একটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার তরুণ প্রজন্ম, যাদের কাঁধে ভর করে গড়ে ওঠে আগামীর সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের সেই সোনালি ভবিষ্যৎ মাদক ও কিশোর গ্যাং কালচারের কালো ছায়ায় ঢাকা পড়ছে। মাদকাসক্তি কেবল একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যই ধ্বংস করছে না, বরং একটি সাজানো পরিবার ও সমাজকেও তছনছ করে দিচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়েই মূলত কিশোররা অপরাধের অন্ধকার জগতে পা রাখছে। পাড়ামহল্লায় রাজনৈতিক বড় ভাইদের প্রশ্রয় এবং সুস্থ বিনোদনের অভাবে গড়ে উঠছে ‘কিশোর গ্যাং’, যারা তুচ্ছ কারণে খুনোখুনি, ছিনতাই ও ইভ টিজিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং মেধাশূন্য এক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সৃষ্টি হবে। যে বয়সে কিশোরদের হাতে বই কিংবা খেলার সরঞ্জাম থাকার কথা, সেই বয়সে অস্ত্র বা মাদকের উপস্থিতি জাতির জন্য অশনিসংকেত। এ ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন। প্রতিটি মা-বাবাকে তাদের সন্তানের সঙ্গ ও আচরণের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে। সময় থাকতেই যদি আমরা আমাদের সন্তানদের আলোর পথে না ফেরাই, তবে এক অন্ধকার ও নিরাপত্তাহীন ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]