মাঠে লড়বে ভারত-পাকিস্তান, বাইরে থাকবে না শোরগোল- এমনটা হওয়ার নয়। হচ্ছেও না। বরং নতুন মহারণকে ঘিরে ধরেছে নতুন আশঙ্কা। হ্যান্ডশেক বিতর্কের পর এবার কী? যদিও প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ২২ গজের ক্রিকেটে ভদ্রতার বিপরীতে ঘটতে পারে ভিন্ন কিছু। যেমনটার ইঙ্গিত দেয় পাকিস্তান দলের প্রি-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলন বয়কটের ঘটনা। তাদের চটিয়ে ভারত অবশ্য ক্রিকেটীয় মেজাজে কিন্তু প্রতিপক্ষের শিবির উত্তাল প্রতিবাদের দমকা বাতাসে।
আজ এশিয়া কাপের আরেকটি মহারণ। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী- ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে সুপার ফোরের ম্যাচে। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাইরের শোরগোল নয়, তাদের মনোযোগ কেবল ক্রিকেটে। অপরদিকে ভারত ম্যাচের আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনই বয়কট করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাপট কঠিন পাকিস্তানের জন্য। কীভাবে দলটি ক্রিকেটে মনোযোগ দিচ্ছে, তা এক বড় প্রশ্ন। মনোযোগে যে বিঘ্ন ঘটেছে তারই বাস্তব প্রমাণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে তাদের শেষ গ্রুপপর্বের ম্যাচটি। হ্যান্ডশেক বিতর্কে পিসিবির প্রতিবাদের কারণে সেই ম্যাচটি শুরু হয়েছিল এক ঘণ্টা বিলম্বে। প্রতিপক্ষ দুর্বল হওয়ায় ৪১ রানের জয় ঠিকই তুলে নিয়েছিল পাকিস্তান, কিন্তু প্রথমে ব্যাটিং করে বহু কষ্টে তাদের খাতায় যোগ করতে পেরেছিল ১৪৬ রান।
শক্তি বিবেচনায় বলাই যায়, ১৪০-১৬০ রান কখনোই নয় ভারতের বিপক্ষে। অর্থাৎ শুরুতে ব্যাটিং করতে ডিফেন্ড করার মতো সাহসী স্কোর লাগবে পাকিস্তানের। আর শুরুতে বোলিং করলে প্রতিপক্ষকে বেঁধে রাখতে হবে অল্প রানে। এক কথায়- শক্তিতে এগিয়ে থাকা ভারতকে বধ করতে হলে নিখুঁত ক্রিকেট খেলার বিকল্প নেই পাকিস্তানের। তারা কি পারবে প্রতিবাদী মানসিকতার মতো ব্যাট-বলে হাতেও শক্ত হতে? প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে ম্যাচ শেষেই।
এদিক থেকে ভারত নির্ভার। যেমনটা আগেই বলা হয়েছে- পাকিস্তানকে চটিয়ে তারা ডুবে আছে ক্রিকেটে। এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বে দুটো দল শতভাগ জয় পেয়েছে। শ্রীলঙ্কা এবং ভারত। প্রথম তিন ম্যাচে সূর্যকুমারদের পারফরম্যান্স ছিল নির্ভুল। সেই ছন্দই সুপার ফোরে ধরে রাখার প্রত্যয় ভারতীয় অধিনায়কের কণ্ঠে। তার কথায়, ‘তিনটা ভালো ম্যাচ খেলেছি। তাই আমরা আসলে কেবল নিজের সেরা পারফরম্যান্সের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
গ্রুপপর্বের মহারণে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারায় ভারত। অতীত পরিসংখ্যানেও ঢের এগিয়ে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে আগের ১৪ সাক্ষাতে ভারত জিতেছে ১১টিতে এবং পাকিস্তান ৩টিতে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে চারবার দেখা হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। ভারতের জয় ৩, পাকিস্তানের ১। দুবাইয়ে তিনবারের সাক্ষাতে ভারতের জয় ২টি, পাকিস্তানের ১টি। তাহলে ভারতের জয়ের খাতা আরেকটু ভারী হবে আজ? এমন প্রশ্নের জবাবে সূর্যকুমার বলেন, ‘এটা আমাদের কোনো বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না যে, আমরা তাদের একবার (গ্রুপপর্বে) হারিয়েছি। প্রতিটি ম্যাচই নতুনভাবে শুরু করতে হয়। যেই দল ভালো খেলবে, তারাই জিতবে।’
পলাশ/নিলয়/