একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষিত, দক্ষ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। শুধু বইপুস্তকের জ্ঞান মানুষকে কর্মক্ষম করে না, বরং জীবনের বাস্তব প্রয়োগযোগ্য দক্ষতা অর্জনই মানুষকে উৎপাদনশীল করে তোলে। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে কর্মমুখী শিক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কর্মমুখী শিক্ষা হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট পেশা বা কাজের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে সে শিক্ষা শেষে জীবিকা অর্জনের যোগ্যতা লাভ করে এবং স্বাবলম্বী হতে পারে। এটি কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাস্তব দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটায়। একটি দেশের উন্নয়নে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়ন সে দেশের অর্থনীতি ও দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভর করে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হলে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। কর্মমুখী শিক্ষা একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের স্বনির্ভর হতে শেখায়, ফলে তারা চাকরির ওপর নির্ভর না করে উদ্যোক্তা হয় এবং দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয়, ফলে বেকারত্ব দূর হয়। অন্যদিকে এটি দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করে।
তাই বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র বৃদ্ধি, এবং শিক্ষার সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের যোগসূত্র স্থাপন এখন সময়ের দাবি। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারই একটি স্বনির্ভর, দক্ষ ও উন্নত বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করবে।
তাকবির জাহান
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]