বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা অপরিহার্য শর্ত। প্রশাসন যদি দলীয় প্রভাব বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করে তাহলে গণতন্ত্র কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। গত ১৬ বছরে আমার দেখেছি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রশাসন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বে জড়িয়ে ছিল। গণতন্ত্র নামমাত্র কাঠামোয় পরিণত হয়েছিল আর জনগণ রাষ্ট্রীয় সেবা পেতে হয়রানির শিকার হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর থেকে এযাবৎ পর্যন্ত নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয়নি। এখনো প্রশাসনের পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দেশের অনেক জটিল সমস্যাও তারা ‘তদন্ত চলছে’ বিবৃতি দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরের হাদি হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে বিলম্ব করছে। নির্বাচনের সময় প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ নিয়ে বিতর্ক প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্যে আনা জরুরি। আসলে তাদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি কিংবা অন্য কোনো সিদ্ধান্তের জন্য রাজনৈতিক দলের আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। বর্তমানে দেশের কর্মকর্তারা আইনের চেয়ে ক্ষমতাসীনদের প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি। এ রীতি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে সাংবিধানিক নীতিমালার বাইরে সিদ্ধান্ত নেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পেশাগত নৈতিকতা ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। ঘুষ গ্রহণ থেকে কর্মকর্তাদের বিরত থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নতুন বছর ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের একটাই দাবি প্রশাসন যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে না ওঠে।
লোটাস জাহাঙ্গীর
শেরেবাংলা হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]