তাৎক্ষণিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানে দ্বিতীয় দফা হামলার আশঙ্কার মধ্যেই নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল। আকাশপথে ইরানে দ্রুত ও দীর্ঘ-পাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা সম্প্রসারণে এগোচ্ছে ইসরায়েল এবং এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে আরও দুটি KC-46 রিফুয়েলিং ট্যাংকার কেনার চুক্তি করেছে দখলদার দেশটি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ক্রয় মিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন বোয়িং থেকে আরও দুইটি অতিরিক্ত KC-46 রিফুয়েলিং বিমান কেনার জন্য। এর আগে ইতোমধ্যেই চারটি বিমান অর্ডার করা হয়েছে, যা সিয়াটলে কারখানায় উৎপাদনে আছে।
নতুন চুক্তি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর দূরের লক্ষ্যবস্তু যেমন ইরান ও ইয়েমেনে অপারেশন চালানোর ক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করবে। বর্তমানে ইসরায়েলের রিফুয়েলিং ফ্লিট পুরাতন বিমানগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যা প্রায় ৬০ বছর বয়সী বোয়িং ৭০৭। দশ বছর আগে এগুলোকে প্রতিস্থাপন করার কথা ছিল, তবে রাজনৈতিক জটিলতা ও বাজেট ঘাটতির কারণে তা বিলম্বিত হয়।
প্রথম KC-46 বিমান ছয় মাসের মধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, বাকিগুলো, দুটি নতুন সংযোজনসহ, ধীরে ধীরে ২০৩০ সালের মধ্যে যোগ হবে।
এ বিমান যুক্ত হলে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে KC-46 বিমান পরিচালনা করা প্রথম দেশ হবে। এই বিমান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে দ্রুত এবং উন্নত রিফুয়েলিং সিস্টেম, সকল যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য ট্যাংকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য, এবং বিশেষ বুম ডিজাইন রয়েছে।
ছয়টি KC-46 ট্যাংকারের সঙ্গে পুরাতন ফ্লিট থাকায় তারা প্রায় ক্রমাগতভাবে ইরানের আকাশে উপস্থিত থাকতে পারবে এবং তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। এটি ইসরায়েলকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূরের, আকারে অনেক বড় আঞ্চলিক শক্তির উপর স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ দেবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সম্প্রসারিত ট্যাংকার ফ্লিট দৈনিক হামলার পরিসর বৃদ্ধি, UAV স্কোয়াড্রনের মতো অন্যান্য ইউনিটের জন্য নমনীয়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধ ও অপারেশনের ব্যপ্তি ছোট করতে সহায়তা করবে। আগে এক সপ্তাহের লড়াই কয়েক দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে, বিমানের ঝুঁকি কম থাকবে।
বোয়িং ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন বিমান বাহিনী কমান্ডার ইদো নেহুশতান বলেন, “বোয়িং ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বে গর্বিত। দুটি KC-46 সংযোজন বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত রিফুয়েলিং সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।”
এদিকে ইসরায়েলের আইএলটিভি জানিয়েছে, আজ শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল একটি বড় অস্ত্র চালান গ্রহণ করেছে। বিমান ও সমুদ্রপথে পৌঁছানো এই চালানে ছিল ছোট অস্ত্রের গোলাবারুদ থেকে শুরু করে ভারী অস্ত্র পর্যন্ত বিভিন্ন সামগ্রী। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, একাধিক ইউনিটে অপারেশনাল প্রস্তুতি জোরদারের লক্ষ্যেই এ সরবরাহ আনা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সেনাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখতেই প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
মাহফুজ/