ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা রবিবার (১৭ নভেম্বর) সিবিএস নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘর্ষে মার্কিন নীতিতে এই পদক্ষেপ একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
তবে, হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সিবিএস নিউজকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, দুই মার্কিন কর্মকর্তাসহ তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইউক্রেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আক্রমণ চালাতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম রয়টার্স, এপি, নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য না করলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘মিসাইল নিজেরাই কথা বলবে।’
তিনি রাতে এক ভাষণে জানান,‘আজ অনেক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে আমরা যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণে অনুমতি পেয়েছি। তবে আমাদের পদক্ষেপ কথায় নয় কাজে প্রমাণ হবে। মিসাইলগুলো নিজেরাই কথা বলবে।’
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লো টমাস সিকোরস্কি সমর্থন জানিয়ে বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার ভাষা বুঝতে পারবেন।
রাশিয়ার পার্লামেন্ট মেম্বার ভ্লাদিমির ঝাবারভ মন্তব্য করেছেন, ইউক্রেনকে মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভিতরে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলে এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। আর রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া হবে তাৎক্ষণিক এবং কঠোর।
সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই সিদ্ধান্ত বাইডেনের ক্ষমতা শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাস আগে এসেছে, যেখানে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন। তবে ট্রাম্প এবং তার নতুন প্রশাসন ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন এবং আক্রমণের মার্কিন অস্ত্রের ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রাখবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএসএস) ব্যবহার করবে ইউক্রেন। যার পরিসীমা ৩০৬ কিলোমিটার পর্যন্ত। রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে এই মিসাইলগুলি ব্যবহারে অনুমতি চেয়ে আসছিল।
এদিকে, ফ্রান্সের দৈনিক লে ফিগারো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে তাদের দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রস্তুত।
আল-জাজিরার কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস বেস বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনকে সহায়তা করা। বিশেষত কুরস্ক, যা সম্প্রতি রাশিয়ার দখল থেকে পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন।
মস্কো ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর এই সিদ্ধান্তকে তারা কোনোভাবে ছাড় দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় মিত্র। দেশটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে ৫৬.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে ইউক্রেনকে। সূত্র: আল-জাজিরা, সিবিএস নিউজ
তাওফিক/অমিয়/