রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত আবশ্যক। পরিশুদ্ধ নিয়ত ছাড়া শুধু রোজা নয়, সব আমলই মূল্যহীন। ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সব আমল (প্রতিদান) নিয়তের ওপরই নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তিই যা নিয়ত করে, তা-ই সে পায়।’ (বুখারি, হাদিস নং—১)। রমজানের রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য ও তাকওয়া লাভে ধন্য হয়। তবে সবকিছুর মতো রোজা রাখার ক্ষেত্রেও শরিয়ত প্রদত্ত নিয়মনীতি-বিধিনিষেধ রয়েছে। এর অন্যতম হলো, রোজা সহিহ হওয়ার জন্য নিয়ত করা শর্ত।
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেছেন, নিয়ত হচ্ছে অন্তর দিয়ে কোনো কাজের সংকল্প করা বা ইচ্ছা পোষণ করা। মনে রাখতে হবে, নিয়ত করতে হয়; পড়তে হয় না। মানে মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করার মাধ্যমে নিয়ত হয়ে যায়, মুখে উচ্চারণ করা বা পাঠে করা জরুরি নয়।
রোজা রাখার জন্য এভাবে সংকল্প করা—আমি রোজা রাখছি। এতটুকুই যথেষ্ট। তবে মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব। শায়খ নাজমুদ্দিন নসফি (রহ.)-এর মতে, ‘রমজানে সাহরি খাওয়ার দ্বারা নিয়ত আদায় হয়ে যায়। তবে সাহরি খাওয়ার পর মনে মনে রোজার নিয়ত করা জরুরি। মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। তবে মুখে নিয়ত পাঠ করা বা উচ্চারণ করা উত্তম।’ (ফতোয়ায়ে শামি, ৩/৩৪৫)।
হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানে রোজার নিয়ত সাহরি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করতেন।’ (আবু দাউদ : হাদিস নং—২৪০৪)
রমজান মাসের বা অন্য সময়ের প্রত্যেক দিনের রোজার জন্য আলাদাভাবে নিয়ত করা আবশ্যক। গোটা মাসের ৩০টি বা ২৯টি রোজার জন্য একত্রে বা একটি নিয়ত যথেষ্ট নয়। বরং প্রত্যেক রোজার জন্য পৃথকভাবে নিয়ত করতে হবে। কারণ প্রতিটি রোজা ভিন্ন ভিন্ন আমল। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/২২৮; রদ্দুল মুহতার, ৩/৩৪৪)।
রমজানের রোজা, নির্দিষ্ট মানতের রোজা ও নফল রোজার নিয়ত রাতেই করে নেওয়া উত্তম। তবে ভুলে গেলে সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়ার (দুপুরের) এক-দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময় তা করে নিতে পারবেন। শর্ত হলো, এ সময়ের মধ্যে কিছু না খেয়ে থাকতে হবে এবং রোজা ভাঙার অন্যান্য কোনো কারণও না থাকতে হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/৪৩৭; দুররুল মুখতার, ৩/৩৩৮)।
আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) দিনের বেলায় (সকালের দিকে) আমাকে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আয়েশা! তোমার ঘরে খাওয়ার কিছু আছে? আমি বললাম, না, ঘরে কোনো খাবার নেই। তিনি বললেন, ঠিক আছে, তা হলে আমি আজকে রোজা রাখলাম।’ (মুসলিম, হাদিস নং—২৫২৮; তিরমিজি, হাদিস নং—৭৩৩)।
এ হাদিসের ব্যাপারে ফকিহরা বলেছেন, নফল রোজার ক্ষেত্রে এমনটা প্রযোজ্য মানে সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়ার (দুপুরের) এক-দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত নিয়ত করা যাবে, তবে ফরজ রোজা মানে রমজানের রোজার ক্ষেত্রে সাহরি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করে নেওয়াই উচিত।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম, খবরের কাগজ