চলমান সংঘাতে ফ্রান্সের তৈরি ভারতীয় যুদ্ধবিমান রাফালের বিরুদ্ধে চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে, পাকিস্তান পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি রাফাল জেট, একটি মিগ-২৯ এবং একটি সুখই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার (৮ মে) চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাকিস্তান অন্তত দুটি ভারতীয় সামরিক বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে রয়টার্সকে জানান দুই মার্কিন কর্মকর্তা। বিষয়টি চীনের উন্নত যুদ্ধবিমানের পারদর্শিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
আরেকদিকে, পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বিবৃতিতে একই বিমানের তালিকা প্রকাশ করেন।
কে এগিয়ে পাকিস্তানের চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান নাকি ভারতের হাতে থাকা ফরাসি প্রযুক্তির রাফাল যুদ্ধবিমান?
রাফাল এবং জে-১০, দুটিই ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমানের শীর্ষ সারির। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি পাকিস্তান সত্যিই কোনো রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে থাকে, তাহলে এটি হবে অত্যাধুনিক ফরাসি প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমানের ইতিহাসে প্রথম ব্যর্থতার গল্প।
যুদ্ধ অভিযানের সময় এখন পর্যন্ত কোনো রাফাল কখনও হারিয়ে যায়নি। সেক্ষেত্রে যদি এই বিষয়টি এখন নিশ্চিত করা হয়, তবে রাফাল যুদ্ধ বিমানের ওপর ভরসা করে ভারত একটি বড় ধাক্কা খেল।
গত মাসেই, ভারত ও ফ্রান্স ২৬টি রাফাল-এম, যুদ্ধবিমানের নৌ-ভার্সন কেনার জন্য ৬৩ হাজার কোটি টাকার (প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
এদিকে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় রাফাল জেট বিমানের ওপর জে-১০ ফাইটারদের ‘সাফল্য’ উদ্যাপন করছেন চীনারা।
পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এই দাবি এখনো প্রমাণিত না হলেও, চীনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিডিয়া এবং সামরিক ব্লগাররা এটিকে সমর্থন করেছেন।
একই তথ্য চীনা সংবাদ সংস্থা এবং ব্লগিং সাইট সোহুতেও গ্রহণ করা হয়, যেখানে চীনা সামরিক ব্লগার এবং নেটিজেনেরা ভারতের রাফাল ভূপাতিত করার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
এরকম একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান চীনের ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ছয়টি রাফাল ভূপাতিত করেছে। এক্ষেত্রে প্রথমে তারা সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে এবং তারপর আরেকটি বিমান দিয়ে হামলা চালায়।
এদিকে, আরেকটি প্রতিবেদনে এটিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে গুরুতর বিমান ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
চীন ইনস্টিটিউট অফ মডার্ন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের অ্যাকাডেমিক কমিটির ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল হু শিশেং বলেন, ‘ভারত আরও উন্নত আমেরিকান ফাইটার, যেমন আমেরিকান এফ-৩৫ কেনার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে পারে, অথবা ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটারগুলোতে গবেষণা ও উন্নয়ন বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।’
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জে-১০সিপি (ভায়া এক্স)
পাকিস্তানের হাতে চীনা জে-১০সিপি-এর ভারতীয় রাফালের চেয়ে দীর্ঘ শনাক্তকরণ পরিসর রয়েছে, পাশাপাশি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ক্ষমতাও রয়েছে।
এটি মূলত এর উন্নত RBE2 AESA রাডারের কারণে সম্ভব হয়, যার শনাক্তকরণ পরিসীমা ২০০-২৪০ কিলোমিটারের বেশি বলে জানা গেছে। বিপরীতে J-10CP এর পরিসীমা প্রায় ১২০ থেকে ২০০ কিলোমিটার।
চীনা ব্লগাররা PL-15E ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার দিকেও ইঙ্গিত করেন, যা PAF J-10CP দ্বারা IAF যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
এতে বলা হয়, ‘PL-15E এর পাল্লা ১৫০ কিলোমিটার। J-10CE এর সক্রিয় ফেজড অ্যারে রাডারের সাহায্যে, এটি BVR যুদ্ধে ভারতের রাফাল এবং Su-30MKI এর মতো উন্নত যোদ্ধাদের লক এবং গুলি করে নামাতে পারে।’
এর আগে, চীনা গণমাধ্যম পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের দাবিকে সমর্থন করে জানায়, J-10C যুদ্ধবিমানগুলো রাফালের রাডার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সফলভাবে হস্তক্ষেপ করে, যার ফলে বিমানটি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং ২৯ এপ্রিল শ্রীনগরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। যদিও ঘটনাটি এখনও যাচাই করা হয়নি।
চীন পাকিস্তানকে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করে। তাই এই দাবিগুলো মোটেও অবাক করার মতো নয়। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বারবার উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান কেবল রাফাল মোকাবেলা করার জন্য J-10C সংগ্রহ করেছে।
জে-১০ যুদ্ধবিমান ও পশ্চিমা প্রযুক্তির রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যকার এই টক্কর বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় সামরিক শক্তি। কেননা সম্ভাব্য তাইওয়ান সংঘাত বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এই পর্যবেক্ষণ কাজে লাগতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন এবং দ্য ইউর এশিয়ান টাইমস
সুলতানা দিনা/অমিয়/