রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ হয়েছে ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জিতেছে ইতালি। ইনজুরি টাইমে সান্দ্রো টোনালি দারুণ এক শটে ৪-৪ সমতায় থাকা ম্যাচকে নিয়ে যান ৫-৪ স্কোরলাইনে। ফলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইতালি।
ম্যাচে দুই দলই বেশ আক্রমণে ছিল। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছিল না। কিন্তু ১৬ ম্যানুয়েল লোকাতেলি আত্মঘাতী গোল করলে এগিয়ে যায় ইসরায়েল। সেই গোল ইতালি শোধ করে ৪০ মিনিটে মোইস কিনের প্রচেষ্টায়। ম্যাচে ফেরে সমতা। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-১ সমতাতেই।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে ডর পেরেটজে গোল করে ইতালিকে আবারও এগিয়ে নেন। মিনিট দুয়েক পর ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে আবারও স্কোরলাইন সমান করে ইতালি। এবারও গোল করেন মাইস কিন।
মিনিট চারেক পর ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মাত্তেও পলিতানো গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আজ্জুরইয়া। ৮১ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন জিয়াকোমো রাসপাদোরি। ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইতালি জয়ের দ্বারপ্রান্তে মনে হচ্ছিল।
কিন্তু নাটকের তখনও ছিল বাকি। ফের ইসরায়েকে আত্মঘাতী গোল উপহার দেয় ইতালি। আলেসসান্দ্রো বাস্তোনির ভুলের পর ৮৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে পেরেটজে ফিরিয়ে আনেন আবারও ম্যাচের সমতা।
৮৯ মিনিটে ইতালির গোলে ধারণা করা হচ্ছিল, ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়বে দুই দল। কিন্তু রোমাঞ্চের ছিল তখনও বাকি। যোগ করা সময়ে টোনালির নিচু শট প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে জালে জড়ালে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পায় আজ্জুরিরা।
গ্রুপ ‘আই’-তে এটি ইতালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয়। কারণ নরওয়ে এরই মধ্যে টানা চার ম্যাচ জিতে শীর্ষে রয়েছে। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে হলে গ্রুপসেরা হতে হবে ইতালিকে, নইলে অপেক্ষা করছে প্লে-অফের কঠিন পথ। ইতালি এর আগে টানা দুই আসরে (২০১৮ রাশিয়া ও ২০২২ কাতার) বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে তারা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
আগামী ১১ অক্টোবর এস্তোনিয়ার মাঠে নামবে ইতালি। এরপর ১৪ অক্টোবর ঘরের মাঠে আবারও মুখোমুখি হবে ইসরায়েলের, ১৩ নভেম্বর খেলবে মলদোভার বিপক্ষে। সর্বশেষে ১৬ নভেম্বর গ্রুপের সম্ভাব্য শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নরওয়ের মোকাবিলা করবে আজ্জুরিরা।
নিলয়/