ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়
Nagad desktop

ইসলামি বইয়ের জাগরণে দরকার প্রতিটি শহরে সম্মিলিত বিক্রয়কেন্দ্র ও পাঠাগার

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম
আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৫৮ পিএম
ইসলামি বইয়ের জাগরণে দরকার প্রতিটি শহরে সম্মিলিত বিক্রয়কেন্দ্র ও পাঠাগার
মাকতাবাতুল আশরাফের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খানের ছবি ও পরিচিতি। সংগৃহীত

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান—মাকতাবাতুল আশরাফের স্বত্বাধিকারী। ঢাকার নবাবগঞ্জে বাড়ি, জন্ম ১৯৬৮ সালে। পড়াশোনার হাতেখড়ি কামরাঙ্গীরচরের মাদরাসা-ই-নূরিয়ায়। পাকিস্তানের জামিয়া ফারুকিয়া করাচি থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) এবং উচ্চতর আইন গবেষণা পড়েছেন। আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে পড়েছেন দারুল উলুম করাচি থেকে। তার প্রকাশক হওয়ার গল্প, কোন ধরনের বই প্রকাশে তিনি আগ্রহী, মানসম্মত বই প্রকাশ, ইসলামি বইয়ের জাগরণের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তরুণ-লেখক প্রকাশক সম্পর্কে তার ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ

খবরের কাগজ: আপনি প্রকাশক হলেন কেন? 

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান: লেখালেখি শুরু করি হেফজখানায় পড়ার সময়। তখন ১৯৭৮ সাল। হাফেজ্জি হুজুর (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত নূরিয়া মাদরাসায় পড়ি। সে সময় মাদরাসা থেকে ‘আল-আশরাফ’ নামে একটি দেওয়ালিকা বের হতো। সেখানে লিখেছি। পরে দেওয়ালিকাটি ম্যাগাজিন আকারে প্রকাশ হয়েছিল। সেখানেও আমার লেখা ছিল। ১৯৮২ সালে লালবাগ মাদরাসায় ভর্তি হই। লালবাগ মাদরাসার কাছেই ছিল দৈনিক আজাদ পত্রিকার অফিস। আজাদ সে সময়ের নামিদামি পত্রিকা। শিশু-কিশোরদের জন্য বের হতো মুকুলের মাহফিল; সেখানে শুরুতে কবিতা-গল্প লিখেছি। পরে সিরাত-বিষয়ে পত্রিকাটির উপসম্পাদকীয় পাতায় লিখেছি। আমার লেখা দেখে শিক্ষকরা খুশি হয়েছিলেন। দোয়া দিয়েছিলেন। করাচিতে পড়াকালে দৈনিক ইনকিলাবে নিয়মিত লিখতাম। বেশ ভালো সম্মানী পেয়েছিলাম।
শাইখুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানির দুটি বইয়ের অনুবাদ করলাম সে সময়। বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত আলেম প্রকাশক খুব আগ্রহের সঙ্গে নিলেন। তিনি তার সফরে সেটি সঙ্গে রাখলেন, পড়লেনও। এক-দেড় মাস পর পাণ্ডুলিপিটি এক প্রকার নষ্ট করে আমাকে ফেরত দিলেন। ব্যাপারটি আমার পরিবারের লোকজন জানলেন। বিশেষ করে মেজোভাই— তার প্রেস ও কাগজের ব্যবসা ছিল। তিনি বললেন, তুমিই ছাপো। ছাপলাম। বই আকারে প্রকাশ পেল আপন ঘর বাঁচান ও মুমিন-মুনাফিক। আল্লাহতায়ালা আমাকে কুদরতিভাবে প্রকাশক বানিয়ে দিলেন। সেই প্রকাশকের উপেক্ষা ও অবহেলা আমাকে প্রকাশক হতে কিছুটা বাধ্য করেছে। সেই ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে মাকতাবাতুল আশরাফ- এ পর্যন্ত তিন শতাধিক বই প্রকাশ করেছে। ১০ থেকে ১৫ খণ্ডে বইও আছে আমাদের।  

খবরের কাগজ: আপনার প্রকাশনী সম্পর্কে কিছু বলুন। কী ধরনের বই প্রকাশে আপনারা আগ্রহী? 

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান: আমি আলেম প্রকাশক। শিক্ষা ও শিক্ষকতার বয়স প্রায় পঞ্চাশ পেরিয়েছি। আমরা একনিষ্ঠতার সঙ্গে দ্বীনি বই প্রকাশ করি। বিশেষ করে তাফসির, হাদিস ও সিরাত। মানুষের আত্মশুদ্ধিমূলক বইপত্রও প্রকাশ করি। হাকিমুল উম্মাত মাওলানা আশরাফ আলি থানভি (রহ.) এক বিস্ময়কর মানুষ— ছেলেবেলা থেকে আমি তার লেখার ভক্ত। তার নামে আমার প্রকাশনীর নাম। থানভি (রহ.), মুফতি মুহাম্মাদ শফি (রহ.), সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.), মনজুর নুমানি (রহ.) ও শাইখুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানিসহ এই ধরনের বুজুর্গ ব্যক্তিদের বই আমরা প্রকাশ করি। আমাদের একটি সেরা কাজ হলো— রিয়াজুস সালেহিনের অনুবাদ। হাদিসের কিতাব হিসেবে সারা বিশ্বে এর কদর রয়েছে। ৯ খণ্ডে অর্ধেক প্রকাশিত হয়েছে এর মধ্যে আরও ছয়-সাত খণ্ড প্রকাশিত হবে। এটি বাংলা ভাষায় যুগান্তকারী একটি কাজ হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাদের এখন বড় প্রজেক্ট হলো, মালফুজাতে হাকিমুল উম্মত— এটি ৩২ খণ্ড। এর প্রথম খণ্ড গেল সপ্তাহে ছেপে এসেছে। অমর একুশে বইমেলায় আরেকটি খণ্ড প্রকাশিত হবে। 

খবরের কাগজ: মানসম্মত বই প্রকাশে আপনাদের ভূমিকা কেমন?

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান: বাংলাবাজারে ইসলামি প্রকাশনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা তো স্বীকার করেনই; এমনকি অন্যরাও স্বীকার করেন, মাকতাবাতুল আশরাফ অফসেট পেপারে উন্নত বাইন্ডিং রুচিশীল প্রচ্ছদে মানসম্মত বই প্রকাশে সেরা। আমার প্রথম অনুবাদ দুটি প্রকাশ করে যখন আমার হেফজের শিক্ষক লেখালেখির গুরু হাফেজ খালেদ সাহেবের কাছে নিয়ে গেলাম, কভার দেখে তিনি বললেন, এ তো হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের কভারের মতো হয়েছে। প্রথমে বোর্ড দিয়ে বাঁধাই করে তার ওপর জ্যাকেট লাগানোর প্রচলন, ইসলামি বই অফসেট পেপারে ছাপা, দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ এবং উন্নত বাইন্ডিং আমাদের মাধ্যমেই হয়েছে। এর আগে অবশ্য দারুল কিতাবের মালিক মুফতি মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ সাহেব রুচিশীল বই প্রকাশে ভালো ভূমিকা রেখেছিলেন। আমার সামর্থ্য থাকলে কোরআন-হাদিসের বই সোনা-রুপা দিয়ে ছাপতাম।

খবরের কাগজ: ইসলামি বইয়ের জাগরণের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান: প্রকাশনাজগতে সবচেয়ে বড় সমিতি হলো, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস)। এটা সব ধরনের প্রকাশকদের অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু ইসলামি প্রকাশকদের শক্তিশালী সংগঠন নেই। বাংলাবাজারে কয়েকটি সংগঠন আছে, কিন্তু সেগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সাংগঠিনক কাঠামোতে তেমন সরব নয়। আমাদের একটি শক্তিশালী সংগঠন হওয়া দরকার। লেখক ও সম্পাদকদের অধিকারে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। লেনদেন অনেকে খারাপ করে। অভিযোগও আসে এ নিয়ে। নিয়ম-কানুন থাকলে সুন্দরভাবে সবকিছু সম্পন্ন করা যাবে। 
প্রত্যেক শহরে যদি প্রকাশকরা মিলে সম্মিলিত বিক্রয়কেন্দ্র করতে পারেন, যেখানে সব প্রকাশনীর বই থাকবে; তা হলে বেশ ভালো ব্যাপার হবে। একাকী মার্কেটিং করার চেয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করলে ফলপ্রসূ হবে। বিভিন্ন জায়গায় পাঠাগার করা যেতে পারে। ইসলামি বক্তারাও বই পড়া নিয়ে মানুষদের উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। 

খবরের কাগজ: তরুণ লেখক-প্রকাশকদের জন্য আপনার অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান: লেখা ও প্রকাশনা—দুটিই সাধনার বিষয়। সুন্দর সাজানো জিনিস জাতিকে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করা যাবে না। লেখক ও অনুবাদক হতে হলে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। পরিশ্রম করতে হয়। নিজের লেখা বারবার নিজেকে সম্পাদনা করতে হয়। অভিজ্ঞ লেখক বা সম্পাদকের মাধ্যমে সম্পাদনা করাতে পারলে দিনশেষে একটা ভালো বইয়ের জন্ম হয়। প্রকাশকদেরও মনে রাখতে হবে, পাণ্ডুলিপি পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ছাপানো যাবে না। তাড়াহুড়া করা যাবে না। দায়িত্ব নিয়ে ভেবেচিন্তে খেটে সম্পাদনা করে যুৎসই অঙ্গসজ্জা দিয়ে ছাপাতে হবে। লেখদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে হবে। তাদের সম্মানী যথাসময়ে বুঝিয়ে দিতে হবে। তরুণ লেখক ও প্রকাশদের বলব, এই জায়গায় ধীরেসুস্থে এগিয়ে যেতে হবে। তাড়াহুড়া করা যাবে না। একটি বই একাধিক প্রকাশনী থেকে অনুবাদ করার ব্যাপারটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কোনো বইয়ের চাহিদা থাকলেই সেটি সব প্রকাশনীর অনুবাদ করে প্রকাশ করা উচিত নয়। অন্যের হক নষ্ট করে কাজ করা যাবে না। 

খবরের কাগজ: লেখক-প্রকাশকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান: লেখক মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে একটি বই তৈরি করেন। প্রকাশক সাধ্যমতো সুন্দর মোড়কে বাজারজাত করেন। লেখকের হক এবং সম্মানী যদি যথাযথ দেওয়া না হয়, তা হলে লেখকের হক নষ্ট করা হয়। তাকে অসম্মানিত করা হয়। অনেক প্রকাশক আছেন, লেখকদের থেকে টাকা নিয়ে বই ছাপেন। এটি খুবই বিশ্রী ব্যাপার। বই প্রকাশ হলেই লেখকদের যথাযথ সম্মানটা জানাতে হবে। লেখক-প্রকাশকের চুক্তিটা লিখিত হতে হবে; এটি কোরআনের নির্দেশ। 

৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুন ২০২৬, সোমবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?
ছবি: সংগৃহীত

নিঝুম রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর পর আমরা যে স্বপ্নের মুখোমুখি হই, তা কেবলই কি মনের কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো মহাজাগতিক ইশারা? ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির একটি গভীর ও স্বতন্ত্র জ্ঞান। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রামাণিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.)। তার কালজয়ী গ্রন্থ তাফসিরুল আহলাম-এ ঘুমের ঘোরে গান শোনা বা গান গাওয়ার এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রতীকী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সমসাময়িক মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন এক চিন্তার খোরাক জোগায়।

ঘুমের মধ্যে যদি আপনি কোনো পরিচ্ছন্ন, অশ্লীলতাহীন এবং গভীর অর্থবহ গান বা গজল শুনতে পান, তবে তা কিন্তু ভয়ের কিছু নয়। ইবনে সীরীন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত স্বপ্নদ্রষ্টার বাস্তব জীবনে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। এটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আকস্মিক উন্নতি এবং আর্থিক সমৃদ্ধি লাভের একটি শুভ ইঙ্গিত। এমনকি কোনো কোনো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন স্বপ্নের গায়কের মাঝে ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম, জ্ঞানীগুণী, দূরদর্শী বিচারপতি কিংবা সফল মন্ত্রী হওয়ার মতো সুপ্ত গুণাবলি লুকিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

কিন্তু সব সুর তো শুভ বার্তা বয়ে আনে না; যদি স্বপ্নে শোনা গানটি হয় সস্তা, অশ্লীল কিংবা মন্দ কথার, তবে তা ভবিষ্যতের এক বড় সতর্কবার্তা। ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন মূলত বাস্তব জীবনে লোকসান বা বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। কোনো ধনাঢ্য বা সম্পদশালী ব্যক্তি যদি নিজেকে লোকালয় বা বাজারে বসে এমন গান শুনতে দেখে, তবে বুঝতে হবে তার জীবনে কোনো নৈতিক স্খলন বা মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখলে তা তার মানসিক চাপ বা জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

আপনি কি স্বপ্নে নিজেকেই গলা ছেড়ে গান গাইতে দেখছেন? ইসলামি স্বপ্নের বিজ্ঞানে এটিকে বেশ নেতিবাচক ও আশঙ্কাজনক চোখেই দেখা হয়েছে। এই তাবীর অনুযায়ী, স্বপ্নে নিজে গান গাইলে বাস্তব জীবনে তার শত্রু-মিত্র সবাই তাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার বা ত্যাগ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া, তাত্ত্বিকগণ মনে করেন গান মূলত মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও ফাসাদের উন্মেষ ঘটায়; কারণ বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টির শুরুতে অভিশপ্ত ইবলিসই সর্বপ্রথম গান ও আর্তনাদ করেছিল। তাই স্বপ্নে নিজে গান গাওয়াকে পারিবারিক বা সামাজিক অশান্তির কারণ হিশেবে চিহ্নিত করা হয়।ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, স্বপ্ন মূলত তিন ধরনের, আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের কুমন্ত্রণা অথবা মানুষের নিজের মনের অবদমিত কল্পনা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি কল্পনা করুন, মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা নিজে এবং তাঁর অগণিত ফেরেশতা চব্বিশ ঘণ্টা একটি বিশেষ কাজে নিয়োজিত আছেন! কাজটি কী? সেটি হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাত পেশ করা। যে কাজের সাথে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা যুক্ত, সেই কাজে শামিল হওয়া মুমিনদের জন্য কত বড় সৌভাগ্য! নবিজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা কেবল একটি সাধারণ আমল নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর আদেশ এবং কিয়ামতের কঠিন দিনে নবিজির সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র রাজপথ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আহযাবের একটি আয়াত মুমিনের হৃদয়ে নবিপ্রেমের জোয়ার তোলে। যেখানে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রতি সরাসরি নির্দেশ জারি করে বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি সালাত (দরুদ) পেশ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।(সুরা আহজাব, ৫৬)। আমরা যখন কারও জন্য দোয়া করি, তখন আমাদের নিজেদের কোনো লাভ হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ার সমীকরণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং লাভজনক।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আ’স (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বা দরুদ বর্ষণ করবেন। (মুসলিম, ৩৮৪; সুনানে নাসায়ী, ৬৭৮)। আপনি যখন দুনিয়ার কোনো মানুষের প্রশংসা বা উপকার করেন, তখন স্রষ্টা আপনাকে সরাসরি ১০ বার পুরস্কৃত করেন না। কিন্তু নবিজির প্রতি ১ বার দরুদ পাঠ করলে মহাবিশ্বের মালিক আপনার ওপর ১০ বার বিশেষ দয়া ও শান্তি বর্ষণ করেন। এটি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক ইনভেস্টমেন্ট!

কিয়ামতের দিন যখন কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে চারদিকে হাহাকার থাকবে, তখন কার পাশে দাঁড়াতে চাইবেন আপনি? সেই চরম বিপদের মুহূর্তে নবিজির সবচেয়ে কাছে থাকার সূত্রটি অত্যন্ত সহজ। হযরত ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব মানুষের চেয়ে আমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী (কাছাকাছি) হবে, যে তাদের মধ্যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়বে। (জামে আত-তিরমিজি, ৪৮৪)

দরুদ ও সালাম হলো নবিপ্রেমের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি সময় বের করে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা আমাদের জীবনের পাপমোচন করে এবং আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেয়। বইয়ের পাতা কিংবা পত্রিকার কলামে নবিজির অবয়ব ও মর্যাদার এই অনন্য দিকটি আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনে দরুদ পড়ার এক নতুন প্রেরণা জোগাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা খুঁজে পায় মায়ের কাছেই। ইসলাম এই সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং মায়ের মর্যাদাকে উন্নীত করেছে ইবাদতের পর্যায়ে, সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে। 

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবি করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবি করিম (সা.) বলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবার।’ (বুখারি ও মুসলিম)। 

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না। তাদের সঙ্গে কথা বলো সম্মানসূচক ও নম্রভাবে’ (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩)। 

এছাড়া হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়; এতে কোনো সন্দেহ নেই। এক, মা-বাবার দোয়া তার সন্তানের জন্য; দুই, মুসাফিরের দোয়া ও তিন, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া অত্যাচারীর বিরুদ্ধে’ (সুনানে আবু দাউদ, ১৫৩৮)। প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়ের সেবা করা। ছোটবেলায় মা যেমন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আমাদের অসুস্থতায় পাশে থেকেছেন ও সেবা করেছেন, তেমনি তার প্রতি যত্ন নেওয়া ও সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) সাহাবিদের মায়ের সেবা করার প্রতি নির্দেশ দিতেন। 

একদিন হজরত মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি জিহাদ করতে ইচ্ছুক। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?’ জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার মা আছেন?’ তিনি বললেন, ‘আছেন।’ রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তার পায়ের নিচেই জান্নাত।’ 

হাদিসে এরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহতায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. ৪২১)। 
সর্বোপরি, মা হলেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহতায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মায়ের এই অসামান্য ত্যাগকে ইসলামে বিশেষ স্বীকৃতিই শুধু দেয়নি, বরঞ্চ তার সেবাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর তাই দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সফলতা লাভ করতে হলে মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

শামায়েল রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন
ছবি: সংগৃহীত

কল্পনা করুন আরবের তপ্ত মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে আছেন এক অনন্য পুরুষ। তাঁর পরনে ইয়েমেনি লাল ডোরাকাটা চাদর ও লুঙ্গি, আর কাঁধ ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘন কালো বাবরি চুল। দূর থেকে দেখলেই মনে হয় এক রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক। তিনি আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহানবি (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান সাধারণ মানুষের চেয়ে কেমন আলাদা ছিল? কিংবা সাহাবিদের বর্ণনায় তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য কখনো কানের লতি, আবার কখনো কাঁধ পর্যন্ত বলার পেছনেদর রহস্যটা কী? চলুন, আজ তাঁর অবয়বের এই চমৎকার দিকটি জেনে নেওয়া যাক।

সাহাবি হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর চোখের দেখা বর্ণনা থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশি প্রশস্ত ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং শারীরিক গঠনের দিক থেকে চওড়া কাঁধ হলো একজন পুরুষের শারীরিক দৃঢ়তা, শক্তি এবং নেতৃত্বের প্রতীক। তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ বা খাটো ছিলেন না, বরং এই চওড়া কাঁধ তাঁর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ মাঝারি গড়নের দেহে এমন এক রাজকীয় গাম্ভীর্য এনে দিয়েছিল যে, সাহাবি বারা (রা.) মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’

হাদিসের পাঠক মাত্রই একটি কৌতূহলের মুখোমুখি হন। কোনো হাদিসে বলা হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে তা কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিল। আপাতদৃষ্টিতে একে ভিন্ন মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক চমৎকার ও নতুন জানার মতো তথ্য।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুলের যত্ন নিতেন

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

মানুষের চুল সব সময় এক মাপে থাকে না, তা প্রতিনিয়ত বাড়ে। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারকও সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যে পৌঁছাত। আরবের পরিভাষায় তাঁর চুলের এই পরিবর্তনশীল নান্দনিকতাকে তিনটি ভাগে ব্যাখ্যা করা হয়:

১. ওয়াফরা (Wafrah): যখন তাঁর চুল মোবারক সবচেয়ে ছোট অবস্থায় কানের লতি পর্যন্ত থাকত।

২. লিম্মা (Limmah): যখন চুল কিছুটা বড় হয়ে কান ও কাঁধের মাঝামাঝি বা ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছাত।

৩. জিম্মা (Jimmah): যখন চুল মোবারক সর্বোচ্চ বড় হয়ে সরাসরি কাঁধ স্পর্শ করত।

এই তিনটি শব্দের সঠিক জ্ঞান আমাদের শেখায় যে, সুন্নতের অনুসরণে চুল কতটুকু রাখা মার্জিত ও নান্দনিক। তিনি যখনই যেভাবে চুল রেখেছেন, তা তাঁর উজ্জ্বল অবয়ব ও চওড়া কাঁধের সাথে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করত।

তথ্যসূত্র: মুসলিম, ৬২১১; মুসনাদে আহমাদ, ১৮৫৮১

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক