মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত মুক্তারপুর সেতু অবরোধ করে রেখেছেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শত শত নেতা-কর্মী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মুক্তারপুর সেতু অবরোধ করে। এরপর বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবরোধ চলমান রাখার পর জনসাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সেটি তুলে নেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
অবরোধের কারণে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে দেড় ঘণ্টা ধরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে এবং এতে থাকা অসংখ্য যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির মহাসচিব ঘোষিত তালিকার ৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তালিকায় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনকে প্রার্থী ঘোষণার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুক্তারপুর সেতু অবরোধ করে নেতা-কর্মীরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলমান ছিল।
নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। তারা ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন এবং শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ক্ষোভে রাজপথে নেমে আসেন সদর আসনের শত শত তৃণমূল বিএনপি নেতা-কর্মী। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর এলাকায় জড়ো হন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. মহিউদ্দিনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মুক্তারপুর-মুন্সীগঞ্জ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর থানারপুল এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমবেত হন নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা ঘোষিত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পরবর্তীতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অঙ্কুরিত মুক্তিযুদ্ধ-৭১ ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে নেতা-কর্মীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষিত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের মনোনয়ন বাতিল করে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জোর দাবি জানান। তারা ঘোষণা দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুক্তারপুর সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কেও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সুমন/রিফাত/