প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশ্বের তাপমাত্রা। তবে এই অগ্রগতি সুখকর কিছু না। উত্তর গোলার্ধের আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলায় বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। ঘরছাড়া হচ্ছেন দ্বীপরাষ্ট্রের বাসিন্দারা। এই দুচিন্তার ঝুড়িতে নতুন খবর যোগ করলেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু নিরীক্ষণ কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৪ সালে আগের তুলনায় বিশ্বের গড় তাপমাত্রা এক দশমিক ছয় ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপের কোপার্নিকাস অবজারভেশন অ্যাজেন্সির (সিওএ) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ইতিহাসে এ পর্যন্ত উষ্ণতম বছর ২০২৪।
এর আগে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এই মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানায় সিএও।
এ প্রসঙ্গে সিএও-এর পরিচালক কার্লো বুয়োনটেম্পো বলেন, ‘নিজের চোখে বিশ্বের যে ধ্বংসকামী অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো না।’
গেল বছরের বন্যা ও অতাধিক গরমের পেছনে মানুষের জলবায়ুর প্রতি খামখেয়ালিপনাকেই দায়ী করেন তিনি।
তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে এল নিনো ফেনোমেনকেও কিছুটা দায়ী বলে ধারণা তার।
সিওএ বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম দশক।
কার্বন নিঃসরণের কারণে বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত তাপ সমুদ্র শুষে নিতে পারছে না বলেও জানায় সংস্থাটি।
রিডিং ইউনিভার্সিটিত জলবায়ু গবেষক প্যাট্রিক ম্যাগুয়ারের আশঙ্কা, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই মাইলফলক সুনামির পূর্বমূহুর্তের ঠান্ডা বাতাসের মত। অল্প কিছুক্ষনের মাধ্যমেও ধ্বংসলীলা শুরু হবে।’
ম্যাগুয়ার বলেন, ‘সংখ্যাটা দেখতে ছোট বলে আমরা এর গুরুত্ব ধরতে পারি না। তবে বোঝা জরুরি, তাপমাত্রায় সামান্য বৃদ্ধিও বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার অনেক বাড়াতে পারে।’
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফরকাস্টের কর্মকর্তা সামান্থা বার্গেস বলেন, ‘আমাদের বাবা-দাদার আমলে আবহাওয়া যেমন ছিল, এখন তা একদমই নেই। বর্তমানে জলবায়ু অনেকটাই পাল্টে গেছে।’
বর্তমান বিশ্বের তাপমাত্রা গত ১ লাখ ২৫ হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পরিবেশবাদিরা যথাযথ পদক্ষেপের দাবি করলেও বিশ্বমোড়লদের দিক থেকে আন্তরিক সাড়া আসছে না। সূত্র: ব্লুমবার্গ।
নাইমুর/