আল্লাহর আদেশ অমান্য করে ইবলিস অভিশপ্ত ও বিতাড়িত হওয়ার পর দম্ভভরে আল্লাহর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। সে বলে, ‘আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন।’ আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের একজন।’ (সুরা আরাফ: ১৪-১৫)
ইবলিস শুধু অবকাশ চায়নি, বরং ঘোষণা করেছে আদম সন্তানের পথভ্রষ্টতার পরিকল্পনা। সে বলেছে, ‘আমি তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব, সামনে-পেছনে, ডানে-বামে থেকে আক্রমণ করব, আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ (সুরা আরাফ: ১৬-১৭)
এই মিশন বাস্তবায়নের জন্য ইবলিস বিস্তার করেছে তার সাম্রাজ্য। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইবলিস তার সিংহাসন সমুদ্রে স্থাপন করেছে এবং সেখান থেকে সে তার বাহিনী পাঠায়। যারা বেশি ফিতনা সৃষ্টি করে, ইবলিস তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়।’(সহিহ মুসলিম: ৮২১৩)
একজন অনুসারী যখন এসে বলে, ‘আমি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমন বিবাদ লাগিয়েছি যে, তারা আলাদা হয়ে গেছে,’ তখন ইবলিস তাকে উৎসাহ দেয় এবং নিজের নিকটবর্তী করে নেয়।
আরও পড়ুন : ইবলিস কী সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছিল?
ইসলামিক স্কলাররা বলেন, আল্লাহর আরশ যেমন পানির ওপর (সুরা হুদ: ৭), তেমনি ইবলিসের সিংহাসনও পানির ওপর। তবে পার্থক্য হলো—আল্লাহর আরশ সমগ্র সৃষ্টির ঊর্ধ্বে, আর ইবলিসের সাম্রাজ্য সীমিত পৃথিবীর জলে।
নবিজির হাদিস থেকেও বোঝা যায়, ইবলিসের সিংহাসন পানির ওপর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সে পানির ওপর ইবলিসের সিংহাসন দেখে।’(সহিহ মুসলিম: ২৯২৫)
তাফসিরবিদরা বলেন, পৃথিবীর জলভাগে ইবলিস তার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে, আর স্থলভাগে সে কার্যক্রম চালায়। আল্লাহর আরশ পানির ওপর থাকলেও তা পৃথিবীর নয়—সকল সৃষ্টি জগতের ওপর।
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, ‘পানি ছিল বাতাসের ওপর।’ (মুস্তাদরাকুল হাকিম: ৩২৯৩) যেমন মেঘ ভেসে বেড়ায়, তেমনই পানিও মহাশূন্যে ভাসমান ছিল।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক