তুরস্কের যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে আঙ্কারা।
বুধবার (১৭ জুলাই) ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলায় তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার এবং ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এই সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং-MOU) স্বাক্ষর করেন। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
নাটোর সদস্য দেশ তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোফাইটার টাইফুনের ৪০টি যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। এই বিমানগুলো ব্রিটেন, জার্মানি ও ইতালির একটি যৌথ কনসোর্টিয়াম তৈরি করে। যদিও শুরুতে জার্মানি এই বিক্রয়ের বিরোধিতা করেছিল বলে জানা যায়, তবে পরে তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। পুরো আলোচনায় নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাজ্য।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সমঝোতা দুই দেশকে “টাইফুন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ স্বাক্ষরের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “উভয় মন্ত্রী এই স্বাক্ষরকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তুরস্ককে টাইফুন ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।”
ব্রিটেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিএই (BAE) সিস্টেমস, যারা কনসোর্টিয়ামের অংশ, এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে, তারা তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের সরকারগুলোর সঙ্গে মিলে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।
তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো মূল্য নির্ধারণ এবং কারিগরি শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক একটি প্রস্তাব পেয়েছে আঙ্কারা এবং তারা একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এস-৪০০ সিস্টেম এফ-৩৫-এর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।
এদিকে তুরস্ক নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN) তৈরি করছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
মাহফুজ/