তারকার জীবন নিয়ে আগ্রহ সবার। কীভাবে ঈদ করবেন তারা, ঈদে বিশেষ কী পরিকল্পনা করছেন, এসব জানতে চান ভক্তরা। ক্রীড়া তারকাদের ঈদ পরিকল্পনা নিয়ে তাই খবরের কাগজের এই বিশেষ আয়োজন। ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম, ফুটবলার রহমত মিয়া, হকি তারকা আশরাফুল ইসলাম, নারী ফুটবলার মাছুরা পারভীন ও দাবাড়ু মনন রেজা নীড় জানিয়েছেন তাদের ঈদ পরিকল্পনার কথা।
ছোটবেলার মতোই আনন্দে কাটাই
তানজিদ হাসান তামিম, ক্রিকেটার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় সবশেষ ঈদটা ওয়েস্ট ইন্ডিজে করতে হয়েছিল। এবার খেলা নেই। তাই লম্বা একটা ছুটি পেয়েছি। আর ছুটি পেয়েই চলে এসেছি বাসায়। আমরা বগুড়া শহরে থাকি। তবে আমরা ঈদ করি দাদুর বাড়িতে। শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সোনালতা উপজেলার কপূর গ্রামে। আমার কাজিনরা সবাই ঈদের সময় ঢাকা থেকে আসে। প্রতি ঈদে সবার সঙ্গে দেখা হয়, এটা অনেক আনন্দের।
সবাই একসঙ্গে সেমাই খেয়ে নামাজ পড়তে যাওয়া, বাসায় এসে সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার খাওয়া, গল্প-গুজব করার পর আশপাশে ঘুরতে যাওয়া, এভাবেই দিনটা কাটতে থাকে। আর আমাদের গ্রামটা অনেক সুন্দর। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ রয়েছে। সবাই ওখানে গিয়ে ছবি তুলি। গ্রামে একটা স্কুলমাঠ আছে, যেখানে ছোট থেকেই খেলতাম আমি। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ওই মাঠে গিয়ে খেলি। আমার কাছে ছোটবেলা আর বড়বেলার ঈদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ আমি ছোটবেলার মতোই ঈদের দিনটি কাটাই। ছোটবেলায় যেমন সবাই একসঙ্গে খেলতাম। এখনো চেষ্টা করি সবার সঙ্গে ওভাবেই মিশে খেলার। বাসায় এলে সব সময় আম্মুর হাতের রান্না খাই। বাইরে কিছু খাই না। ঈদের দিন আম্মুর হাতের খিচুড়ি ও গরুর ভুনা মাংস, আলুভাজি, বেগুনভাজি- এগুলো মিস করি না।
সেলামির কথা মনে পড়ে
রহমত মিয়া, ফুটবলার
সারা বছর খেলার মধ্যেই থাকতে হয়। তাই বাড়িতে খুব বেশি যাওয়া হয় না। এবারের ঈদটা বাড়িতে (মাগুরার মোহাম্মদপুর) পরিবারের সঙ্গেই করব বলে ঠিক করেছি। যদিও ছুটি খুব বেশি দিনের না। মাত্র জাতীয় দলের হয়ে আমাদের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হয়েছে। ঈদের পর পরই ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে। জাতীয় দলের হয়ে ভারত ম্যাচ শেষ করেই আমরা ক্লাবে যোগ দিয়েছিলাম। ঈদের ছুটি পাচ্ছি কয়েক দিনের। যেহেতু সুযোগ পেয়েছি, কম সময় হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করব। মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে কাটাব।
কারণ ঈদে পরিবার থেকে বাইরে থাকাটা যে কি কষ্টের, এটা আমরা খেলোয়াড়রা বেশ ভালোই জানি। আমার ক্ষেত্রে তো এমন অনেক হয়েছে যে ঈদের সময়ে বাড়িতে যেতে পারিনি। এমনকি সামনে জুনে তো ঈদুল আজহা। ওই সময় এএফসি এশিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলা আমাদের। যদিও পেশাদারত্বের জায়গা থেকে এটা মেনে নিতে হয় আমাদের।
ঈদ এলে সেলামি পাওয়ার কথা খুব মনে পড়ে। ছোটবেলায় সবাই টাকা দিত, এখন সবাইকে টাকা দিতে হয়। টাকা পাওয়াতেই বেশি মজা। তবে ছোটদের সেলামি দিতে ভালো লাগে। আর ঈদের দিন বাসায় মায়ের হাতের যেকোনো খাবার আমার প্রিয়।
ফিটনেস নিয়ে কাজ করব
আশরাফুল ইসলাম, হকি খেলোয়াড়
এবারের ঈদে আগের মতো হই হুল্লোড় বা বন্ধুদের সঙ্গে অতটা ঘোরাঘুরি করা হবে না। কারণ সামনে আমাদের খেলা আছে। গত এক মাস আমরা জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলাম। ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। ঈদের পর পরই আবার ক্যাম্পে যোগ দিতে হবে। যে কদিন ছুটি আছে, চাইব বাসার ভেতরও ফিটনেস ধরে রাখার ওয়ার্কআউটগুলো করতে। ফলে ঈদের দিনও এবার ফিটনেস নিয়ে কাজ করব।
খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রেও এবার সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এক মাস ট্রেনিং করে ফিটনেস যে জায়গায় নিয়ে এসেছি, এটাকে তো নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এর বাইরে যতটা সম্ভব এবার বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের সময় দেব। কারণ খেলার কারণে ওদের ওভাবে সময় দেওয়া হয় না। এবারের ছুটি তাই পরিবারকেই দেব ভেবেছি।
ঈদের মায়ের হাতের তেহারি আমার খুব প্রিয়। খাওয়া দাওয়ায় সতর্কতা থাকলেও মায়ের হাতের তেহারিটা মিস করতে চাই না। ঈদ গাঁয়ে গিয়ে নামাজ পড়া তো আছেই। তবে ঈদ এলে ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ে। ছোটবেলায় আব্বু শপিং করতে নিয়ে যেত। এখন তো নিজের শপিং নিজেরই করতে হয়। আগে অনেক গিফটও পেতাম, এখন সবাইকে গিফট দিতে হয়। এটার মধ্যেও আনন্দ আছে। তবে গিফট পাওয়ার আনন্দটাই বেশি ছিল।
ঘুমিয়ে কাটাব
মাছুরা পারভীন, ফুটবলার
ঈদের দিনের ঘুমটা আমার খুব প্রিয়। এবারও তাই ঈদের দিন ঘুমাব। আর যে রোদ পড়েছে এবার! এই রোদের ভেতর তো ঘুরে বেড়ানোর উপায় নেই। বাধ্য হয়েই দেখবেন অনেককে বাসায় কাটাতে হবে। ঘুরতে বের হলেও সেটা বিকেলে বের হতে হবে। তবে আমার এমন নির্দিষ্ট রুটিন নেই। হ্যাঁ, রুটিন একটা আছে। যেটা শুরুতে বললাম- ঘুম। ঠিক করেছি বেশি করে ঘুমাব (হাসি)।
আসলে সারা বছর কঠোর ট্রেনিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়। ছুটি খুব বেশি পাওয়া হয় না। ঈদের সময়ই যা একটু ছুটি মেলে আমাদের। এবার অবশ্য একটু ব্যতিক্রম। লম্বা সময়ের ছুটি পেয়েছি আমরা। ছুটিটা উপভোগই করছি। এর মধ্যে ঈদও চলে এসেছে। আমার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরাতেই ঈদ করব।
ঘুমের কথা বললাম। আসলে এটা এখনকার ঈদে হয়তো অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে। তবে আমি কিন্তু আগে অনেক ঘুরে বেড়াতাম। আগে বলতে আমি আমার ছোটবেলার কথা বলছি। ছোটবেলার ঈদটাই প্রকৃত ঈদ ছিল। অনেক অনেক আনন্দ হতো। এখন আর ছোটবেলার মতো আনন্দটা পাই না। ঈদের দিনে বিশেষ কিছু করতে হবে এমন কোনো কিছু আমার বেলায় নেই। বিশেষ কোনো কিছু রান্না করি, এটাও হয় না কখনো। মা রান্না করে। মায়ের হাতের রান্না খেতেই মুখিয়ে থাকি।
এবার নতুন অভিজ্ঞতা হবে
মনন রেজা নীড়, দাবাড়ু
এবারের ঈদ আমার জন্য একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতার হতে যাচ্ছে। বলতে পারেন নতুন পরিবেশে নতুন এক ঈদ কাটাব এবার। কারণ আমি বেড়ে উঠেছি নারায়ণগঞ্জে। আমার বন্ধু-বান্ধব সব ওখানেই। কিন্তু কিছুদিন আগে নায়ারণগঞ্জ থেকে ঢাকায় শিফট হয়েছি আমরা। সম্প্রতি রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে ভর্তি হয়েছি। পড়াশোনার জন্যই এদিকে আসতে হয়েছে। তবে এখনো এই দিকে আমার বন্ধু-বান্ধব তেমন গড়ে ওঠেনি। একজন-দুজন বন্ধু আছে, হয়তো ওদের সঙ্গেই কাটবে দিন।
নারায়ণগঞ্জে থাকতে যেটা হতো, ঈদের দিনে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতাম। অনেকের বাসায়ও যেতাম। আমার আত্মীয়-স্বজনও সবাই ওদিকেই থাকে। সব মিলিয়ে ওদিকে বেটার ঈদ যেত। যেহেতু ওদিকেই আমার সব। বলতে পারেন, এবারের ঈদে নারায়ণগঞ্জকে খুব মিস করব। সব সময়ই আসলে করি। কদিন আগে যেমন তিন দিনের জন্য নারায়ণগঞ্জ ঘুরে এলাম। ফুটবল খেললাম সবার সঙ্গে। ঢাকায় তো ফুটবল খেলার তেমন জায়গা নেই। আবার কোথাও জায়গা মিললে দেখা যায় খেলোয়াড় নেই। কিন্তু ওদিকে অনেক খেলোয়াড়। খেলোয়াড় এত বেশি যে অনেক সময় খেলতে গিয়ে বসেও থাকতে হতো।
ঈদের দিন নামাজ পড়েই দিন শুরু হয়। এবার ঢাকাতেই ঈদের নামাজ আদায় করব। ঈদের দিন মা গরুর মাংস রান্না করেন। মার হাতের গরুর মাংস আমার খুব প্রিয়।