নারী ও শিশু নির্যাতন আজকের সমাজে এক তীব্র উদ্বেগের বিষয়। এই সহিংসতা কেবল ভুক্তভোগীদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করে না, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও চরমভাবে বাধা সৃষ্টি করে। এটি একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন। প্রথমত, শিশুকাল থেকেই পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েনির্বিশেষে সমমর্যাদা ও সম্মানের শিক্ষা দিতে হবে। কোনো অবস্থায়ই যেন নির্যাতনকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান আইনগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নির্যাতক যেই হোক না কেন, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধীরা বারবার একই কাজ করার সাহস পাবে। তৃতীয়ত, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় এবং মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। তাদের সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে এ বিষয়ে নিরন্তর প্রচার চালাতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ অপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করা। সম্মিলিত উদ্যোগে এ অন্ধকার দূর করা সম্ভব।
ওসমান গনি
সাংবাদিক; চান্দিনা, কুমিল্লা
[email protected]