কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে ছয় মাস আগে রাজশাহী মহানগর শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। অথচ এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এতে মহানগরের ছাত্ররাজনীতিতে তৈরি হয়েছে অপেক্ষা, জল্পনা-কল্পনা ও অভ্যন্তরীণ তৎপরতা। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নেতারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ, লবিং এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী-২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা তখন জানান, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের জুন মাসে আকবর আলী জ্যাকিকে সভাপতি ও খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর তিন মাস পর সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
আরও জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় রয়েছে ৮টি থানা ও ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিট। কমিটি বিলুপ্তির সময় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সে ঘোষণা আসেনি। ফলে মহানগরজুড়ে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে কয়েকজন নেতা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরিকল্পনার বিষয়গুলো সামনে এনে নেতৃত্বের যোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা।
মহানগরের বিভিন্ন থানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক গতিশীলতা কমে গেছে। তাদের মতে, দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও সক্রিয় কমিটি গঠন করা হলে মহানগর ছাত্রদল আবারও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাকিন রায়হান রবিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। প্রতিকূল সময় ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দায়িত্ব পেলে শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার কথা জানান তিনি।
রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি শক্তিশালী, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের মাধ্যমে মহানগর ছাত্রদল আরও সুসংগঠিত হবে–এটাই সবার প্রত্যাশা। যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন, তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আসা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রানিং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেন।
বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম সানী নিজেকে মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দায়িত্ব পেলে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার পক্ষে কাজ করবেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন জানান, দল তার ত্যাগ ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন করলে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চান। বিশেষ করে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ফি-সংক্রান্ত অসন্তোষ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সাব্বির আহমেদ অন্তর বলেন, ২০১৩ সালের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিকূল সময়গুলোতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এখন ক্যাডারনির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে ‘স্মার্ট ছাত্ররাজনীতি’ প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থীদের বাস্তব চাহিদা ও মনস্তত্ত্ব বিবেচনায় মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা হবে। ফলে দায়িত্ব পেলে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব।