সংস্কারের স্থায়ী সমাধানের জন্য অতিদ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহিদ ডা. মিলন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংস্কার তো চলমান প্রক্রিয়া। আমরা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। সেগুলো বিবেচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত করা হোক। দিন তারিখ ঠিক করে তো সংস্কার করা যায় না। তাই নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকতে না। তাদেরকে সসম্মানে বিদায় নিতে হলে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদায় নিতে হবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে যাতে করে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে দেশ পরিচালনা করতে পারে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছিলেন। এটি দেশে-বিদেশে অনেকের পছন্দ হয়নি। এরপর ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। এমন কি হত্যার পর তার লাশ পাহাড়ে লুকিয়ে রেখেছিল হত্যাকারীরা। তার প্রতি কী পরিমাণ ভালোবাসা ছিল সেনাবাহিনীর লাশ খুঁজে ঢাকায় এনেছিলো। তার জানাজায় কি পরিমান লোক হয়েছিল সেটা সবার জানা।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন। শহিদ জিয়া কৃষির উন্নয়নে কাজ করেছেন। অথচ যে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। সেসময় বিদেশে চাল রপ্তানি শুরু হয়। তার হাত ধরেই দেশ থেকে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। তিনি বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প তথা গার্মেন্টের প্রতিষ্ঠা করেন। বিদেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সুষ্ঠু পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন করেছিলেন।
তিনি বলেন, গণআন্দোলনের ফসল এই অন্তর্বতী সরকার। এই সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তাদেরকে যদি সম্মান নিয়ে ফিরতে হলে জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় এসেছিল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে। সেজন্যই পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছিলো। বর্তমানে তিনি বিদেশে চিকিৎসাধীন। শুধু তাই নয় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে, দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি করা হয়েছে। সবকিছুর পরও আমরা গত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। যার ফলে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মো. মেহেদী হাসান এবং যুগ্ম মহাসচিব ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালাম, ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. শহীদুর রহমান, সহসভাপতি ডা. রেজোয়ানুর রহমান সোহেল, ডা. গোলাম সারওয়ার, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. ফারুক কাশেম, দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ফখরুজ্জামান ফখরুল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. কামরুল হাসান, ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. ফারুক আহমেদ প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মো. জাহেদুল কবির জাহিদ, ডা. জাহাঙ্গীর আলম, ডা. খলিলুর রহমান, ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিন সাজিদ, ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, ডা. আরিফুজ্জামান পলাশ, ডা. বাসেদুর রহমান সোহেল, ডা. গালিব হাসান, ডা. জাওয়াদ হোসেন, ডা. এএসএম রাকিবুল ইসলাম আকাশ, ডা. সাইফুল আলম বাদশা, ডা. মাহবুব শেখসহ শতাধিক চিকিতসক ও পেশাজীবীরা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তার হাতেই আধুনিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। দেশের যা কিছু ভালো তার সঙ্গে শহীদ জিয়ার নাম জড়িত। অন্যদিকে গত কয়েক বছর দেশে গণতন্ত্র হত্যা করে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। আগামীতেও আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে এগোতে পারলে বাংলাদেশ হবে স্বৈরাচারমুক্ত। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে এটি দেশের জন্য দূরভিসন্ধি। এই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে হবে।
ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের মিলনায়তনে ড্যাব অনুষ্ঠান করতে পারছি। এটা হয়েছে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও তার জীবনকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবিলম্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সরাতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অনুপ্রবেশকারীর জায়গা ড্যাবে হবে না।
ডা. মো. মেহেদী হাসান বলেন, গত ১৭ বছরে ড্যাবের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিলো। সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে পেরেছি। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং চিকিত্সকদের যেকোনো দাবি এবং অধিকার আদায়ে ড্যাব আগামীতেও প্রয়োজনে রাজপথে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম বলেন, এখনো স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসররা রয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে দোসররা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তিনি অবিলম্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছাত্ররাজনীতি চালু করার অনুরোধ জানান।
শফিকুল ইসলাম/মেহেদী/