এবার সম্মেলনের মাধ্যমে সারা দেশে তৃণমূলের নতুন নেতৃত্ব ঠিক করবে বিএনপি। সেই লক্ষে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তৃণমূলের সব কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ করতে চায় দলটি।
গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে সব কমিটি গঠন শেষ করার বিষয়ে ৮ বিভাগের দায়িত্বশীল নেতাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে- ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌর, থানা কমিটি থেকে শুরু করে মহানগর ও জেলা কমিটি সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন শেষ করতে হবে। বিএনপির হাইকমান্ডের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূলের নেতারা।
দলীয় সূত্রমতে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্দোলন-কর্মসূচির চাপ না থাকলেও আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ মনে করছে হাইকমান্ড। সেজন্য নানা কৌশলে এগোচ্ছেন নীতি-নির্ধারকরা। তৃণমূলে ব্যাপকভাবে ধানের শীষের প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এবার সাংগঠনিকভাবে বেহাল দশা কাটাতে রাজনৈতিক সময় বিবেচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগেই ৯০ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষ করতে চায় বিএনপি। সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে কর্মিসভা ও বর্ধিত সভা করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংগঠন গোছানোর কাজগুলো নিজেই তদারকি করছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সাংগঠনিক পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। দীর্ঘ এই সময়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাবন্দি করা হয়। মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় লাখ লাখ নেতা-কর্মীর জীবন বিপর্যস্ত। অনেকের ব্যবসা বাণিজ্য ধ্বংস হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর এখন নতুনভাবে সারা দেশে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠন ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সারা দেশে তৃণমূল পুনর্গঠনে বিএনপির সাংগঠনিক ১০ বিভাগে ১০ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠি দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবদের কাছে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সিলেট বিভাগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বরিশাল বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, রংপুর বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কুমিল্লা বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চট্টগ্রাম বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, ফরিদপুর বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, খুলনা বিভাগে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, রাজশাহী বিভাগে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং ময়মনসিংহ বিভাগে যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনার বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌর, থানা কমিটি থেকে শুরু করে মহানগর ও জেলা কমিটি সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি সমাপ্ত করতে হবে। এই পত্র প্রাপ্তির পর আপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগর ও জেলার সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিবগণের সঙ্গে বৈঠক করে অতিসত্বর সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ নির্দেশনাবলি জরুরি’।
সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক তামিম ইয়াহিয়া আহমাদ বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হলে সঠিক মানুষ নেতৃত্বে আসবেন এবং সঠিক মানুষ চেয়ারে বসবেন। কারণ তৃণমূল চেনে কারা রাজপথে ছিল আর কারা ছিল না। এতে করে যারা লবিংয়ে নেতা হতে চেয়েছিলেন তাদের স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাবে। অতএব তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক। যা দেশ ও দলের জন্য মঙ্গলজনক।
জানা যায়, মূলত ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের পর দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দেয় বিএনপির হাইকমান্ড। সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক জেলা শাখা কমিটি (মহানগরসহ) ৮২টি। ২০১৯ সালে বেশির ভাগ শাখায় আংশিক এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে যার অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। সর্বশেষ গত ৪ নভেম্বর দশটি জেলা ও মহানগরে পূর্ণাঙ্গ ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম মহানগর, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং সিলেট মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়। একই দিনে মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুষ্টিয়া, ময়ময়নসিংহ দক্ষিণ এবং শেরপুর জেলা বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়েছে।