দুই দেশের সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশন (পিএনএসসি) ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান। দ্য ডনের খবর।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) লন্ডনে এক বৈঠকে পাকিস্তানের সমুদ্র বিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী বাংলাদেশের নৌ পরিবহন বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম. সাখাওয়াত হোসেনকে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন।
পাকিস্তানের প্রস্তাবে বলা হয়, যৌথ কন্টেইনার এবং বাল্ক শিপিং পরিষেবা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্র পরিবহন উন্নয়নে সহযোগিতা, পারস্পরিক বন্দর-কল সুবিধা প্রদান এবং উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পৃক্ততা জোরদার করে একটি বিস্তৃত অংশীদারিত্বের কল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবে আইএমও (IMO) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমুদ্র পরিবহন-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক আঞ্চলিক সামুদ্রিক গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাঠামো তৈরির পাকিস্তানের বৃহত্তর লক্ষ্যের উপর জোর দেয়া হয়।
জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রবাহকে সমর্থন করার জন্য পাকিস্তানের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে কেপিটির ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা, চলমান আধুনিকীকরণ উদ্যোগ এবং উন্নত টার্নঅ্যারাউন্ড সময় তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বন্দর থেকে বন্দরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সরবরাহ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ কমাতে, আঞ্চলিক বাধা কমাতে এবং দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে বাণিজ্যিক একীকরণের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
এছাড়া, বৈঠকে উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে যে, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামুদ্রিক সংলাপ শুরু করা বন্দর উন্নয়ন, জাহাজ খাতের সহযোগিতা, নীল অর্থনীতি, মৎস্য এবং অন্যান্য উদীয়মান সামুদ্রিক বিষয়গুলোর উপর নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি কাঠামোগত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর দ্বিবার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়েছে। এ অধিবেশনের অন্যতম এজেন্ডা আগামী দুই বছরের জন্য ৪০ সদস্যের কাউন্সিল নির্বাচন, যেখানে বাংলাদেশ ‘সি’ ক্যাটাগরিতে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিশ্বের ১৭৬টি সদস্য দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ সভায় অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাকিস্তান ও বেলিজের মন্ত্রীদের নেতৃত্বে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম ও করাচি বন্দরের মধ্যে নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বেলিজের জ্বালানি ও লজিস্টিকস-বিষয়ক মন্ত্রী মিশেল চেবাটের সঙ্গে বৈঠকেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, নৌবাণিজ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় হয়।
অধিবেশনজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও নেটওয়ার্কিং সেশনে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রার্থীতা ও ভূমিকা তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছে।
সুলতানা দিনা/