ঈদের নামাজে আজান ও ইকামতের কোনো বিধান নেই। হজরত জাবের (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে একাধিকবার ঈদের নামাজ আদায় করেছি–আজান ও ইকামত ছাড়াই।’ (মুসলিম, হাদিস: ৮৭৮)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুরো জীবনে ঈদের নামাজে কখনো আজান দেওয়া হয়নি। এটি সুন্নতের বিপরীত। তবে কেউ অজ্ঞতাবশত ইকামত দিয়ে দিলে এর কারণে নামাজ মাকরুহ হবে না। (কিতাবুল আসল: ১/৩১৯; শরহুল মুনইয়া, পৃষ্ঠা: ৫৬৭)
আরো পড়ুন: প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের যে ১০ কারণে কোরবানি দেওয়া উচিত
ঈদের নামাজ আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত–এই নামাজের প্রতিটি বিধান মেনে, প্রতিটি সুন্নত আঁকড়ে ধরে যে মুমিন ঈদগাহে দাঁড়ান–তার সেই দাঁড়ানো শুধু নামাজ নয়, এটি আল্লাহর সামনে পূর্ণ আনুগত্যের এক নীরব ঘোষণা। এই নামাজে যোগ দিতে পারা মানে লাখো কোটি মুসলমানের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর শুকরিয়া জানানোর সুযোগ পাওয়া। তাই এই নামাজের প্রতিটি মাসআলা জানা এবং মেনে চলা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি। ঈদের নামাজ বছরে মাত্র দুবার আসে। এই নামাজের প্রতিটি তাকবির, প্রতিটি সুন্নত–সবকিছু সঠিকভাবে আদায় করা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি। কারণ এই নামাজের মাধ্যমে একজন মুসলমান পুরো উম্মাহর সঙ্গে একই কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।
নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা কি জরুরি–ঈদ বা যেকোনো নামাজ, রোজা বা অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে নিষেধও নয়। কেউ ইচ্ছার দৃঢ়তার জন্য মুখেও উচ্চারণ করতে চাইলে নিজের মাতৃভাষায় করবেন–প্রচলিত আরবি নিয়তের পেছনে পড়ার প্রয়োজন নেই। (উমদাতুল কারি: ১/৩৩; শরহুল মুনইয়া, পৃষ্ঠা: ২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার: ১/৪১৫)।
আরো পড়ুন: নবিজির প্রতি নারী সাহাবিদের ভালোবাসা
ঈদের নামাজের পরিপূর্ণ নিয়ম–ঈদের নামাজ দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করবেন। এর পর ছানা পড়বেন। ছানা পড়ার পর পরপর তিনটি তাকবির বলবেন–আল্লাহু আকবার’, ‘আল্লাহু আকবার’, ‘আল্লাহু আকবার’। প্রথম দুটি তাকবিরে উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন–বাঁধবেন না। তৃতীয় তাকবিরে হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবেন। এর পর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবেন। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা-কেরাত পড়ার পর রুকুতে যাওয়ার আগে একইভাবে তিনটি তাকবির বলবেন। তবে এবার তৃতীয় তাকবিরেও হাত বাঁধবেন না। এর পর চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যাবেন। বাকি নামাজ অন্যান্য নামাজের মতোই শেষ করবেন। (কিতাবুল আসল: ১/৩১৯; আলহাবিল কুদসি: ১/২৪৩)
নামাজে সুন্নত কেরাত–রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা আলা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা গাশিয়াহ পড়তেন। অথবা প্রথম রাকাতে সুরা কাফ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কামার পড়তেন। (মুসলিম, হাদিস: ৮৭৮; নাসায়ি, হাদিস: ১৫৬৭)। এই সুরাগুলো পড়া সুন্নত। তবে অন্য যেকোনো সুরাও পড়া যাবে। জুমার নামাজের মতো ঈদের নামাজেও কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়া ওয়াজিব। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদ ও ইস্তেসকার নামাজে কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন।’ (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ১৮০৩)। তাই ইমাম উভয় রাকাতেই উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পড়বেন।
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক