাধের জন্য শাস্তি পেতেই হবে। সে যে-ই হোক’, বলেন ওবায়দুল কাদের।

নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে নিজের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, এলাকার কোথায় কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, উন্নয়ন হচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিয়ে আপনারা লিখুন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য থাকলে সেটিও তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধেও যদি কিছু থাকে, তাও লিখবেন'।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের জন্য একটি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান'।

মতবিনিময় সভায় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুটিরশিল্প পণ্যের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, নাছির উদ্দিন হাজারী, আবুল মুনসুর মিশন, মো. বাহার মিয়া ও শওকত হোসেন খান সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/থিও

সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রকাশ্যে এক নারীকে পেটানোর ভিডিও ভাইরালের পর মো. শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতাকে দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকতের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এর আগে দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) নামের এক নারীকে বেদম পেটান ওই যুবদল নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

বহিষ্কৃত মো. শফিকুল ইসলাম মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন খবরের কাগজকে বলেন, 'সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এক নারীকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ইকবাল হোসেন/থিও

প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। পরবর্তীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাজেট ঘোষণার পর বাজারের অবস্থা এবং মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট। মানুষের সন্তুষ্টিতে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুশি। 

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা যেকোনো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো ক্ষমতায় আসার পর কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা সরকারের সাফল্য ও জবাবদিহির অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতে বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও এবার হয়েছে তার ব্যতিক্রম। এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এই বাজেটকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এই বাজেটের মধ্য দিয়েই।

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, কৃষক, শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের পরিবার, নারী ও তরুণদের কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া হয়েছিল, এই দুই কর্মসূচিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা দেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তার প্রতিফলন দেখা গেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দে। শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমান। সরকারের দাবি, এই অর্থ দিয়ে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেকারত্ব হ্রাস এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছিল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। বাজেটে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার স্টার্টআপ ফান্ড, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, আইটি পার্ক সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দিয়েছে। বাজেটে তরুণদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী দশকের অর্থনীতিকে সামনে রেখে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ এবং ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তোলাই এই বাজেটের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। 

একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, খাল পুনর্খনন, স্থানীয় বাজার উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ শহর ও গ্রামের আয়বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে, যা নির্বাচনি ইশতেহারের পূর্ণ প্রতিফলন।

বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই বিএনপি তার ইশতেহারে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি টেকসই ভিত্তি পাবে বলে মনে করে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে হবে না। এটি জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের বাজেট। নির্বাচনের আগে বিএনপি যেসব অঙ্গীকার করেছিল, এই বাজেট সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।’

দলটির নেতারা মনে করেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতির যে স্থবিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই বাজেট তা কাটিয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

তার মানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে তিনটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে–জনগণের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীলতার বার্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এখন শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি বিএনপি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষাও। আগামী মাস ও বছরগুলোই বলে দেবে, এই বাজেট সত্যিই ‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের’ সফল যাত্রা শুরু করতে পারে কি না, নাকি এটি রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/

দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে অপহরণের অভিযোগকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতারা।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আয়োজনে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা আড়াল করতে গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই পৌর বিএনপি এ আয়োজন করেছে।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, শ্রমিক দলের সভাপতি জামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব কাওছার আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

লিটন সরকার/রিফাত/