জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাফিয়াদের দমাতে যৌথবাহিনী নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাস্তায় টহল দিচ্ছে। তার পরও আমরা দেখছি খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হচ্ছে। অথচ এই কথাটা মনে করিয়ে দিতে চাই। ৫,৬,৭,৮ এই চারটি দিন আমরা কিভাবে পরিস্থিতি ধরে রেখেছিলাম। সেসময় চুরি, ডাকাতি হয়নি। আমাদের মধ্যে আল্লাহ কি তার রহমতের ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন? আল্লাহ কি আমাদের আবাবিল পাখি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন? চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাফিয়াদের দমাতে যৌথবাহিনী নামানো দরকার। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো সভা সমাবেশে চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় না দেওয়ার কথা বললেও পুলিশ প্রশাসন যখন কোনো চাঁদাবাজকে ধরে নিয়ে যায় তখন দলীয় নেতা-কর্মীরা থানা ঘেরাও করে তাদের ছাড়িয়ে আনার ঘটনা দেখছি।’
রবিবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গণ-অভ্যূত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রসংস্কার শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভিপি নুর বলেন, ‘কোনো আন্দোলন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ছাড়া সফল হয় না। জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন সাংবাদিক, শিল্পী, আইনজীবী, শিক্ষকসহ পেশাজীবীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সফল হয়েছে। একটি রাষ্ট্র সংস্কার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এই আন্দোলন। নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের আলোচনার মাধ্যমেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ৫ আগস্টের পর এই যে একটা রাজনৈতিক ঐক্য সামাজিক ঐক্যে পরিণত হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্য থাকলে আমাদের দেশে জাতিগত বিভেদ থাকবে না। আমাদের আদর্শিক রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকতে পারে। সেই আদর্শ প্রচারের মানদণ্ড থাকা উচিত। একটি রাজনৈতিক দল আরেকটি রাজনৈতিক দলকে যে ভাষায় সমালোচনা করি, তা বিভাজন বাড়িয়ে দেয়। রাজনৈতিক কর্মীদের খুবই দায়িত্বশীল থাকা দরকার।’
নুর বলেন, একসময় বলেছিলাম, মুজিব কোট গুলিস্তানে কেনা বা বেচার লোক থাকবে না। এখন কিন্তু নেই।
শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে দিতে পারব না। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে শুরু করে ইতিহাস লিখতে হলে তার নাম থাকবে। শাসক হিসেবে তার বির্তকিত ভুমিকা আছে। তার শাসনামলে মানুষের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন, বাকশালের ইতিহাস আছে। সমালোচনা আছে। প্রত্যেক মানুষের উত্থান-পতন, ভালো-মন্দ আছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। শেখ মুজিবুর রহমানও বিক্ষুব্ধ জনতার রোষাণলের কারণে আর্মি অফিসারদের হাতে নিহত হয়েছেন। হাসিনার শাসনামলের শোষন থেকে আমরা অনুভব করতে পারি ওই সময়ে কিরকম দুঃশাসন ছিল। হাসিনার উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। তিনি বলেছিলেন, হাসিনা পালায় না। বাস্তবতা হলো তিনি পালিয়েছেন। গত এক বছরে সারাদেশে তারা একটি মিছিল পর্যন্ত করতে পারেনি। মানুষের এই গণপ্রতিরোধে যারা আওয়ামী লীগ করেছে তারা তওবা করে আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নামে ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না।’
নুর বলেন, ‘দেশের শিল্প এলাকাকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের আধিপত্য বেড়ে গেছে। যৌথবাহিনী সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করলে, আমরা ধারণা এ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত যৌথবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে।’
ভিপি নুর বলেন, ‘বর্তমানে সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নেই। তাদের কাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা করছে। ইউএনওকে অমুক দল গিয়ে এদিকে টানে, তমুক দল গিয়ে ওদিকে টানে। প্রভাব দেখাচ্ছে- আমরা গণ-অভ্যুত্থানের লোক। আজ নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই বলেই এসব হচ্ছে। সেখানে যদি একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতো, ইউএনও তার সহযোগিতা নিয়ে কাজগুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারতো। তাই আমরা বলছিলাম- জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন দেওয়ার জন্য। নির্বাচনের একটি পরিবেশ তৈরির জন্যও স্থানীয় নির্বাচন হতে পারে।’
নুর বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা অনেক সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছে, অনেক সহনশীল ছিল। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়লে ৫ লাখ লোকের লাশ পড়বে। ৫০০ লোকেরও লাশ পড়েনি। মানুষ তো সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এজন্য ছাত্র-জনতাকে ধন্যবাদ দিতে হয়।’
অমিয়/