ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

পাকিস্তানের করাচিতে কোরবানির ২৫ ছাগল চুরি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
পাকিস্তানের করাচিতে কোরবানির ২৫ ছাগল চুরি
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের করাচি শহরে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে ২৫টি ছাগল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে জানায় পুলিশ ও মালিকপক্ষ।

শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে গুলিস্তান-ই-জোহরের ৮-এ ব্লকের একটি খালি মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

ঈদুল আজহার আগে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে ছাগলগুলো বেঁধে রাখা হয়েছিল।

পুলিশের তথ্যমতে, কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তারা ছাগলগুলো একটি মিনি ট্রাকে তুলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ছাগলগুলো গাড়িতে তোলে নিয়ে যাচ্ছেন।

ছাগলগুলোর মালিক মুহাম্মদ ওসামা খান জানান, চুরি হওয়া পশুগুলোর মূল্য ১৯ লাখ পাকিস্তানি রুপিরও বেশি। 

তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য ছাগলগুলো করাচিতে আনা হয়েছিল।

এ ঘটনায় মালির ক্যান্টনমেন্ট থানায় চুরির একটি অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদুল আজহার আগে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে কোরবানির পশু চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফলে ব্যবসায়ী ও পশু বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: জিও টিভি

অমিয়/

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব সাইকেল দিবস। অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কির উদ্যোগে ২০১৮ সালে ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ।

তারপর থেকে প্রতিবছর এ দিনে বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় দিবসটি। মঙ্গলবার (৩ জুন) বাংলাদেশেও সীমিত পরিসরে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সাইকেল দিবস। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সাইকেল রাইড সংগঠনগুলো নিয়েছে নানা কর্মসূচি।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি, তিনি বাইসাইকেল নিয়ে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ বিশ্বে সাইকেলের সমর্থনে একটি দিন নির্ধারণ করা।

২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবে তুর্কমেনিস্তান ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছিল এবং প্রায় ৫৬টি দেশ পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল।

সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য মূলত এই দিবস উদযাপন করা হয়। সাইকেল এমন একটি যানবাহন যা ধনী থেকে গরিব সবাই বহন করতে পারে। এটি বায়ু দুষণ কমায় এবং যানজট কমায়।

গবেষণা বলছে, যদি শহরের ১০% যাত্রা সাইকেলে হয়, তাহলে একটি মাঝারি শহরের কার্বন নির্গমন বছরে প্রায় ১১% কমতে পারে।

সাইকেলে চড়ে কেউ জীবিকার তাগিদে বের হন। কেউবা আবার বের হন মনের ক্ষুধা মেটাতে, রোমাঞ্চের খোঁজে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। কারও কারও কাছে সাইকেল মানে স্বাধীনতা। আপন ভুবনে নিজের মতো করে চলা এবং সব বাধা ঠেলে সামনে এগিয়ে চলা।

সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

তামান্না রুপা/আমান

গরমের বিপদ হিট স্ট্রোক, ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
গরমের বিপদ হিট স্ট্রোক, ঝুঁকি এড়াতে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে প্রচণ্ড দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। সারা দেশেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা, আর তীব্র গরমে দিশেহারা মানুষ এবং প্রাণীকুল। এছাড়া নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। তবে এমন গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।

হিট স্ট্রোক কী?

গরমের সময়ের একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যগত সমস্যার নাম ‘হিট স্ট্রোক’। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়। শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে ঘাম বন্ধ হয়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায় তখন জরুরি অবস্থাকে হিট স্ট্রোক বলে।

হিট স্ট্রোক কাদের বেশি হয়?

প্রচণ্ড গরমে ও আর্দ্রতায় যে কারও হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেমন—

(১) শিশু ও বৃদ্ধদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকায় হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরা যেহেতু প্রায়ই বিভিন্ন রোগে ভোগেন যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার বা হার্টের রোগী, স্ট্রোক বা ক্যান্সারজনিত রোগে যারা ভোগেন, এমনকি যেকোনো কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কিংবা নানা ওষুধ সেবন করেন, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

(২) যারা দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক।

(৩) শরীরে পানিস্বল্পতা হলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

(৪) কিছু কিছু ওষুধ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় বিশেষ করে প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ, বিষণ্নতার ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ ইত্যাদি।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো কী?

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক হিট ক্র্যাম্প অথবা হিট এক্সহসশন হতে পারে। হিট ক্র্যাম্পে শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়।

এর পরের ধাপে হিট এক্সহসশনে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো—

(১) শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রিº ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।

(২) ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।

(৩) ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।

(৪) নিশ্বাস দ্রুত হয়।

(৫) নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।

(৬) রক্তচাপ কমে যায়।

(৭) খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।

(৮) প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।

(৯) রোগী শকেও চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায় কী?

গরমের দিনে কিছু সতর্কতা মেনে চললে হিট স্ট্রোকের বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। এগুলো হলো—

(১) হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। কাপড় সাদা বা হালকা রঙের হতে হবে। সুতি কাপড় হলে ভালো।

(২) যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন।

(৩) বাইরে যেতে হলে মাথার জন্য চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন।

(৪) বাইরে যারা কাজকর্মে নিয়োজিত থাকেন, তারা মাথায় ছাতা বা মাথা ঢাকার জন্য কাপড়জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারেন।

(৫) প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ দুই-ই বের হয়ে যায়। তাই পানির সঙ্গে সঙ্গে লবণযুক্ত পানীয় যেমন-খাবার স্যালাইন, ফলের রস, লাচ্ছি ইত্যাদিও পান করতে হবে। পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ হতে হবে।

(৬) তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী পানীয় যেমন-চা ও কফি যথাসম্ভব কম পান করা উচিত।

(৭) রোদের মধ্যে শ্রমসাধ্য কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এসব কাজ সম্ভব হলে রাতে বা খুব সকালে করুন। যদি দিনে করতেই হয়, তবে কিছুক্ষণ পরপর রোদ থেকে সরে গিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর লবণযুক্ত পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।

আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

প্রাথমিকভাবে হিট স্ট্রোকের আগে যখন হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসশন দেখা দেয়, তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই যা করতে পারেন তা হলো—

(১) দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যান। যদি সম্ভব হয়, ফ্যান বা এসি ছেড়ে দিন।

(২) ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।

(৩) প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন। চা বা কফি পান করবেন না।

কিন্তু যদি হিট স্ট্রোক হয়েই যায়, তবে রোগীকে অবশ্যই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, ঘরে চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে রোগীর আশপাশে যাঁরা থাকবেন তাদের করণীয় হলো—

(৪) রোগীকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যান।

(৫) তার কাপড় খুলে দিন।

(৬) শরীর পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করুন। এভাবে তাপমাত্রা কমাতে থাকুন।

(৭) সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিন।

(৮) রোগীর জ্ঞান থাকলে তাকে খাবার স্যালাইন দিন।

(৯) দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

(১০) সব সময় খেয়াল রাখবেন হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না। প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। হিট স্ট্রোকে জীবন বিপন্ন হতে পারে। এমনকি রোগী মারাও যেতে পারেন। গরমের এই সময়টায় সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া গেলে বেশির ভাগ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

(১১) গরমে শিশুদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি। বাচ্চাদের বেশি বেশি পানি খাওয়াতে হবে। তারা যেন রোদের মধ্যে অনেক বেশি দৌড়ঝাঁপ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ।

আরো পড়ুন>>

দিনাজপুরে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

আমান/

 

হানিমুনে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বরের

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
হানিমুনে যাওয়ার পথে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বরের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তরুণ পাইলট ডেভ ফিজি। ২৬ বছর বয়সী ডেভ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান সংস্থা ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর নববধূকে নিয়ে হানিমুনে যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেভ ফিজি ও তার স্ত্রী জেসনির বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জর্জিয়ার ডসনভিলে। প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। 

অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতিকে বিশেষভাবে বিদায় জানাতে তারা রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে করে ডিক্যালব-পিচট্রি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে তাদের আটলান্টার একটি হোটেলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ডসন কাউন্টির একটি দুর্গম বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ডেভ ফিজি ও হেলিকপ্টারের পাইলট নিহত হন। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান নববধূ জেসনি।

ডেভের বাবা জর্জ ফিজি জানান, দুর্ঘটনার আগে তার ছেলে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। একজন পাইলট হওয়ায় তিনি হেলিকপ্টার চালককে বলেছিলেন, দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে এবং এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত উড্ডয়ন করা হয় না। তবে পাইলট নাকি জানিয়েছিলেন, উঁচু উচ্চতায় উড়ে গেলে সমস্যা হবে না।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারের অবস্থান শনাক্ত করতে বেশ সময় নেয়। 

ডেভের বাবা জানান, আহত জেসনি প্রায় ছয় ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়েছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখেন, ডেভ তার বুকের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। একজন নার্স হওয়ায় জেসনি বুঝতে পারেন, তার স্বামী তখন আর বেঁচে নেই।

বর্তমানে জেসনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। 

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খারাপ আবহাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও এখনো চূড়ান্ত কারণ জানা যায়নি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন ডেভ ফিজি। তাদের আদি নিবাস কেরালায়। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

সৌন্দর্যচর্চা থেকে দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সময়ও খোলা থাকে চোখ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
সৌন্দর্যচর্চা থেকে দুঃস্বপ্ন, ঘুমের সময়ও খোলা থাকে চোখ
ছবি: সংগৃহীত

চীনের এক নারী ভুলভাবে করা কসমেটিক অস্ত্রোপচারের কারণে গত কয়েক বছর ধরে চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছেন না। এমনকি ঘুমানোর সময়ও তার চোখ খোলা থাকে। পাশাপাশি সারাক্ষণ চোখ দিয়ে পানি পড়া, মানসিক চাপ এবং অনিদ্রার মতো জটিল সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। 

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়াংসু প্রদেশের সুজৌ শহরের বাসিন্দা ওয়াং নামের ওই নারী ২০২০ সালে একটি বিউটি ক্লিনিকে ‘ডাবল আইলিড’ বা দ্বৈত চোখের পাতার অস্ত্রোপচার করান। এ জন্য তিনি প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান খরচ করেন। 

অস্ত্রোপচারের পরপরই তার চোখে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, চোখের পাতা অস্বাভাবিকভাবে উল্টে যায় এবং চোখে তরল জমতে থাকে। পরে জরুরি তাকে বড় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, অস্ত্রোপচারের সময় তার অশ্রুগ্রন্থি (ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড) ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো অপারেশনই ভুল পদ্ধতিতে করা হয়।

পরে আবার অস্ত্রোপচার করা হলেও তার চোখের পাতা আর স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়নি। ফলে ঘুমের সময়ও চোখ খোলা থাকে এবং নিয়মিত চোখ দিয়ে পানি পড়ে।

তদন্তে আরও উঠে আসে, যিনি অস্ত্রোপচার করেছিলেন তার কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছিল না। এমনকি সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটিরও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ওয়াং জানান, এই ঘটনার পর তার স্বাভাবিক জীবন প্রায় ভেঙে পড়েছে। চেহারার পরিবর্তনের কারণে তিনি মানুষের সামনে যেতে সংকোচ বোধ করতেন। কর্মজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি হতাশা ও অনিদ্রায় ভুগেছেন। ২০২২ সালে স্থানীয় ফরেনসিক কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক অবস্থাকে স্থায়ী অক্ষমতার একটি স্তর হিসেবে মূল্যায়ন করে।

পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ক্ষতিপূরণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং আইনি জটিলতা নতুন করে শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের এক রায় নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা এখনও আলোচনায় রয়েছে।

এই ঘটনা আবারও চীনের কসমেটিক সার্জারি খাতের নিরাপত্তা, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক এবং অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচার করার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অমিয়/

আজ বিশ্ব নেইল পলিশ দিবস

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১০:১৫ এএম
আজ বিশ্ব নেইল পলিশ দিবস
ছবি: ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার

আজ ১ লা জুন, বিশ্ব নেইল পলিশ দিবস। সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম জনপ্রিয় অনুষঙ্গ নেইল পলিশকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে নেইল পলিশের রয়েছে অসংখ্য রঙ ও বৈচিত্র্য। শুধু রূপচর্চায় নয়, বর্তমান সময়ে এটি ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতা প্রকাশেরও একটি বড় মাধ্যম।

ইতিহাস কী বলে?

ঐতিহাসিকদের মতে, নখ রাঙানোর এই প্রচলন কিন্তু আজকের নয়; বরং শুরু হয়েছিল প্রায় ৫ হাজার বছর আগে। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দ বা তারও আগে চীনে নখ সাজানোর রীতি প্রচলিত ছিল। সে সময় বিভিন্ন চীনা রাজবংশের সদস্যরা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে নখ রাঙাতেন।

একই সময়ে প্রাচীন ব্যাবিলনের যোদ্ধারাও যুদ্ধযাত্রার আগে মেহেদি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক রঞ্জক দিয়ে নখের রঙ পরিবর্তন করতেন।

আধুনিক রূপের সূচনা

নেইল পলিশের আধুনিক রূপটি মূলত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইউরোপে। ১৮ শতকের শেষ দিকে ধনী ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যে এটি ফ্যাশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্থান করে নেয়। এরপর ১৯ শতকের শুরুতে প্যারিসে প্রথম 'নেইল সেলুন' প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮০০ সালের শেষ দিকে এসে নেইল পলিশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

যেভাবে এলো এই দিবস

বিশ্ব নেইল পলিশ দিবসের সূচনা খুব বেশি দিন আগের নয়—২০১৭ সালের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় নেইল পলিশ ব্র্যান্ড 'ইসি' (Essie) প্রথম এই দিবসটি চালু করে। মূলত বাজারে নেইল পলিশের বিক্রিতে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, তাতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত 'ইসি' ব্র্যান্ডের এই উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। গ্রাহকরা নিজেদের নেইল পলিশে সাজানো নখের ছবি নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে শেয়ার করতে শুরু করেন।

প্রথম আয়োজনেই বিজয়ীদের জন্য ছিল বিশেষ পুরস্কার এবং গ্র্যান্ড প্রাইজ হিসেবে একজন সৌভাগ্যবান বিজয়ী পেয়েছিলেন ইসির ১০০টি নেইল পলিশের একটি বিশাল কালেকশন।

এরপর থেকে প্রতি বছর ১ জুন বিশ্বজুড়ে নেইল পলিশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। আজকেও দিনটিকে ঘিরে রূপ সচেতন মানুষেরা রঙিন নেইল পলিশে নখ সাজাচ্ছেন, ছবি শেয়ার করছেন এবং সৌন্দর্যের এই জনপ্রিয় অনুষঙ্গটিকে উদযাপন করছেন।

সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

আমান/