আমাদের সমাজে প্রায়শই দেখা যায়, কোনো সন্তান বাবা-মায়ের অবাধ্য হলে, পিতা-মাতা ক্ষোভে বা রাগে তাকে ত্যাজ্য করার ঘোষণা দেন অথবা মিরাস থেকে বঞ্চিত করার কথা বলেন। এই ধরনের ঘোষণা বা ইচ্ছার কি আদৌ কোনো আইনি বা শরয়ি ভিত্তি আছে? ইসলামি উত্তরাধিকার আইন এ বিষয়ে কী বলে?
একটি গুরুতর গুনাহ, কিন্তু উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধক নয়
প্রথমেই মনে রাখা উচিত, কোনো সন্তান যদি তার বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়, তবে সে আল্লাহর নিকট কঠিন অপরাধী ও গুনাহগার বলে বিবেচিত হবে। বাবা-মা তাকে অবাধ্য ঘোষণা করুন বা না করুন, তার এই আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং ইসলামে এর কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার, সেবা ও আনুগত্য ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। তবে এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্তানের এই অবাধ্যতা তাকে বাবা-মায়ের মিরাস থেকে বঞ্চিত করে না। অর্থাৎ, শুধু অবাধ্য হওয়ার কারণে বা বাবা-মা তাকে ত্যাজ্য করার ঘোষণা দিলেই শরিয়তের দৃষ্টিতে তার উত্তরাধিকারের অধিকার বাতিল হয়ে যায় না।
আল্লাহর নির্ধারিত বিধান, মানুষের এখতিয়ার নেই বাতিলের
কেন এমন হয়? এর মূল কারণ হলো, মিরাসের বিধান স্বয়ং আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুনির্দিষ্টভাবে ওয়ারিশদের অংশ ও তাদের অধিকার বর্ণনা করেছেন। এই বিধানগুলো এতটাই সুপ্রতিষ্ঠিত যে, কোনো মানুষ, এমনকি স্বয়ং পিতা-মাতাও তা বাতিল করার এখতিয়ার রাখে না। ইসলামি উত্তরাধিকার আইন কোনো মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, রাগ-অনুরাগ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি আল্লাহর দেওয়া এক অপরিবর্তনীয় বিধান, যা সৃষ্টির কল্যাণ ও সমাজে সুষম সম্পদ বণ্টনের জন্য নির্ধারিত।
অতএব, যদি কোনো সন্তানকে তার অবাধ্যতার দরুন পিতা-মাতা ত্যাজ্য করে বা তাকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করার ঘোষণা দেয়, তবুও শরিয়তের দৃষ্টিতে তার মিরাস বাতিল হবে না। মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদে তার প্রাপ্য অংশ ইসলামি আইন অনুযায়ী সুনিশ্চিত থাকবে।
এ বিষয়টি জানা ও বোঝানো অত্যন্ত জরুরি, যাতে সমাজে উত্তরাধিকার নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি বা অন্যায়ভাবে কাউকে বঞ্চিত করার প্রবণতা দূর হয়। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর বিধান মেনে চলার এবং সব ক্ষেত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠার তাওফিক দান করুন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক