পবিত্র হজের আধ্যাত্মিক সফর শেষ করে যখন লাখ লাখ হাজি নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন, তখন তাদের বিদায়মুহূর্তকে এক অবিস্মরণীয় ও স্বর্গীয় অনুভূতিতে রাঙিয়ে দিল সৌদি আরব। এবার বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে বিদায়ী হাজিদের হাতে সাধারণ কোনো স্মারক নয়, বরং তুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পরম বাণী, পবিত্র আল-কোরআন। সৌদি আরবের ইসলামিক দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
হজে আসা মুসলমানরা সবাই আরবি ভাষা জানেন না। তাই আল্লাহর বাণী যেন কেবল তেলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে, সেজন্য নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
মদিনার বিশ্ববিখ্যাত 'কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অব দ্য হোলি কোরআন' থেকে এই বিশেষ কপিগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারের হজে বিশ্বরেকর্ড গড়ে কাবার মূল আরবি পাঠের পাশাপাশি বিশ্বের ৮০টি আন্তর্জাতিক ভাষায় অনূদিত অর্থসহ পবিত্র কোরআনের প্রায় ১৯ লাখ কপি হাজিদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে বাংলা, ইংরেজি, উর্দু বা ফ্রেঞ্চ, যেকোনো ভাষাভাষী মুসলমান এখন নিজ মাতৃভাষায় কোরআনের মর্মবাণী সরাসরি অনুধাবন করতে পারবেন।
সাধারণত যেকোনো বড় আয়োজন শেষে অতিথিদের ক্রেস্ট বা শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়। কিন্তু সৌদি সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় দর্শন। কর্তৃপক্ষ মনে করে—
হজের দিনগুলোর আবেগ হয়তো সময়ের সাথে ম্লান হতে পারে, কিন্তু ঘরে ফিরে যখন একজন হাজি তার উপহার পাওয়া কোরআনটি খুলবেন, তখন হজের সেই পবিত্র অনুভূতি আবার তার হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে উঠবে।
কিং ফাহদ কমপ্লেক্সের এই অনুবাদগুলো কোনো সাধারণ অনুবাদ নয়। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক স্কলার ও ভাষাবিদদের দ্বারা অত্যন্ত কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এই ৮০টি ভাষার অনুবাদ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাতে কোনো বিকৃতি বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ না থাকে।
হাজিরা মক্কা-মদিনা থেকে শুধু হজের স্মৃতিই নিয়ে যাননি, বরং সঙ্গে নিয়ে গেছেন আল্লাহর কালামের এক অমূল্য জীবন্ত উপহার। এই উপহার বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজের কাছে কোরআনের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।