নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলাটি ছয় বছর আগে দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে মামলার প্রথম শুনানিতে সস্ত্রীক অংশ নিয়েছেন মাদুরো।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপক্ষ মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানি, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এণেছে, যা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে এই মামলা নিষ্পত্তি হতে অনেক বছর লাগতে পারে।
মাদুরো ও তার আইনজীবীরা আদালতে নিজেদের ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন এবং বিভিন্ন আইনি কৌশল ব্যবহার করে মামলা ঠেকানোর চেষ্টা চালাতে পারেন। বিশেষ করে তারা আদালতের কাছে দাবি তুলতে পারেন যে দম্পতিকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে, অথবা রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা দেখাতে পারেন। এ ধরনের কৌশল প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষকে অসুবিধায় ফেলতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে মামলা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাদুরো দায়মুক্তির দাবি করতে পারেন, আদালতকে দেখাতে পারেন যে তিনি এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, তাই তার বিচার করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
তবে মার্কিন সরকার ২০২৪ সাল থেকে মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ হিসেবে গণ্য করে আসছে, ফলে এই যুক্তি আদালতে কার্যকর হওয়া সহজ নয়।
মামলার প্রধান চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে সাক্ষীদের নিরাপত্তা। মাদুরোর ঘনিষ্ঠরা বা অপরাধী চক্র প্রমাণ ও সাক্ষীকে ভয় দেখাতে পারে। অতীতে এ ধরনের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। তবে মাদুরো এখন বন্দী, ফলে অনেক সম্ভাব্য সাক্ষী সাহস পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদুরোর কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ইতোমধ্যেই রাজসাক্ষী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেছেন।
মাদুরোর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে প্যারিসে এক টন কোকেন পাঠানোর ঘটনাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রমাণ করা হয়েছে, তিনি এই পাচারের বিষয়ে জানতেন এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, প্রসিকিউটরদের কাছে এমন কিছু সাক্ষী আছেন যারা মাদুরোর খুব কাছের ছিলেন।
আইনি বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাদুরো হারানোর কিছু রাখেন না। তাই তিনি হয়তো নিজের কার্যক্রম আদালতে স্বীকার করতে প্রস্তুত, এবং দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। যেমন মেক্সিকোর মাদকসম্রাট এল চাপোর ক্ষেত্রে হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাদুরোর সঙ্গে আপস বা সমঝোতা করতে পারে। ফেডারেল আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ ফৌজদারি মামলায় আসামিরা দোষ স্বীকার করে বা সমঝোতায় আসে। তবে প্রসিকিউটররা প্রভাবশালী নেতা মাদুরোর ক্ষেত্রে সহজে সমঝোতায় যেতে রাজি নন। কারণ, একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে ধরার জন্য প্রচুর পরিশ্রম ও ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে। তাই তাদের লক্ষ্য থাকে পুরো বিচার সম্পন্ন করা।
এছাড়া, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলাটি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে, এবং আদালত-রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের প্রতিটি কৌশল বিচার প্রক্রিয়ার ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
সুলতানা দিনা/