প্রাথমিক পর্যায়ের ৬০ শতাংশ বই বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। নভেম্বরের মধ্যে বাকি সব উপজেলায় বই পৌঁছে যাবে। বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিকের শতভাগ শিক্ষার্থী বই পাবে। তবে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা প্রথম দিনে সব বই পাবেন কি না তা নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে। প্রথম দিনেই মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
প্রাথমিকের মতো একই সময়ে মাধ্যমিকের বই ছাপা হয়ে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো মাধ্যমিকের তিন শ্রেণির বই ছাপাই শুরু হয়নি। কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে কেবল, এখনো চুক্তি হয়নি। সবে মাত্র নবম শ্রেণির বই ছাপা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে চুক্তির কার্যক্রমও চলছে। ছাপানো, বাঁধাই ও পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় ২ মাস। চুক্তি অনুযায়ী সব ঠিকঠাক মতো চললেও উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছানো নিশ্চিত করতে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
২০১০ সালে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই দেওয়া শুরু হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দিতে বছরের তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগেছিল। বিলম্বের কারণে সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অভ্যুত্থান পরবর্তী সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি ছিল। তবে সরকারেরও ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। এবার সেই সমালোচনার মুখে পড়তে চায় না সরকার। সে জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে বই পৌঁছানোর বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে এনসিটিবি।
এনসিটিবি থেকে জানা গেছে, আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯টি বই ছাপানো হবে। গত ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৭ কোটি ১০ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৮ কপি বই (৮২.৬৬%) বাঁধাই হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পৌঁছেছে ৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪১০ কপি বই অর্থাৎ ৬০ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এই বিষয়ে এনসিটিবির উৎপাদন নিয়ন্ত্রক আবু নাসের টুকু বলেন, ‘নভেম্বরের মধ্যে সারা দেশে বই পৌঁছে যাবে। বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বই পাবে।’
এনসিটিবি থেকে জানা গেছে, মাধ্যমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭১ কপি ও নবম-দশম শ্রেণির জন্য ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৮৬৯ কপি বই ছাপানো হবে। এখনো ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো ছাপা শুরু হয়নি। নবম শ্রেণির বই ছাপানো শুরু হয়েছে। গতকাল ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৫০টির মতো প্রেসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। গত ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৫টি প্রেসে ছাপানো শুরু হয়েছে।
এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, নবম শ্রেণির বই ছাপানোর পাশাপাশি অন্য প্রেসের সঙ্গে চুক্তি করার কাজও চলছে। নবম শ্রেণির বই ছাপানোর উপযোগী প্রেসের সংখ্যা ১০৩। এগুলোর একটি বড় অংশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
এনসিটিবি থেকে জানা গেছে, গত বছর তিন মাস দেরিতে শিক্ষার্থীরা বই পাওয়ায় এবার আগে থেকেই ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত মে ও জুনে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর দরপত্র আহ্বান করা হয়। মূল্যায়নের কাজ সম্পন্নের পর হঠাৎ সেপ্টেম্বর মাসে ক্রয়সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে দরপত্র বাতিল করা হয়। পরে আবার দরপত্র আহ্বান করে যাচাই-বাছাই শেষে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, ‘গত ৬ নভেম্বর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (গতকাল) থেকে চুক্তি শুরু হওয়ার কথা। কার্যসম্পাদনকারী পক্ষগুলোকে চুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে পারলে সমস্যা হবে না। চুক্তি অনুযায়ী তারা সময় পাবেন ৪৫ দিন। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সবার সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব হলে, আশা করি ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব জায়গায় বই পৌঁছানো সম্ভব হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আশা করি পারব। আমরা সেই ভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। বাজারে অনেক কথাই হয়। পারব কি পারব না এমন শঙ্কার কথা বলা হয়। কিন্তু আমরা আশাবাদী।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো বছরই পহেলা জানুয়ারি সব বই সরবরাহ সম্ভব হয় না। শেখ হাসিনার আমলে কোনো বছরই পহেলা জানুয়ারি সব বই দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন তো নানা সংকট। তারপরও আমরা আশা করছি, এত সংকটের মধ্যেও সময়মতো সব বই পৌঁছে দিতে পারব। শঙ্কার কোনো কারণ নেই। হয়তো এমন হতে পারে, দুই-একটি বই জানুয়ারির ৬-৭ বা ১০ তারিখ পৌঁছাতে পারে। তবে আমরা এটা চাই না। আমরা যেভাবে হোক ৩১ তারিখের মধ্যে বই পৌঁছাতে চাই।’