আমাদের দেশে ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া অন্যতম প্রধান সমস্যা। মূলত ব্যবহারকারীর অসতর্কতার কারণেই তাদের আইডি হ্যাক হয়ে থাকে। হ্যাকিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোনো ডিভাইসে বা নেটওয়ার্কে অননুমোদিত প্রবেশ করা। হ্যাকিং, ব্লাকমেলিং, পর্ণোগ্রাফি, অনলাইন জুয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন বিপদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে ভুয়া আইডি খুলে কিংবা এসব সাইটের মাধ্যমে কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওই ব্যক্তির পরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিপদের কথাসহ সমস্যার বিষয়ে তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরণ করে বিভিন্নভাবে অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানুষের সরল মনে বিশ্বাস জন্মিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে নিচ্ছে। এতে উভয়পক্ষ আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে হ্যাকাররা। এটা সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই হঠাৎ করে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাকা চাইলে তা যথার্থ যাচাই করে ফোনে ওই ব্যক্তিকে অবগত করে আর্থিক লেনদেন করবেন।
যে কেউ সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে দ্রুত থানায় অভিযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা শাখা এবং কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এ অপরাধগুলো তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। ব্যবহারকারীর উচিত সাইটগুলোতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, বিভিন্ন আইডির জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য বিশেষ করে মেসেঞ্জারে শেয়ার না করা, কোনো প্রকার ফিশিং লিংক কিংবা থার্ড পার্টি অ্যাপস ব্যবহার না করা, ওটিপি, পিন কোড কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, সাইবার ক্রাইম টিম/ থানায় অবগত করা ইত্যাদি। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট মহলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করত হবে।
মো. আ. আল ফয়সাল মিয়া
শিক্ষার্থী, দিনাজপুর ল কলেজ
বাহালিপাড়া, সদর, নীলফামারী
[email protected]