মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া। যিনি নিজের জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন বাংলার নারীশিক্ষার দিগন্ত উন্মোচনে। তাকে বলা হয় নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি একজন সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক। তিনি নারীমুক্তি ও নারী অধিকার আদায়ে আজীবন লড়াই করে গেছেন। তিনি যে সময় জন্মগ্রহণ করেন, সে সময় নারীরা শিক্ষার আলো দেখতে পেত না। বিশেষত মুসলিম নারীরা। নারীরা নিরক্ষর হয়েই থেকে যেত। সমাজে কোনো কাজে তারা আসত না। এমন একটা কঠিন সময়ে জন্মগ্রহণ করে বেগম রোকেয়া। পরে তিনি ভাই ও স্বামীর সহায়তায় শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন এবং উপলব্ধি করেন যে, নারীমুক্তির একমাত্র পথ হলো শিক্ষা। এজন্য তিনি সর্বপ্রথম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। যেই স্কুলে আজও পাঠদান চলছে। এমনকি মুসলিম মেয়েদের পাঠদানে উৎসাহিত করতে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানসিকতা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। তিনি সুলতানার স্বপ্ন নামক একটি বই লিখেছেন যেখানে একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে, যার নেতৃত্বে নারীরা। নারীর সামাজিক বঞ্চনা ও মুক্তির ধারণা নিয়ে লিখেছেন মতিচূড়। তিনি ১৯১৬ সালে মহিলা সমিতি গঠন করেন। যেই মানুষের কারণে আজ নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যার কারণে নারীরা আজ উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর পথ দেখতে পারছে, সেই বেগম রোকেয়াকে গালমন্দ করাটা কতটা সমীচীন? এত বড় একজন মহীয়সী নারীকে এভাবে গালমন্দ করাটা দেশের কোন অশনিসংকেত দেখা দিচ্ছে? এটাও প্রশ্ন। তাহলে কি আবারও ধীরে ধীরে নারীদের পেছনে ফেলা হবে?
মো. তাসনিম হক রাফি
শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]