সাতদিন সময় চাইলেও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে শোকজের জবাব দিতে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে। ইতোমধ্যে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের চারহাজারের বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি।
এর আগে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ফজলুর রহমানকে শোকজ করে বিএনপি।
কারণ দর্শানোর নোটিশে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময় বাড়িয়েছে দলটি।
সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না দিলে কিংবা জবাব সন্তোষজনক না হলে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শোকজে বলা হয়, ‘আপনি জুলাই-আগস্ট ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং আত্মদানকারী শহিদদের নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি। মহিমান্বিত এই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আপনার বক্তব্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রয়াস বলে অনেকেই মনে করে। এমনকি আপনি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দিয়ে কথা বলছেন।’
এতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপির সাড়ে চারশোর অধিক নেতা-কর্মীসহ ছাত্র-জনতার প্রায় দেড় হাজারের অধিক মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং ত্রিশ হাজারেরও অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এ ধরনের বীরোচিত ভূমিকাকে আপনি প্রতিনিয়ত অপমান ও অমর্যাদা করছেন। সুতরাং এ ধরনের উদ্ভট ও শৃঙ্খলাপরিপন্থি বক্তব্যের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ কারণ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।’
শফিকুল/মেহেদী/