একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো উন্নত ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু বর্তমানে আমাদের স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতার অভাব এবং রোগীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে শহরের বিলাসবহুল বেসরকারি ক্লিনিক- সবখানেই রোগীরা কোনো না কোনোভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
রোগীর প্রাথমিক অধিকার হলো সঠিক রোগ নির্ণয়, সময়মতো চিকিৎসা এবং চিকিৎসার ব্যয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া। অথচ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ওষুধের দীর্ঘ তালিকা ধরিয়ে দিয়ে রোগীদের আর্থিক সংকটে ফেলা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য আর শয্যা সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম সেবাটুকু পেতেও হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি পর্যায়ে সেবার নামে যে ‘গলাকাটা’ ফি আদায় করা হয়, তার ওপর যথাযথ তদারকি বা কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।
স্বাস্থ্য খাতে এ নৈরাজ্য বন্ধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রতিটি হাসপাতালে সেবার মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখা এবং চিকিৎসায় অবহেলার ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কমিশন বাণিজ্য বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবা কোনো করুণা নয়, বরং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার রক্ষায় নীতিনির্ধারক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি আস্থাশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]