ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের সুরক্ষায় বড় ঘাটতি ও অনিরাপত্তা অনুভব করে তুরস্ক। ফলে তুরস্ক সরকার দেশজুড়ে বিশাল একটি আশ্রয়কেন্দ্র (বাঙ্কার) অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশটির ৮১টি প্রদেশেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যেই সব প্রদেশে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে।
গত মাসে তুরস্কের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স একাডেমি ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে সরকারকে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং সুসজ্জিত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। তুর্কি কর্মকর্তারা বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন ইসরায়েলের সুসংগঠিত আশ্রয়কেন্দ্র নেটওয়ার্ক দেখে, যেখানে বোমাবর্ষণের সময় সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিতে পেরেছিল। ফলে ১২ দিনের যুদ্ধের যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১ হাজার নাগরিক নিহত হলেও ইসরায়েলের মাত্র ২৮ জন নাগরিক মারা যায়।
তুরস্কের টিভি চ্যানেল এনটিভি জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সভাপতিত্বে আলোচনার পর পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশটির সরকারি মূল্যায়নে দেখা গেছে, বর্তমানে তুরস্কে কার্যকর কোনো আশ্রয়কেন্দ্র অবকাঠামো নেই। বিদ্যমান সুবিধাগুলোও যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মান পূরণ করে না।
এই প্রকল্পের আওতায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ পর্যালোচনা করা হয়েছে, বিশেষত ইসরায়েল, জাপান ও সুইজারল্যান্ডের আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, রাষ্ট্রীয় আবাসন উন্নয়ন সংস্থা টোকি (TOKI) দেশের ৮১টি প্রদেশেই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে।
এরই মধ্যে কয়েকটি শহরে কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে রাজধানী আঙ্কারাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নতুন আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রবেশ করা যায়। এগুলো হবে টেকসই ও দুর্যোগ–সংকটের সময়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কাঠামো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তা বহুমুখী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে এবং স্থানীয়দের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য হয়।
প্রতিবেদনে বড় শহরগুলোর মেট্রো স্টেশনগুলোকে আশ্রয়ের কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) তুরস্কের এনটিভি জানায়, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো “সম্ভাব্য যুদ্ধ বা দুর্যোগ, এমনকি পারমাণবিক হুমকির ক্ষেত্রেও বেসামরিক মানুষকে রক্ষার জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা।” চ্যানেলটি আরও জানায়, তুরস্কে আশ্রয়কেন্দ্র অবকাঠামো অত্যন্ত অপ্রতুল, বিদ্যমানগুলোও মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করে না।
তবে আশ্রয়কেন্দ্র বিষয়ক নীতি তুরস্কের জন্য পুরোপুরি নতুন নয়। ১৯৮৭ সালে কার্যকর হওয়া শেল্টার রেগুলেশন–এ নির্দিষ্ট আকারের ভবনে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এই বিধান প্রায় উপেক্ষিত হয়েছে। অনেক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে আশ্রয়কেন্দ্রের জায়গা পার্কিং বা গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আসল প্রয়োজনে নয়। সূত্র: মিডল ইস্ট আই, তুর্কি টুডে
মাহফুজ/