সিরিয়ার সরকার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা শহর থেকে বেদুইন যোদ্ধাদের সরিয়ে দিয়ে পুরো প্রদেশজুড়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সেনা মোতায়েন করেছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) এই ঘোষণা আসে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নতুন যুদ্ধবিরতির নির্দেশের পর, যা বেদুইন ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে দেওয়া হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি হয়, যাতে সিরিয়ার ওপর ইসরায়েলি সামরিক হামলা এড়ানো যায়। তবে সরকারি ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেও সুয়েইদা শহরে মেশিনগানের গুলির শব্দ এবং আশপাশের গ্রামে মর্টার শেল পড়ার খবর পাওয়া যায়। হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুর আল-দিন বাবা জানান, জোরালো প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং সরকারের সেনা মোতায়েনের পর সুয়েইদা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছে ও শহরটি বেদুইন যোদ্ধামুক্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এক দ্রুজ ট্রাকচালককে অপহরণকে কেন্দ্র করে গত ১৩ জুলাই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রতিশোধমূলক হামলার জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেদুইন যোদ্ধারা সুয়েইদায় জড়ো হয়। এই সংঘাতে সরকারি বাহিনীও যুক্ত হয়।
গত বুধবার ইসরায়েল সুয়েইদা ও রাজধানী দামেস্কে বিমান হামলা চালায়, দাবি করে যে তারা দ্রুজদের সুরক্ষায় হামলা চালাচ্ছে। সংঘর্ষে সরকারি বাহিনী বৃহস্পতিবার সুয়েইদা থেকে সরে যায়।
সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জন নিহত ও ১ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছে। তবে স্বাধীন সূত্রগুলো এই সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে বলেই জানিয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ।
বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা প্রেসিডেন্ট হওয়া আহমেদ আল-শারার জন্য এটি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি সব পক্ষকে অস্ত্র নামিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা বেদুইনদের সাহসিকতার প্রশংসা করি, তবে এখন প্রয়োজন রাষ্ট্রের নির্দেশনা মানা এবং ঐক্য ও সহযোগিতা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।’
ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে শারার বলেন, এই আক্রমণ আমাদের দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর সরকার আবার সুয়েইদায় সেনা পাঠায় এবং বেদুইন গোষ্ঠীগুলো জানায়, তারা শহর ছাড়বে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আমরা যুক্তিসঙ্গত পথ বেছে নিচ্ছি এবং সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার সুযোগ দিচ্ছি। আমাদের সব যোদ্ধা শহর ছেড়ে গেছে।
এদিকে দ্রুজদের পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত মিলেছে। দ্রুজ ধর্মীয় নেতা হিকমাত আল-হাজরি বেদুইন যোদ্ধাদের নিরাপদে সুয়েইদা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কিছু দ্রুজ নেতার বিরোধিতা ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবরও মিলছে, যা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জর্ডান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র- তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সুয়েইদার যুদ্ধবিরতি রক্ষায় একত্রে কাজ করার বিষয়ে বৈঠক করেছেন। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আটকদের মুক্তি, সেনা মোতায়েন ও সামাজিক পুনর্মিলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্য, জাপান ফ্রান্সসহ বহু দেশ সব পক্ষকে সংযম দেখাতে বলেছে ও সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা