জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাপ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি তৈরি করছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের দেশের জ্বালানি মজুদে। ফলে দেশবাসীর পাশাপশি গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে দুর্যোগপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশের কোথাও যেন জ্বালানি পাচার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, ‘সাম্প্রতিক ইঙ্গ-মার্কিন ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানিসংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। পরবর্তী দিনগুলোতে বিশ্ব পরিস্থিতি অনুরূপ থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করতে হবে।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য মানুষের যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও হৃদয়বিদারক। রোজা রেখে অনেক মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, কারও কারও গাড়ির তেল একেবারে ফুরিয়ে গেছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। অন্যথায় এই সংকট শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ শিল্পকারখানায়ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। যা খুবই উদ্বেগজনক। সামনেই ঈদের যাত্রা শুরু হবে এই পরিস্থিতির জ্বালানি তেলের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে মানুষের ঈদযাত্রা আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়তে বাধ্য।’
তারা আরও বলেন, ‘চলমান সংকটময় মুহুর্তে জ্বালানি তেল নিয়ে যাতে করে নতুন কোনো সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে, সে লক্ষ্যে সরকারকে অবশ্যই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ এই মুহূর্তে দেশের কোথাও যেন জ্বালানি পাচার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মজুদদারি ও চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে দ্রুততম সময়ে গুরুত্ব দিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
অমিয়/