দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় আরও হামলার সম্মুখীন হতে হবে- তেহরানের এমন সতর্কবার্তার পর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে একাধিক পোস্টে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার (৭ জুন) রাত প্রায় ১০টা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক দফা হামলা চালানো হয়, যার ফলে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান তাদের ভূখণ্ডের দিকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং দেশজুড়ে সাইরেন বেজে উঠেছে। তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলা চালানো হলো।
লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচল নিষিদ্ধ করবে হুথিরা
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে যে, তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচল নিষিদ্ধ করবে এবং এই জলপথে ইসরায়েল-সমর্থিত জাহাজগুলো আবারও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তারা এক বিবৃতিতে আরও বলেছে যে, তারা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে। হুথিরা আরও যোগ করেছে যে, উত্তেজনা বাড়লে তারাও পাল্টা উত্তেজনা দিয়ে জবাব দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ‘উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই’: ইইউ-এর শীর্ষ কূটনীতিক
ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইইউ-এর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কায়া কালাস দেশ দুটিকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কালাস বলেন, রবিবার রাতেই আমরা আবারও উত্তেজনা বাড়তে দেখেছি। আমি মনে করি, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, বরং পক্ষগুলোর উচিত আলোচনার টেবিলে বসে একটি চুক্তিতে আসা।
ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে
ইরানের মেহর নিউজ অ্যাজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানান হয়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ শহরের চারপাশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সক্রিয় করা হয়েছে।
ইরানি গুপ্তচর সন্দেহে ইসরায়েলে এক ব্যক্তি অভিযুক্ত
দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, তেল আবিবের এক ব্যক্তি ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের শুরু থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে ইরানের জন্য নিরাপত্তা-সম্পর্কিত দায়িত্ব পালনে সম্মত হয়েছিলেন।
ইসরায়েলি হামলায় ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান
ইসরায়েলি হামলায় মাহশাহরের পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এখানকার সব কর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাবরিজ, কারাজ, ইসফাহান এবং রাজধানী তেহরানসহ মোট চারটি শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আইআরজিসি এবং অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বলছেন, ইসরায়েলের ওপর হামলা ছিল একটি সতর্কতামূলক সংকেত। কিন্তু এরপর কী ঘটতে পারে তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বলছে, লেবাননসহ একটি আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি অবশ্যই হতে হবে। যদি ইসরায়েলিরা লেবাননে, বিশেষ করে বৈরুতের দাহিয়েতে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরানিরা প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং পাল্টা জবাব দেবে।
তারা আরও বলছে, 'আমরা জানি যে আমরা অত্যন্ত নাজুক ও ভঙ্গুর পরিস্থিতির সম্মুখীন। যদিও আমাদের যুদ্ধবিরতি খুব অল্প সময়ের জন্য ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে আমরা আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে রয়েছি'।
থিও/অমিয়/