ইয়েমেনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার ফাঁসি কার্যকর করা হবে ১৬ জুলাই। ইয়েমেনের নাগরিক তালাল আবদো মেহদিকে হত্যার দায়ে ৩৭ বছর বয়সি নিমিশা প্রিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এক সমাজকর্মীকে উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, এই আবহে ভারত সরকার তার জীবন বাঁচাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
মেহদিকে হত্যার অভিযোগে ২০১৭ সাল থেকে ইয়েমেনের কারাগারে রয়েছেন প্রিয়া।
ফাঁসি কার্যকরের ঘোষণায় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, তারা এই ঘটনার সমস্ত বিকল্প খতিয়ে দেখছে।
আর এরই মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বার্তা দিলো ইরান।
এদিকে নিমিশার হাতে খুন হওয়া মেহদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সেই দেশে যাচ্ছেন ভারতের এক সমাজকর্মী স্যামুয়েল জেরোম ভাস্করণ।
জানা যায়, নিমিশা প্রিয়া কেরলের পলক্কড় জেলার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে স্বামীর সঙ্গে ইয়েমেনে থাকতেন। ২০১৪ সালে তার স্বামী এবং মেয়ে ভারতে ফিরে আসেন। এদিকে ২০১৬ সালে ইয়েমন থেকে যাতায়তে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। তখন ইয়েমেনে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করতেন প্রিয়া। সেখানেই মেহদির সঙ্গে পরিচয় হয়।
পরবর্তীতে মেহদি প্রিয়াকে একটি ক্লিনিক খোলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কারণ, ইয়েমেনে কোনো বিদেশি নাগরিক যদি ক্লিনিক খুলতে চায়, তাহলে তাকে স্থানীয় কারও সঙ্গে পার্টনারশিপে খুলতে হবে। সে কারণেই মেহদিকে প্রয়োজন ছিল প্রিয়ার। এই আবহে ২০১৫ সালে মেহদির সাহায্যে ক্লিনিক খোলেন প্রিয়া।
পরে মেহদির সঙ্গে তার মতপার্থক্য দেখা দেয়। মেহদি প্রিয়ার পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেন। এর জেরে সেই দেশেই আটকে পড়েন তিনি। এদিকে প্রিয়াকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেন মেহদি। প্রিয়াকে অত্যাচারও করতেন তিনি। পরে প্রিয়া পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন মেহদির নামে। ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারও হয় মেহদি। পরে অবশ্য সে ছাড়া পেয়ে যান।
এরপর ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই মেহদিকে ঘুম পাড়ানো ইনজেকশন দেয় প্রিয়া। তার উদ্দেশ্য ছিল, লুকিয়ে রাখা পাসপোর্টটি নিয়ে ভারতে ফিরে আসা। তবে সেই ইনজেকশনের ওভারডোজে মৃত্যু হয় মেহদির। পরে প্রিয়া এক বান্ধবীকে নিয়ে মেহদির দেহ কেটে ক্লিনিকের ট্যাঙ্কে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে ২০১৮ সালে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন প্রিয়া। পরে সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু শীর্ষ আদালতেও হেরে যান প্রিয়া। পরে গত জানুয়ারি মাসে প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন দেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ মোহাম্মদ আল-আলিমি।
অমিয়/