ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬ রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস ল্যাবএইডে ডেঙ্গুবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, চাষিদের স্বপ্ন এখন পচে-গলে পড়ে আছে মাঠে বড় বাজেট, বড় ঘাটতি, বড় চ্যালেঞ্জ ১০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিলেটে নামকরণ-নামহরণ চলছেই! ঢাবি পড়ুয়া জন্মান্ধ রাজিয়ার বেঁচে থাকার সংগ্রাম ১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা
Nagad desktop

সক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি বদলি হজ করা যায়?

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি বদলি হজ করা যায়?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তে শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা থাকলে জীবনে একবার হজ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি নিজে হজ না করে অন্য কাউকে নিজের পক্ষ থেকে হজে পাঠাতে চান। এক্ষেত্রে ফরজ ও নফল হজের বিধানে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।

যদি কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়ে থাকে এবং তিনি শারীরিকভাবে হজ পালনে সক্ষম হন, তবে তার জন্য নিজের বদলি হিসেবে অন্য কাউকে পাঠিয়ে হজ করানো জায়েজ নয়। ফরজ হজের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজে উপস্থিত হয়ে হজ পালন করা আবশ্যক। কেবল তখনই অন্যকে দিয়ে বদলি হজ করানো যায়, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এমন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতায় ভোগেন যা তাকে আর কোনোদিন হজের সফরে যাওয়ার সুযোগ দেবে না।

নফল হজের বিষয়টি ফরজ হজের চেয়ে ভিন্ন। কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে পূর্ণ সক্ষম এবং আর্থিক সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যদি চান যে, তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ নফল হজ পালন করুক, তবে তা ইসলামি শরিয়তে বৈধ। অর্থাৎ নফল ইবাদতের সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সক্ষম ব্যক্তিও বদলি হাজি নিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রেরক ব্যক্তি শারীরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সওয়াবের অংশীদার হবেন এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই।

সুতরাং ফরজ হজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে রেখেই অন্যকে দিয়ে তা আদায়ের সুযোগ নেই যদি নিজে যাওয়ার শক্তি থাকে। কিন্তু নফল হজের ক্ষেত্রে সওয়াব কামাইয়ের উদ্দেশ্যে অন্যকে দিয়ে তা করানো সম্পূর্ণ জায়েজ। দ্বীনের এই সঠিক মাসয়ালা জানা থাকলে ইবাদত পালন সহজ ও নিখুঁত হয়।

তথ্যসূত্র: আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬৪৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৮; আলবাহরুল আমীক ৪/২২৫৮

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

 

১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ১০ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (১১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

রাগ ও সন্তুষ্টি-এই দুইটি হলো মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ মানুষের মাঝে এই দুটি স্বভাব সৃষ্টি করেছেন কল্যাণের জন্য, হিতের জন্য। যে ব্যক্তি একেবারেই রাগ করে না, সে অসম্পূর্ণ। তবে রাগের ব্যবহার তার যথাযথ স্থানে হওয়া উচিত। সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা ক্ষতি ডেকে আনে।
রাগ সন্তুষ্টির বিপরীত। আর এটি মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। রাগ উঠলে মানুষের হৃদয়ে রক্ত টগবগ করতে থাকে, গলা ফুলে ওঠে, চেহারায় তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে, আর তখন সে ব্যক্তি যার উপর রেগেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আগুনে পুড়তে থাকে।

আমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার ভেতর রাগ জাগে না। কিন্তু জ্ঞানী ও বিবেকবান মুমিন রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কোনো মন্দ আচরণ করেন না। আর নির্বোধ ও জাহিল ব্যক্তি ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নানা নিন্দনীয় কাজে লিপ্ত হয়-যেমন হত্যাকাণ্ড, জখম, কটু বাক্য, কিংবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো গর্হিত অপরাধ। পক্ষান্তরে এই রাগ যদি যথাস্থানে, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সে রাগও হতে পারে কল্যাণের বাহন।

হাদিসে বর্ণিত এই লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন একটি উপদেশ চেয়েছিল যা হবে সংক্ষিপ্ত, অথচ গভীর। লোকটি হয়তো ভেবেছিল, এই সংক্ষিপ্ত উপদেশটি তার জন্য পালন করা সহজ হবে, তাই সে বারবার করে অন্য কিছু শুনতে চাচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারই তাকে বলছিলেন, 'রাগ করবে না।' কারণ রাগের ফলে অনেক ক্ষতি ও দুঃখ-বেদনা আসে। আর বিবেকবান মুমিন তো সর্বদাই নিজেকে সংযত রাখেন।

ক্রোধের চিকিৎসা দুইটি কাজে: এক. যতদূর সম্ভব, নিজেকে ক্রোধ থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। দুই. আর যদি কখনো ক্রোধান্বিত হয়েই পড়েন, তাহলে সেই ক্রোধকে কার্যকর হতে দেবেন না। বরং ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরম ক্ষমার মাধ্যমে তাকে জয় করবেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?
ছবি: সংগৃহীত

আজকের আধুনিক ব্যাংকিং, পুঁজিবাদ কিংবা ক্ষুদ্রঋণের এই যুগে সুদ শব্দটিকে আমরা অত্যন্ত স্বাভাবিক বা করপোরেট সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এই সুদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক অবক্ষয় কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী ও সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুদের পাপের ৭০টি স্তর বা শাখা রয়েছে; আর তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ বা নিম্নতম স্তর হচ্ছে আপন মাতাকে বিবাহ করার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হওয়া (ইবনে মাজাহ, ২৮২৬)।

অনেকেই মনে করেন, নিরুপায় হয়ে সুদের চুক্তিপত্র বা দলিলে স্বাক্ষর করলে কিংবা কেবল সাক্ষী থাকলে হয়তো বড় কোনো অপরাধ হয় না। কিন্তু ইসলামের অর্থনৈতিক নীতিতে অপরাধের সহযোগিতা করাও সমান অপরাধ। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক (হিসাবরক্ষক) এবং সুদের দুই সাক্ষীর ওপর অভিশাপ বা লানত করেছেন। নবিজি (সা.) স্পষ্ট করে বলেন, এই ভয়ংকর অভিশাপ ও পাপের ভাগীদার হিসেবে তারা সবাই সমান (মুসলিম, ২৮০৭)।

আজকের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ‘স্পিড মানি’ বা উপহারের নামে টেবিলের নিচ দিয়ে যে অর্থ লেনদেন হয়, তাকে আমরা বকশিশ বলে বৈধ করতে চাই। অথচ প্রশাসনিক সততার মাপকাঠি নিয়ে বুরায়দাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমি যাকে নির্দিষ্ট ভাতা বা বেতন দিয়ে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করেছি, সে যদি সেই নির্ধারিত ভাতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু (বকশিশ বা অতিরিক্ত অর্থ) গ্রহণ করে, তবে তা হবে স্পষ্ট ‘খিয়ানত’ বা চরম বিশ্বাসঘাতকতা (আবু দাউদ, ৩৭৪৮)।

বর্তমান সময়ে সরকারি অনুদান, জনকল্যাণের বাজেট কিংবা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার প্রবণতা সমাজে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অথচ পরকালের আদালতে এর হিসাব অত্যন্ত কঠিন। হযরত খাওয়ালাহ আনছারী (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহর সম্পদ (জনগণের বা রাষ্ট্রের সম্পদ) অন্যায় ও অবৈধভাবে ভক্ষণ বা ভোগ করে; কিয়ামতের দিন তাদের জন্য অবধারিতভাবে রয়েছে জাহান্নামের আগুন (বুখারি, ৩৭৪৬)।

জীবনের প্রতিটি উপার্জনকে হালাল ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত। আসুন, সুদের ভয়াবহতা ও আমানতের খিয়ানত থেকে নিজেকে দূরে রাখি, যেন আমাদের প্রতিটি লোকমা হয় পবিত্র ও বরকতময়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

আধুনিক সমাজে অপরাধ আড়াল করতে মানুষ কত ফন্দিই না আঁটে! কিন্তু এমন এক অলৌকিক বিচারব্যবস্থার বিধান রয়েছে, যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হযরত উবাদাহ ইবনু ছামেত (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যভিচারের কঠোর শাস্তির বিধান ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, অবিবাহিত অপরাধীদের জন্য একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন এবং বিবাহিতদের জন্য চরম শাস্তি রজম বা পাথর নিক্ষেপের বিধান নির্ধারিত (মুসলিম, ৩৫৫৮)। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসেও বিবাহিত ব্যভিচারী, খুনি এবং আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে (আবু দাউদ, ৪৩৫৩)।

সমাজে কিছু অপরাধের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা এতটাই কুৎসিত যে, স্রষ্টা স্বয়ং তাদের প্রতি বিমুখ হন। হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির লোকের দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলেন, বার্ধক্যে উপন্ন হওয়া ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহঙ্কারী দরিদ্র ব্যক্তি (মুসলিম, ৫১০৯)।

অপরাধ স্বীকার করে নিজেকে শুধরে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য মনস্তাত্ত্বিক খণ্ডচিত্র পাওয়া যায় সাহাবি মায়েয ইবনে মালেক (রা.) এবং গামেদি গোত্রের এক নারীর ঘটনায়। তারা নিজে থেকে রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে নিজেদের ব্যভিচারের অপরাধ স্বীকার করে পবিত্র করার আকুতি জানান। রাসুল বারবার তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিলেও তারা নিজেদের দাবিতে অটল থাকেন। এমনকি গামেদি নারী গর্ভবতী থাকায় সন্তান প্রসব এবং পরে তার দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত রুটির টুকরো হাতে না আসা অবধি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন ও শাস্তি মাথা পেতে নেন। তাদের এই খাঁটি অনুশোচনা দেখে রাসুল (সা.) বলেন, তারা এমন খালেছ তওবা করেছে, যা সমস্ত উম্মত বা কোনো বড় জালেমের মাগফিরাতের জন্যও যথেষ্ট (মুসলিম, ৩৫৬২)।

লোকচক্ষুর আড়ালে করা পাপের পরকালীন পরিণতি কেমন হতে পারে, তা রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি অলৌকিক স্বপ্নে স্পষ্ট হয়। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে দেখা যায়–তন্দুরের মতো এক সংকীর্ণ ও লেলিহান অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষরা জ্বলছে। সঙ্গী ফেরেশতা জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) জানান, তারা মূলত দুনিয়ার ব্যভিচারী বা জেনাকারীর দল (বুখারি, ৪৬২১)। সেই স্বপ্নে কোরআন থেকে গাফেলদের মাথায় পাথর নিক্ষেপ এবং মিথ্যাবাদীদের গাল সাঁড়াশি দিয়ে চেরার দৃশ্যও দেখানো হয়।

আইন ও সমাজের চোখ ফাঁকি দেওয়া গেলেও নিজের কর্ম ও বিবেকের হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। সাময়িক মোহের পেছনে না ছুটে মায়েয বা গামেদি নারীর মতো অনুতপ্ত হয়ে নিজের জীবনকে পবিত্র রাখাই হোক আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি কখনো এমন কোনো নয়নের কথা কল্পনা করেছেন, যার শুভ্রতার মাঝে লুকিয়ে ছিল এক মায়াবী লালিমা? কিংবা এমন এক অনন্য বাচনভঙ্গির কথা, যা কোনো কৃত্রিম মাইক্রোফোন ছাড়াই হাজারও মানুষের জনসমুদ্রে স্পষ্ট শোনা যেত? সাহাবি হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) যখনই প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকাতেন, তাঁর দৃষ্টি থমকে যেত নবিজির চোখ এবং মুখের এক অপার্থিব সৌন্দর্যের কাছে। চলুন, আজ নবিজির মুখাবয়ব, ডাগর চক্ষু এবং পায়ের গোড়ালির চমৎকার এক শারীরিক রহস্য উন্মোচন করি।

হাদিসের নিখুঁত পরিভাষা ও সাহাবিদের বিবরণ থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মুখ মোবারক ছিল বেশ প্রশস্ত (মুসলিম,৬২১৬)। আরবের প্রখ্যাত বর্ণনাকারী সিমাক (রহ.) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এর অর্থ হলো– তিনি ‘বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট’ বা সুন্দর ও সুললিত বাচনভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। মানব শরীরের গঠনশৈলী ও প্রাচীন আরবের অলঙ্কারশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রশস্ত মুখগহ্বর হওয়া উচ্চ কণ্ঠস্বর, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং অসাধারণ বাগ্মিতার লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি যখন কথা বলতেন, তখন প্রতিটি শব্দ মুক্তোর মতো ঝরে পড়ত এবং দূর-দূরান্তের মানুষও তা কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই শুনতে পেত।

নবিজি (সা.)-এর চোখের গঠন ছিল অতুলনীয়। তিনি ছিলেন ডাগর বা বড় চক্ষুর অধিকারী (মুসলিম,৬২১৬)। তাঁর চোখের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল, চোখের সাদা অংশের মাঝে এক ধরনের হালকা ও সূক্ষ্ম লালিমার আভা ছড়িয়ে থাকত (মুসনাদে আহমাদ, ২১০২৪)। এটি কোনো ক্লান্তির লক্ষণ ছিল না, বরং এই স্বাভাবিক লালিমা তাঁর ডাগর চোখ দুটিকে এক অনন্য তেজস্বী, গম্ভীর এবং মায়াবী রূপ দান করেছিল, যা দেখামাত্রই মানুষের অন্তরে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হতো।

নবিজি (সা.)-এর পায়ের গোড়ালি মোবারক ছিল সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বল্প মাংসল বা সরু (সহিহ ইবনে হিব্বান,৬২৮৯)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পায়ের গোড়ালি হালকা ও সরু হওয়া দ্রুত হাঁটার ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং ক্লান্তিহীন পথ চলার শারীরিক সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। এই চমৎকার শারীরিক কাঠামোর কারণেই তিনি আরবের উত্তপ্ত বালুকারাশির ওপর দিয়ে মাইলের পর মাইল ক্লান্তিহীনভাবে হেঁটে দাওয়াতের কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন (জামেউস সগির, ৮৯৫২)।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক