২৩ বছর আগে ২০০২ সালে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজধানী ঢাকার মিরপুরের মাজার রোডে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে অবস্থিত। প্রাইম ইউনিভার্সিটির নানা বিষয় নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আলাদা? এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
ড. আবদুর রহমান: প্রাইম ইউনিভার্সিটি শুধু পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের যোগ্য স্নাতক তৈরি করে না। এই বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক বিবেচনায় একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শবান দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রাণান্তকর চেষ্টায় নিবেদিত।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কি কর্মমুখী প্রোগ্রাম চালু রয়েছে? এ সম্পর্কে বলুন।
ড. আবদুর রহমান: জি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কারিগরি কর্মমুখী প্রোগ্রাম চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, স্বল্প সময়ের মধ্যে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
খবরের কাগজ: কর্মমুখী উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
ড. আবদুর রহমান: এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সর্বাগ্রে আমাদের দেশে প্রচলিত প্রবাদের কথা উল্লেখ করতে হয়, ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে’। বাস্তবিক অর্থেই আমরা এখনো এ অবস্থা থেকে বের হতে পারিনি। উল্লিখিত প্রবাদের পরিবর্তে আমাদের শিক্ষার্থীদের এই মন্ত্রে দীক্ষিত করতে হবে, ‘লেখাপড়া করে যে, উৎপাদন করে সে’। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উল্লিখিত লক্ষ্য সামনে রেখে অ্যাকাডেমিক সার্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে অ্যাকাডেমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যক। অন্যথায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রী শুধু বেকারত্বের সংখ্যাই বাড়াবে। বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আর কালক্ষেপণ না করে; দরকার জাতীয় শিক্ষানীতির ভিশন নির্ধারণ করা।
খবরের কাগজ: বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থান পেতে আপনারা কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন? কোন কোন ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছেন?
ড. আবদুর রহমান: বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থান পেতে আমরা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করছি। নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষকদের গবেষণাকর্ম পরিচালনা করছি। সময়োপযুক্ত বিষয়ে সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন করা, শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করানোর ব্যবস্থাসহ Industrial Linkage-এর কাজটা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে করছি। আমরা উল্লিখিত বিষয়ে প্রশংসনীয় সাফল্য পাচ্ছি।
খবরের কাগজ: দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তিসহ কী কী সুবিধা রয়েছে?
ড. আবদুর রহমান: দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তির সময়েই শতভাগ টিউশন ফি মওকুফের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সেমিস্টারভিত্তিক রয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা।
খবরের কাগজ: শিক্ষার্থীদের চাকরি বা ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম আছে কি?
ড. আবদুর রহমান: প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য আমাদের ‘Job Career Counseling and Job Placement Centre’ নামে একটি সেল সর্বদা কাজ করছে।
খবরের কাগজ: ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করতে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে? এ বিষয়ে ক্লাবগুলো কেমন ভূমিকা রাখছে?
ড. আবদুর রহমান: প্রাইম ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ১২টি ক্লাব কাজ করছে এবং বিভাগভিত্তিক বিভিন্নবিষয়ক ক্লাবের কার্যক্রম কার্যকরীভাবেই তৎপর রয়েছে।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ কেমন? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
ড. আবদুর রহমান: প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে সিআরএইচপি নামক একটি গবেষণা শাখা রয়েছে। শিক্ষকরা গবেষণা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরে গবেষণা কাউন্সিলরের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট গবেষণাকর্ম যথাযথভাবে সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশবরেণ্য গবেষকদের উপস্থিতিতে গবেষণা কর্ম উপস্থাপনের জন্য সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়।
খবরের কাগজ: সাম্প্রতিক সময়ে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অর্জন কী? বিতর্ক, রোবটিকস প্রতিযোগিতা বা ডিবেট প্রতিযোগিতায়?
ড. আবদুর রহমান: প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবেই ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারছেন।
খবরের কাগজ: সরকার সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো সরকারের এই উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কেমন?
ড. আবদুর রহমান: পিএইচডি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার মতো ক্যাপাবিলিটি অর্জনের সর্বাত্মক চেষ্টা আমরা করছি।
খবরের কাগজ: আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রতিবছর জব ফেয়ার বা এ ধরনের আয়োজন করা হয় কি? হলে সেগুলো কী ব্যবস্থায় করা হয়?
ড. আবদুর রহমান: প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে প্রতিবছরই জব ফেয়ার হয়। দেশের খ্যাতিমান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে সম্পৃক্ত করেই জব ফেয়ার করা হয়।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলুন।
ড. আবদুর রহমান: বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪-৫ লাখ ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। প্রয়োজন জাতীয় শিক্ষানীতির ভিশন ঠিক করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার মান বজায় রাখা।