রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা হলসহ চারটি হল এবং শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শুরু হওয়া কর্মসূচি রাত সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বোহা চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।
নামফলক ভাঙচুর করা অন্য দুটি হল হলো বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ও নির্মানাধীন এ এইচ এম কামারুজ্জামান হল।
কর্মসূচিতে 'ফাসি ফাসি ফাসি চাই, খুনি হাসিনার ফাসি চাই', 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ, মুজিববাদ মুর্দাবাদ', 'জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো', 'আমার সোনার বাংলায়, ছাত্রলীগের ঠায় নাই'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় আন্দোলনকারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাত ৯টা বাজতেই দলে দলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে উপস্থিত হয়। পরে তারা হলটির নামফলক, উদ্ভোধনী ফলকসহ শেখ মুজিবের চিহ্ন সম্বলিত স্থাপনাগুলো রড, হাতুড়ি, কোদাল দিয়ে ভেঙে দেয়। এ সময় তারা হলটির নতুন নাম 'বিজয় ২৪' রাখেন।
পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে তারা নির্মানাধীন এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলেরও নামফলক ভেঙে ফেলে নতুন নাম দেয় 'শহীদ সাকিব-রায়হান হল'।
এভাবে পর্যায়ক্রমে শেখ হাসিনা হলের নাম ভাঙচুর করে ফাতেমা আল-ফিহরিয়া ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী দেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নামফলকও ভাঙচুর করে নাম দেয় 'রিয়াগোপ মডেল স্কুল'।
এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, 'নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও তার চিহ্নের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না। ফ্যাসিবাদের এ সকল চিহ্ন মুছে দিতে আজকে আমাদের এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।'
কর্মসূচির বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবি সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন, আমার ভাইদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ শুকানোর আগেই খুনি হাসিনা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপ্লবী শিক্ষার্থীরা খুনি হাসিনার সাংস্কৃতিক বিচরণ মুছে ফেলতেই এ কর্মসূচি পালন করলাম।
সুমন/মেহেদী