ফেসবুক খুললেই প্রায়ই চোখে পড়ে সিলেট-জকিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ। সিলেট-জকিগঞ্জে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। দেশের প্রান্তসীমায় অবস্থিত আমার জন্মমাটি জকিগঞ্জ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতিতে ভরপুর এ জনপদের সড়কগুলো আজ যেন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরেই জকিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ তালিকায় শিশু, যুবক, বৃদ্ধ, নারী কেউই বাদ নেই। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে দুর্ঘটনা রোধে এখনই কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দ্রুত সংস্কার ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। স্থানীয় রাস্তাগুলোর গর্ত ও খাদ মেরামত, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং অতিরিক্ত গতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অপরিণত বয়সের ও অদক্ষ চালকদের ড্রাইভিং বন্ধ করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন ও নিয়মভঙ্গকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যারা মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে সেসব ঘাতক চালকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ঘাতকদের শাস্তি ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা ও যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের মার্জিত, দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও দরকার। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং এসব দাবি বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শ্রমিক নেতা, বাস মালিক সমিতি সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্ত কাম্য।
আবীর আল নাহিয়ান
শিক্ষার্থী, মুরারিচাঁদ কলেজ, সিলেট
[email protected]