বিরোধপূর্ণ সীমান্তে থাই এবং কম্বোডিয়ান সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকসহ ১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ।
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানায়, কম্বোডিয়ার সৈন্যরা প্রথমে ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আক্রমণের শিকার হওয়ার পর তাদের সৈন্যরা আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায়।
এদিকে, এই গোলাগুলির ঘটনায় থাইল্যান্ডের ১০ বেসমারিক নাগরিক নিহত হওয়ার জেরে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে থাই সরকার। কম্বোডিয়ায় বসবাসকারী থাই নাগরিকদের থাইল্যান্ডে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
থাই প্রশাসন জানায়, নিহতদের মধ্যে এক শিশুও আছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম থাই পিবিএস জানায়, কম্বোডিয়া বৃহস[প্তিবার সকালে থাইল্যান্ডের একটি গ্রামের মাঝখানে দুটি বিএম-২১ রকেট নিক্ষেপ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সুরিন প্রদেশের কব চুয়াং জেলায়। নিরাপত্তার কারণে ৮৬টি গ্রামের ৩০ থেকে ৪০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে থাই সেনাবাহিনী কম্বোডিয়ান সামরিক অবস্থানে নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে কম্বোডিয়াও থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিম্নস্তরে নামিয়ে এনেছে।
কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী বান দান জেলার বাসিন্দা সুতিয়ান ফিউচান জানান, এলাকাবাসী ইতোমধ্যেই সরে যেতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সত্যিই গুরুতর।
সীমান্ত নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার বিরোধের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ফরাসি শাসনামলে কম্বোডিয়ার সীমানা নির্ধারণের সময় থেকে এই বিরোধের শুরু। ২০০৮ সালে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের একটি মন্দিরকে কম্বোডিয়া ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে নিবন্ধনের চেষ্টা করলে থাইল্যান্ড প্রতিবাদ জানায়। তখনই সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। যেটির জেরে বিভিন্ন সময় দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের সেনা ও বেসামরিক লোকজন প্রাণ হারিয়েছেন।
সুলতানা দিনা/