ইসলামি শরিয়তে শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা থাকলে জীবনে একবার হজ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি নিজে হজ না করে অন্য কাউকে নিজের পক্ষ থেকে হজে পাঠাতে চান। এক্ষেত্রে ফরজ ও নফল হজের বিধানে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।
যদি কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়ে থাকে এবং তিনি শারীরিকভাবে হজ পালনে সক্ষম হন, তবে তার জন্য নিজের বদলি হিসেবে অন্য কাউকে পাঠিয়ে হজ করানো জায়েজ নয়। ফরজ হজের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজে উপস্থিত হয়ে হজ পালন করা আবশ্যক। কেবল তখনই অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করানো যায়, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এমন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতায় ভোগেন যা তাকে আর কোনোদিন হজের সফরে যাওয়ার সুযোগ দেবে না।
নফল হজের বিষয়টি ফরজ হজের চেয়ে ভিন্ন। কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে পূর্ণ সক্ষম এবং আর্থিক সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যদি চান যে, তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ নফল হজ পালন করুক, তবে তা ইসলামি শরিয়তে বৈধ। অর্থাৎ নফল ইবাদতের সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সক্ষম ব্যক্তিও বদলি হাজি নিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রেরক ব্যক্তি শারীরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সওয়াবের অংশীদার হবেন এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই।
সুতরাং ফরজ হজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে রেখেই অন্যকে দিয়ে তা আদায়ের সুযোগ নেই যদি নিজে যাওয়ার শক্তি থাকে। কিন্তু নফল হজের ক্ষেত্রে সওয়াব কামাইয়ের উদ্দেশ্যে অন্যকে দিয়ে তা করানো সম্পূর্ণ জায়েজ। দ্বীনের এই সঠিক মাসয়ালা জানা থাকলে ইবাদত পালন সহজ ও নিখুঁত হয়।
তথ্যসূত্র: আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬৪৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৮; আলবাহরুল আমীক ৪/২২৫৮
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক