ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুবাইতে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার মতলবে ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীনতায় লাখো মানুষ জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

৭১-এর সংবিধান কবর দেওয়ার কথা বললে কষ্ট লাগে: মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৭ পিএম
৭১-এর সংবিধান কবর দেওয়ার কথা বললে কষ্ট লাগে: মির্জা আব্বাস
সাংবাদিকদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির মতবিনিময় সভায় মির্জা আব্বাস। ছবি: খবরের কাগজ

একাত্তরের শহিদের রক্ত দিয়ে লেখা যে সংবিধান, সে সংবিধানকে যখন কবর দেওয়ার কথা বলা হয় তখন কিন্তু আমাদের কষ্ট লাগে, বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমার সঙ্গে থাকা অনেক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব মারা গেছে, প্রায় ৩০ লক্ষ শহিদ হয়েছে। আমরা তোমাদের সিনিয়র, অগ্রজ হিসেবে কষ্ট পাই, এটা কী করছো? এটা করা কি ঠিক হলো? ঐ সংবিধানে যদি খারাপ কিছু থাকে নিশ্চয় সেটা বাতিল যোগ্য। যদি নতুন কোনো সংবিধান লিখতে হয় তাও তো লিখতে হবে, আগের অমুক সালের সংবিধান বাতিল করে এই সংবিধান জারি করা হলো। সুতরাং এই সংবিধানকে সংশোধন করা যাবে। 

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজুনর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির বাণিজ্য বিয়ষক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক  সাইদুর রহমান মিন্টু প্রমুখ। 

মির্জা আব্বাস বলেন, সংবিধান কোনো রাফ খাতা নয়, যে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। কবর দিয়ে দেব, মেরে ফেলব, কেটে ফেলব-এই কথাগুলো কিন্তু ফ্যাসিবাদের কথা। জাতি তাকিয়ে আছে তোমাদের (বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের) দিকে, আমরাও তাকিয়ে আছি তোমাদের দিকে। তোমাদের মুখ থেকে এ ধরনের কথা আমরা আশা করি না।

তিনি বলেন, কিছু লোক বাহির থেকে সরকার গঠন করে ফেলেছেন মনে হয় এরকম। তাদের কথাবার্তার ঝাঁঝ, আজকে ছাত্র ভাইদের কথাবার্তার যে ঝাঁঝ একই রকম। আমরা তাহলে ৭১ সালে কী করলাম? আমরা কি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে অন্যায় করেছিলাম? আমি জানি, একটা পক্ষ বলবে, হ্যাঁ, ঐদিন পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে অন্যায় করেছেন। এই দেশ স্বাধীনের পর বাকশাল কায়েম করল আওয়ামী লীগ, আর শেখ হাসিনা গত ১৫ বছরের দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, শেখ হাসিনা চলে গেলেও তার প্রেতাত্মারা রয়ে গেছে। সচিবালয়ে এখনো ৮ জন ফ্যাসিবাদের দোসর রয়েছে। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বসে আছেন। এতো বিরোধীতার পরও দুই-তিন দিন আগে সচিবালয়ে বাকশালের প্রাক্তন সচিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং বাকশালের প্রেতাত্মা কি সংস্কার হবে? আমরা কি আবার আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আসার রাস্তা করে দিচ্ছি? জাতির মনে প্রশ্ন জাগে, আমার মনেও প্রশ্ন জাগে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এককভাবে কৃতিত্ব দাবি করা ঠিক না মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই আন্দোলন যখন নিভু নিভু করে তখন কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও জনগণ সবাই সামনের দিকে এগিয়ে আসে, আমরা এগিয়ে যাই। এই আন্দোলনে বিএনপির ৪৬২ নেতা-কর্মী মারা গেছে। নিশ্চই নেতৃত্বে একজন থাকবে, পিছনে হাজারো লোক থাকবে কিন্তু এককভাবে কেউ কারো দাবি করা ঠিক না। এতে কিন্তু জনমনে বিভেদ-বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে কেউ যদি বলে আমরা তোমাদের সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। সেদিন তোমাদের কেমন লাগবে? তোমাদের মতো আগামী দিনে যদি কেউ চলে সেদিন কী হবে? আমাদের প্রতিবেশী দেশ কখনো বাংলাদেশকে স্থির থাকতে দিতে চায় না। আজকে কেউ কেউ তো চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর নিয়ে যায়। বাংলাদেশ নিয়ে বলতেছে হরিলুটের মাল বাংলাদেশ। না, সম্ভব না। এই যে আগুন, আনসার বিদ্রোহ এসমস্ত বিষয়গুলোর পেছনে কেউ না কেউ উস্কানি দিচ্ছে। তারা সচিবালয়েই বসে আছে। তারা আজকে উপদেষ্টাদের সহযোগী হয়ে আছেন। সবাইকে কিন্তু আমরা চিনি। 

তিনি বলেন, চব্বিশের আন্দোলনকে কেউ ব্রান্ডিং করার চেষ্টা করবেন না। জাতির মধ্যে বিভেদ-বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। সংবিধানের যারা অপব্যবহার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এত কষ্টের অর্জন, হাসিনার পতন সেই কষ্টের অর্জনকে দয়া করে কয়েকজন লোকেরায় ইশারায় কথা বলে, বালখিল্যতা করে জাতিকে বিভক্ত করবেন না, এটা আমার অনুরোধ।

মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন দিলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, এটা আমরা ভাবি না। বিএনপি অত্যন্ত একটা জনপ্রিয় দল। আমরা ভোটের অধিকার চাই, নির্বাচন চাই। এই ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, আমিসহ পরিবারের অনেকের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলন কি একেবারে কোনো কাজে আসেনি? কেউ যদি ভাবেন আমরা আসমান থেকে নাযিল হয়েছি, সারাদেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে, এটা কিন্তু খুব ভালো লক্ষণ নয়।

শেখ মুজিবের আমলে চারটি সংবাদপত্র বাদে সবগুলো বন্ধ দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সংবাদপত্র বরাবরই স্বাধীন ছিল। কিন্তু সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নেই, মালিকপক্ষ যা বলে তাদেরকে তাই করতে হয়। তাই আমাদের এমন জায়গায় যেতে হবে যাতে সাংবাদিকরা তার আসল কথা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে।

সভাপতির বক্তব্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, গত ৫ আগস্টের পর বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনের নামে যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন তাদেরকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। আগামী দিনেও দলের কেউ অপর্কম করতে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ছাত্র-জনতার অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে আমরা নষ্ট হতে দেব না।

মাহফুজ

নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এলাকার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে নিজের বিরুদ্ধেও সংবাদ প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, 'আমি চাই, এলাকার কোথায় কী হচ্ছে, কী হচ্ছে না, উন্নয়ন হচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিয়ে আপনারা লিখুন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য থাকলে সেটিও তুলে ধরুন। আমার বিরুদ্ধেও যদি কিছু থাকে, তাও লিখবেন'।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, 'সাংবাদিকদের জন্য একটি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান'।

মতবিনিময় সভায় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া সংসদ সদস্যের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ মাঠে কুটিরশিল্প পণ্যের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, বিএনপি নেতা খন্দকার মো. বিল্লাল হোসেন, নাছির উদ্দিন হাজারী, আবুল মুনসুর মিশন, মো. বাহার মিয়া ও শওকত হোসেন খান সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/থিও

সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রকাশ্যে এক নারীকে পেটানোর ভিডিও ভাইরালের পর মো. শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতাকে দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকতের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এর আগে দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) নামের এক নারীকে বেদম পেটান ওই যুবদল নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

বহিষ্কৃত মো. শফিকুল ইসলাম মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন খবরের কাগজকে বলেন, 'সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এক নারীকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ইকবাল হোসেন/থিও

প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। পরবর্তীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাজেট ঘোষণার পর বাজারের অবস্থা এবং মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট। মানুষের সন্তুষ্টিতে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুশি। 

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্রীয় বাজেটের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা যেকোনো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো ক্ষমতায় আসার পর কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা সরকারের সাফল্য ও জবাবদিহির অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতে বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও এবার হয়েছে তার ব্যতিক্রম। এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত এই বাজেটকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এই বাজেটের মধ্য দিয়েই।

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, কৃষক, শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের পরিবার, নারী ও তরুণদের কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া হয়েছিল, এই দুই কর্মসূচিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা দেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তার প্রতিফলন দেখা গেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দে। শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমান। সরকারের দাবি, এই অর্থ দিয়ে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেকারত্ব হ্রাস এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছিল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। বাজেটে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার স্টার্টআপ ফান্ড, উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, আইটি পার্ক সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দিয়েছে। বাজেটে তরুণদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী দশকের অর্থনীতিকে সামনে রেখে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ এবং ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তোলাই এই বাজেটের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। 

একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, খাল পুনর্খনন, স্থানীয় বাজার উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ শহর ও গ্রামের আয়বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে, যা নির্বাচনি ইশতেহারের পূর্ণ প্রতিফলন।

বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনমুখী শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই বিএনপি তার ইশতেহারে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি টেকসই ভিত্তি পাবে বলে মনে করে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে হবে না। এটি জনগণের সামগ্রিক উন্নয়নের বাজেট। নির্বাচনের আগে বিএনপি যেসব অঙ্গীকার করেছিল, এই বাজেট সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।’

দলটির নেতারা মনে করেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থনীতির যে স্থবিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, এই বাজেট তা কাটিয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

তার মানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে তিনটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে–জনগণের কাছে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থিতিশীলতার বার্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এখন শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি বিএনপি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম বড় পরীক্ষাও। আগামী মাস ও বছরগুলোই বলে দেবে, এই বাজেট সত্যিই ‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের’ সফল যাত্রা শুরু করতে পারে কি না, নাকি এটি রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই মিছিলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতা-কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রিফাত/

দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে অপহরণের অভিযোগকে ‘নাটক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতারা।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আয়োজনে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা আড়াল করতে গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই পৌর বিএনপি এ আয়োজন করেছে।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, শ্রমিক দলের সভাপতি জামাল হোসেন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব কাওছার আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

লিটন সরকার/রিফাত/