ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এই দুটি রোগ দিন দিন বাড়ছে। আর এই দুই রোগ বৃদ্ধিতে দিন দিন বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। রোগী বাড়লেও সেই তুলনায় দেশে সেবা খুবই অপ্রতুল। নেই পর্যাপ্ত ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা। রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের তীব্র সংকট। চিকিৎসা ব্যয় বেশি এবং অপ্রতুল সুবিধার কারণে রোগীদের বড় একটি অংশ থেকে যায় চিকিৎসার বাইরে। প্রায় ৯০ শতাংশই মারা যান বিনা চিকিৎসায়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৫। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘আপনার কিডনি কি সুস্থ? তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করুন, কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করুন।’
কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘২০১০ সালের একটি জরিপে দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬ থেকে ১৮ শতাংশের কিডনি রোগ পাওয়া যায়। ২০২৩ সালে দেড় লাখ মানুষের ওপর স্ক্রিনিং প্রোগ্রামে পাওয়া যায় ২২ থেকে ২৩ শতাংশের। এর বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে পৃথিবীর সব দেশের মতো বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ২০১০ সালে দেশে ৬ শতাংশের মতো ডায়াবেটিস ছিল, যা এখন ১১ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ রক্তচাপ ছিল ১০ শতাংশের, তা এখন ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। কিডনি রোগের প্রধান তিনটি কারণের মধ্যে এক নম্বর ডায়াবেটিস, দ্বিতীয় উচ্চ রক্তচাপ এবং তৃতীয় নেফ্রাইটিস। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে ওঠায় নেফ্রাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে। এখন এই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে কিডনি রোগী বাড়তেই থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ রোগী জানেই না তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। সে কারণে নীরবে কিডনি বিকল হতে থাকে। যখন ডাক্তারের কাছে যায়, তখন দেখা যায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। আর কিছুই করার থাকে না। স্টেজ ওয়ান ও টুতে ট্রিটমেন্ট নিতে পারলে রোগ ভালো হয়। স্টেজ থ্রি ও ফোর স্টেজে যেটা কিডনি মডারেট ড্যামেজ হয়ে গেছে, সেখানে আপনি শুধু এটা স্লো ডাউন করতে পারেন। কিন্তু কিউর করতে পারবেন না। সে জন্য আমার প্রস্তাব হচ্ছে প্রতিরোধ করা এবং আর্লি শনাক্ত করা। আর্লি শনাক্তের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে যদি প্রেশার-ডায়াবেটিস মাপা এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করে অ্যালবুমিন দেখা যায়, তাহলে ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মনোন্নয়ন, নিয়মিত ব্যায়াম করা, সক্রিয় থাকা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, নেফ্রাইটিস, জন্মগত ও বংশগত কিডনি রোগে যারা আক্রান্ত এবং মূত্রতন্ত্রের প্রদাহে যারা ভুগছেন তাদের বছরে অন্তত দুবার প্রস্রাব ও রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করে নিতে হবে।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, কিডনি রোগ দেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা। সবাই যদি কিডনি রোগের ব্যাপকতা, ভয়াবহতা, পরিণতি ও কারণ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করে, তা হলে ৬০-৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (এনসিডিসি) ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন দেশের সর্বশেষ জরিপের বরাত দিয়ে বলেন, এতে দেখা গেছে ২৯ শতাংশের ওভার ওয়েট। ৫ দশমিক ২ অবেসিটি। শিশুদের ক্ষেত্রেও এটা আশঙ্কাজনক। ১৮ শতাংশের অবেসিটি। শিশুদের ১১ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ ও ৪ শতাংশের ডায়াবেটিস পাওয়া গেছে। কিডনি রোগ প্রতিরোধের প্রধান দুটি দিক হচ্ছে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
তিনি বলেন, ‘ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপনে অনেক খরচ করেও কিন্তু আমরা এই জায়গাটি স্মুথ করতে পারছি না। ঘুরেফিরে সেই প্রতিরোধের এবং শুরুতেই শনাক্তের বিষয় চলে আসছে। এটা সমন্বিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। তাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় লিড দেবে। প্রতিরোধ করতে পারলে ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হবে না।’
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। বাংলাদেশে কিডনি রোগী কত তার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে ভুগছেন।
ক্যাম্পসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক। তথ্যমতে, প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কিডনি রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল। শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমানভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। দারিদ্র্য, অসচেতনতা, চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। আরও ২৪ থেকে ৩০ হাজার রোগীর হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে সাময়িক ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয়। ডায়ালাইসিস চিকিৎসা এত ব্যয়বহুল যে ১০ শতাংশ রোগীও এর খরচ বহন করতে পারেন না, তাই ৯০ শতাংশের বেশি কিডনি বিকল রোগী প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান।’
কিডনি রোগের যে পাঁচটি পর্যায় রয়েছে তার সর্বশেষটি হলো কিডনি বিকল। এর চিকিৎসা হিসেবে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে। যাকে বলা হয় রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (আরআরটি)। যারা জীবন বাঁচানোর জন্য আরআরটি বেছে নেন, তাদের বলা হয় এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ বা ইএসআরডি। ইউনাইটেড স্টেট রেনাল ডেটা সিস্টেমের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ২০২০ সালে ইএসআরডি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রতি ১০ লাখে ১০৯ জন। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে এই ইএসআরডি রোগী বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।
জানা গেছে, একজন কিডনি বিকল রোগীকে ডায়ালাইসিসের জন্য বেসরকারি পর্যায়ে সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়। সরকারি পর্যায়ে সপ্তাহে ৮০০ টাকা। এর বাইরে যাতায়াত এবং ওষুধের ব্যয় তো রয়েছেই। গাজীপুর থেকে ঢাকার জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্ত্রীকে ডায়ালাইসিস করাতে আসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্বপন কুমার দাস বলেন, প্রতিবন্ধী কোটায় স্ত্রীকে ফ্রিতে ডায়ালাইসিস দেওয়াতে পারলেও আসা-যাওয়া আর ওষুধ কেনায় অনেক টাকা ব্যয় হয়। গাজীপুরের টঙ্গী মিলগেট এলাকা থেকে দুই বছর ধরে সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। তিনি বলেন, এক দিন করাতে ৫৯৩ টাকা দিতে হয়। প্রতিবার আসা-যাওয়ায় খচর হয় আরও ১ হাজার টাকা।
এই প্রতিষ্ঠানের ডায়ালাইসিস সেন্টারে স্যানডোর পরিচালিত ৫৯টি শয্যা রয়েছে। এটি পাবলিক ও প্রাইভেট পার্টনারশিপে পরিচালিত। ২০১৬ সালে প্রজেক্টের মাধ্যমে এখানে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালু করে সরকার। দুই প্রতিষ্ঠানে প্রথম বছর ২০১৭ সালে প্রায় ২৯ হাজার ৬৭৩ জনকে ডায়ালাইসিস করা হয়। এরপর প্রতিবছরই বাড়ছে। পরের চার বছরে প্রায় তিন লাখ রোগী এসেছে।
বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে স্কয়ারে ৫ হাজার ২০০ টাকা, আজগর আলীতে ৪ হাজার ৬০০, বাংলাদেশ স্পেশালাইজডে ৫ হাজার ৩০০, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেলে ৪ হাজার ৪০০, পপুলারে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজ হাসপাতালে ২ হাজার ৩০০ টাকা, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ১ হাজার ১০০, ক্যাম্পসে ২ হাজার ৮০০ টাকা একবার দিয়ে পরে ২ হাজার টাকা করে দিয়ে তিনবার ডায়ালাইসিস করানো যায়। ইউনাইটেড, ল্যাবএইড, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ডায়ালাইসিস করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কত টাকা করে লাগে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকার বাইরে কথা হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর এস এম মনিরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি অপ্রতুলতার বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছেন, সেখানে ২০টি মেশিনে ডায়ালাইসিস করানো হয়, যা পর্যাপ্ত নয়। আরও অন্তত ১৫টি মেশিন, জনবল এবং সেই সঙ্গে বাজেট দরকার।’ তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে এখানে ডায়ালাইসিস শুরু হয়েছে। তখনো যে বাজেট ছিল, এখনো সেই বাজেট দিয়েই চালাতে হচ্ছে। বাজেট অবশ্য বাড়ানো দরকার।’
কিডনি চিকিৎসার অপ্রতুলতা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ‘পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কিডনি রোগের চিকিৎসায় দেশে প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানের তীব্র সংকট রয়েছে। জাপানে প্রতি ১০ লাখ লোকের জন্য রয়েছেন ৩৪ জন চিকিৎসক। আর বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখের জন্য চিকিৎসক মাত্র দুজন।
প্রতি জেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার করার একটি প্রকল্প চলমান জানিয়ে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারহাদ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘২২টি মেডিকেল কলেজ ছয়টি জেলা হাসপাতাল ও দুটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে ডায়ালাইসিস সেবা চালু আছে। ৪২টি জেলায় ১০ বেডের ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ২২টি মেডিকেল কলেজে ডায়ালাইসিস শয্যা বাড়ানো হবে। এটা করলে আশা করি এক জেলার মানুষকে আরেক জেলায় দৌড়াতে হবে না।’
ডা. ফারহাদ হাসান চৌধুরী বলেন, শুধু সেন্টার করলেই হবে না, এসব চালানোর জন্য যে দক্ষ জনবল দরকার সেটির বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। সরকারিভাবে এখন ৯৫ জন কিডনি বিশেষজ্ঞ আছেন। জনসংখ্যার অনুপাতে ২০ লাখ মানুষের জন্য একজন সরকারি ডাক্তার। ৪৪ জেলায় যে ডায়ালাইসিস সেন্টার করা হবে, সেখানে অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক যাবেন না, সেখানে যাবেন কনসালট্যান্ট। দেশে কনসালট্যান্টের সংখ্যা মাত্র ৬০ জন। সিনিয়র কনসালট্যান্ট মাত্র দুজন। শুধু ডায়ালাইসিস সেন্টার করেই কি আপনি চিকিৎসা দিতে পারবেন। সম্ভব না। ডায়ালাইসিসের জন্য আলাদা নার্স নেই। সাধারণ নার্স থেকে এদের নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ে আমাদের একটা প্রস্তাব দেওয়া আছে। ৪৬টি জেলা সদর হাসপাতালে একজন করে কনসালট্যান্ট ও দুজন করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট দেওয়ার জন্য। ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর আগে জনবল তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
দেশে খুব একটা বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন হয় না। বছরে দেড় শর মতো হতে পারে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্পসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।
জানা গেছে, ১৯৮২ সালে সাবেক আইপিজিএমআরে (বর্তমান বিএসএমএমইউ) প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন হয়। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়। সেই থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন হয়ে আসছে। এ ছাড়া বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ৩১টি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়। সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন প্রতিস্থাপন বন্ধ ছিল। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৩২তম কিডনি প্রতিস্থাপন হয়। কিন্তু পরদিন ওই রোগী মারা যান। তার পর থেকে প্রতিস্থাপন বন্ধ রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বিএসএমএমইউতে মরণোত্তর কিডনি দান শুরু হয়। বেসরকারি পর্যায়ে শ্যামলীতে ডা. কামরুল ইসলাম ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করেন।
কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ বলেন, আগে ১০টি সেন্টারে প্রতিস্থাপন করা হলেও এখন চার-পাঁচ জায়গায় প্রতিস্থাপন করা হয়। সরকারিতে ১ লাখ টাকা লাগে। বেসরকারিতে ২ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
কিডনি মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যার প্রধান কাজ হচ্ছে রক্ত পরিশোধন করা এবং উৎপাদিত বর্জ্য মূত্র আকারে শরীর থেকে বের করে দেওয়া। শরীরের লবণ, শরীরের ভারসাম্য রক্ষা ও রক্ত উৎপাদনে কিডনির প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।