সব সংস্কারই অন্তর্বর্তী সরকারকে করতে হবে কেন? এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার পরিচালিত হওয়া উচিত। নির্বাচিত সরকার কী কী সংস্কার করবে তা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, যাতে করে জনগণ ভোটের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন।’
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘রক্তেভেজা গণঅভ্যুত্থান- গণআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দলটির দুই শহিদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফ ম্মরণে এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশের গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের সময় সমাজের সব শ্রেণির মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। লেখক সাংবাদিকরা তাদের লেখা লেখতে পারেনি, বাকস্বাধীনতা ছিল না। প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এটি থেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে সমাজের সবাই অংশগ্রহণ করছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফলতা এসেছে জুলাই-আগস্টে সংগ্রামের মাধ্যমে, ছাত্র-জনতার যে কারণে আন্দোলন করছে তা বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র-শ্রমিক জনতার গণঅভ্যুত্থান একদিনে সংগঠিত হয়নি; এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক দলসমূহ ও জনগণের বহুবছরের মরণপন লড়াই। এবারের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম ষোল বছর ও ছত্রিশ দিনের। হঠাৎ কোনো ঘটনা সংগঠিত হয়নি।’
সভাপতির বক্তব্য বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার কাজ সম্পর্কে অস্পষ্টতার পাশাপাশি সমন্বয়হীনতাও দেখা যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসেরও ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার যাতে আবার বিশেষ কোনো স্বার্থান্বেষীদের কাছে কোনোভাবে জিম্মি না হয়ে পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনে যে অস্থিরতা চলছে অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে নানা উসকানি, অনৈতিক চাপ ও প্রভাব মোকাবেলা করে তার নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত হলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
তিনি আশু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগের পাশাপাশি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সাইফুল হক বলেন, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে এটাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করবে। জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক সোহরাব হাসান বলেন, ‘অতীতে কয়েকবার স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্র আসেনি, জনগণের মুক্তি হয়নি।’
তিনি বলেন, এবার সবাইকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ভদ্রোচিত অনেকগুলো কমিশন হয়েছে, কিন্তু শ্রমজীবী মেহনতিদের অধিকার নিয়ে কোনো কমিশন হয়নি।
আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জাফর)সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদূর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল হাকিম, এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্যসচিব ড.আবু ইউসুফ সেলিম, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি আবদুন নূর, ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ প্রমুখ।
সভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী।
সভা পরিচালনা করেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, আবু হাসান টিপু। সভার শুরুতে গণঅভ্যুত্থানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহিদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ হাজারো শহিদদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
শফিকুল ইসলাম/অমিয়/