ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের Your Favourite Teacher/Favourite Personality বিষয়ক Writing Paragraph, ৩১তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে রাতে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপির টহল ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু জিপিএসের নির্দেশ মেনে সোজা রেললাইনে গাড়ি, ভাইরাল বৃদ্ধার গাড়িচালনা এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ, নেবে ২৮০ জন কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি কোটচাঁদপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ কষ্টকর হবে জীবন, সব জিনিসের দাম বাড়বে বিশ্বের অন্যতম প্রশস্ত সড়ক ‘মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস’ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত হরিপুর সীমান্তে ৩২ ঘণ্টা পরও শূন্যরেখায় ১১ জন রোনালদো গোল না পেলেও জিতল পর্তুগাল মিরসরাইয়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা অধ্যায়ের ১৭টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ১ম পত্র শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড অনূর্ধ্ব-১৫ ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে এক দিনে ২ নির্দেশনা, প্রশাসনে বিভ্রান্তি শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে রাতারগুলে প্ল্যাস্টিক বর্জ্য ধ্বংস করে বৃক্ষরোপণ রায় শুনতে আদালতে রামিসার বাবা মেসিকে ছাড়াই হন্ডুরাসকে হারাল আর্জেন্টিনা পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা, রাতভর পাহাড়ায় গ্রামবাসী বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ সাংবাদিক দল বদলের উৎসব, ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২১ কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করল ব্রাজিল
Nagad desktop

বিবিসির বিশ্লেষণ জেন জিরা স্বৈরশাসককে উৎখাত করলেও ক্ষমতায় ফিরছে পুরোনোরাই

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
জেন জিরা স্বৈরশাসককে উৎখাত করলেও ক্ষমতায় ফিরছে পুরোনোরাই
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী অধ্যায় গণ-অভ্যুত্থানের সময় বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিলেন রাহাত হোসাইন। তিনি পুলিশের গুলিতে আহত ইমাম হাসান তাইম ভূঁইয়াকে নিরাপদে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন- এমন একটি ভিডিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। 

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ওই বিক্ষোভে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন। তাদের বেশির ভাগই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চালানো নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে প্রাণ হারান। এই অভ্যুত্থানকে বিশ্বজুড়ে জেনারেশন জেড (জেন জি)-এর আন্দোলনগুলোর মধ্যে প্রথম ও সবচেয়ে সফল হিসেবে দেখা হয়।

বাংলাদেশে আন্দোলনের কিছু ছাত্রনেতা পরে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। তারা যে দেশের জন্য রাজপথে নেমেছিলেন, সেই দেশের রূপ কেমন হবে, তা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বহু দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বাইরে তারা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদের গড়া নতুন দলটি গভীর বিভক্তিতে ভোগে এবং আন্দোলনে নারী অংশগ্রহণকারীরা অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এ পরিস্থিতিতে শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে এসেছে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো।

রাহাত বিবিসিকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার কল্পিত ‘শান্তি, সমতা, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে সুন্দর বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। এই হতাশায় তিনি একা নন। আরও অনেকেই ভুগছেন। ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে (এনসিপি) অনেকেই অনভিজ্ঞ মনে করছেন। রাহাত বরং মুগ্ধ হয়েছেন অনেক পুরোনো একটি দল জামায়াতে ইসলামীকে দেখে।

ইসলামপন্থি এই দলটি অতীতে ছোটখাটো জোটসঙ্গী হিসেবে ছিল। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দলটি নিজস্ব গতি পেয়েছে। ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতের সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিতর্কিত অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিনের বিতর্ক জড়িয়ে আছে। সেই যুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত হন, এক কোটির বেশি মানুষ ঘরছাড়া হন। জামায়াতের কিছু নেতার বিরুদ্ধে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার ঘোরতর অভিযোগ ছিল। তবে এই ইতিহাস রাহাতকে তেমন বিচলিত করে না। তার বিশ্বাস, জামায়াত এখন আধুনিক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ও ছাত্রদের জামায়াত বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়েছে।’

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিবিসিকে বলেন, দলটি দুর্নীতি দূর করা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করছে। ঐতিহাসিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দেশে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হলেও অনেকের কাছে তা সাড়া ফেলেছে।

ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌফিক হক বলেন, ১৯৭১-এর বহু পরে জন্ম নেওয়া তরুণ ভোটাররা জামায়াতকে তার অতীত থেকে আলাদা করে দেখতে পারেন এবং এটিকে ‘লাল রেখা’ বলে মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘এটা প্রজন্মগত বিষয়।’ তাদের অনেকেই এই বিতর্কে ‘আটকে থাকতে চান না।’

বরং হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ হওয়া ও অনেক নেতার কারাবন্দি হওয়ার কারণে তরুণরা জামায়াতকে নিজেদের মতোই ভুক্তভোগী হিসেবে দেখেছেন বলে মনে করেন তিনি। রাহাত একা নন। দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতপন্থি ছাত্র সংগঠনের সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুলরূপে জয় পান। এটি জাতীয় রাজনৈতিক মেজাজের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো ইসলামপন্থি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এটাই ছিল ছাত্রনেতাদের জন্য প্রথম বড় সতর্কসংকেত। বিশেষ করে এমন এক দেশে যেখানে প্রায় ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৪ জনের বয়স ৩৭-এর নিচে।

এনসিপির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আরও ভালো করতে চেয়েছিলাম।’ তবে তার যুক্তি, ‘গত ৫০ বছর ধরে মাত্র দুটি দলই বাংলাদেশ শাসন করেছে… আমরা নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করছি।’

আসিফ মাহমুদের মতে, কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকলেও জামায়াতের তৃণমূল সংগঠনের সহায়তা দরকার ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি আমরা ইসলামপন্থি দল নই। এটা আদর্শগত জোট নয়।’

তবে জামায়াতে ইসলামী যে ৩০টি আসনে এনসিপিকে প্রার্থী দিতে দিচ্ছে, সেখানে নারী মাত্র দুজন। আর জামায়াতে ইসলামী নিজে যে ২০০-এর বেশি প্রার্থী দিচ্ছে, তাদের সবাই পুরুষ। এনসিপির সিনিয়র নারী নেত্রী তাসনিম জারা এটিকে ‘নৈতিক লাল রেখা’ বলে অভিহিত করেছেন। এ এক বিরাট মতাদর্শগত অবক্ষয়। আর কারণেই তিনি ও আরও কিছু লোক দল ছাড়েন। অন্যদিকে ২৫ বছর বয়সী আন্দোলন নেত্রী শিমা আখতার বলেন, ‘ওরা আমাদের পাশ কাটিয়ে দিতে চেয়েছে।’ তিনি বলেন, অভ্যুত্থানে নারীরা বড় ভূমিকা রাখলেও মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পুরুষশাসিত। অভ্যুত্থানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু হয়। শিমা বলেন, ‘কিছু মিম ও ভিডিও এতটাই সহিংস আর হতাশাজনক ছিল…. আমাদের চরিত্রহনন করা হয়েছে, ট্রল করা হয়েছে।’ দুই দলই ‘নারী বাদ’ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি বাংলাদেশের ‘সামাজিক কাঠামোর’ ফল। এর পরও জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশা করেন তিনি।

শিমা এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা শুধু পিতৃতান্ত্রিক অজুহাত।’ তিনি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, যারা ২৫০-এর বেশি প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খারাপের চেয়ে ভালো।’

এনসিপির দুর্বলতা ও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা বিএনপিকে সুবিধা দিচ্ছে। দলটি নিজেকে উদার গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। আওয়ামী শাসনে হাজারও নেতা-কর্মীর কারাবাসের পর বিএনপি এখন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী দল হয়ে উঠেছে এবং ছাত্রদের দলটিকে আরও কোণঠাসা করছে। আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও রাজনৈতিক বংশের সঙ্গে যুক্ত। দলটির নতুন নেতা তারেক রহমান প্রয়াত খালেদা জিয়ার ছেলে। 

বিএনপির সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বর্তমান প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আপনি রাজনৈতিক বংশ থেকে এসেছেন কি না, সেটা অপ্রাসঙ্গিক।’ পরিহাসের বিষয় হলো, এই বংশগত রাজনীতির ধারাবাহিকতা সম্ভব হয়েছে ছাত্র অভ্যুত্থানের কারণেই। এর ফলে ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনের পর তারেক রহমান ফিরতে পেরেছেন। হাসিনার পতনের পর তিনি ও তার মা দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পান, যেগুলোকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন। সূত্র: বিবিসি

কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

মে মাসের শুরুতে আফ্রিকার দেশ ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বুনিয়া অঞ্চলের একটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুতর অসুস্থ হন। এর পর চার স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ডি আর কঙ্গোতে পরীক্ষা করা নমুনাগুলোতে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে পরে পরীক্ষা করা ১৩টি নমুনার মধ্যে আটটিতে ইবোলা শনাক্ত হয়, আর পাঁচটির ফলাফল অস্পষ্ট ছিল।

জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে আক্রান্তরা বুন্ডিবুগিও ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এটি মানুষের মধ্যে ইবোলা রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম চার ধরনের অর্থো-ইবোলা ভাইরাসের একটি ধরন।

বর্তমানে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। আক্রান্তদের সহায়ক চিকিৎসা দেওয়াই প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগীদের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, তীব্র দুর্বলতা, পেটব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং রক্তবমির মতো উপসর্গ দেখা গেছে।

ডিআর কঙ্গোতে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ রোগীর বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। আক্রান্তদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী।

এর আগে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের দুটি প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটেছিল- একটি ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। ওই দুই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ২৫ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রাদুর্ভাবটিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এটিকে ‘মহাদেশীয় নিরাপত্তার জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডি আর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। তবে জনবহুল পরিবহনকেন্দ্র গোমা শহরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় রোগটি দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন এই প্রাদুর্ভাব বেশি উদ্বেগজনক?

বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে পরিচিত ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলো ছিল ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় এবং ২০১৮-২০২০ সালে ডি আর কঙ্গোর নর্থ কিভু অঞ্চলে। সেসব প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল জায়ার প্রজাতির ইবোলা, যার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত টিকা বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখন মূল ভরসা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনগণের আস্থা অর্জন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া।

এ পর্যন্ত নিশ্চিত মৃত্যুর মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসা নিতে অনীহা তৈরি হয়।

নিয়ন্ত্রণে বাধা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব ডিআর কঙ্গোর নাজুক পরিস্থিতি প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য নজরদারি ও প্রাদুর্ভাব প্রস্তুতি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি সরঞ্জাম অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না। বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হওয়ায় জনগণ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের চলাচলের কারণে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কারণে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা?

পূর্ববর্তী ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জটিল গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অনেক নারী চিকিৎসা পান না এবং পরিবার ভেঙে পড়ায় শিশুরা নির্যাতন ও শোষণের ঝুঁকিতে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর্মীরাও সরাসরি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর ঘটনা এ ঝুঁকিরই প্রমাণ।

এ ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, যেখানে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে, তারাও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ডি আর কঙ্গো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থাটি প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ, রোগী বাছাই ও আইসোলেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগণকে রোগ শনাক্তকরণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি প্রচারণা, স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুল তথ্য প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি নগদ সহায়তা এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।

এখন কী প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পিপিইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি ডিআর কঙ্গো, প্রতিবেশী দেশগুলো, ডব্লিউএইচও, আফ্রিকা সিডিসি এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, রোগ নজরদারি ও জরুরি প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জনস্বাস্থ্য তথ্য, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা এবং নারী ও কিশোরীদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি

তামান্না রুপা/

বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে তেহরান। তাদের দাবি, ফুটবল দলের ব্যাকরুম স্টাফদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের উদ্বোধনী ম্যাচের ১০ দিন আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সব খেলোয়াড় এবং ‘প্রয়োজনীয় সহযোগী স্টাফদের’ ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, 'মিথ্যা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করানোর জন্য ইরানকে এই সুযোগ অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।'

তুরস্কে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে 'খেলাধুলায় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ' বলে নিন্দা জানায়।

দূতাবাস জানায়, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সহসভাপতিসহ ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কঠোর ভিসা শর্তের কারণে ইরানি দলকে কেবল ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং ম্যাচ শেষেই দেশ ছাড়তে হবে।

এই আচরণকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানায় ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপটি একটি বিরল ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে আতিথেয়তা দিচ্ছে, যাদের সঙ্গে তারা বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই বিষয়টি বেশ জটিল রূপ নেয়, কারণ ইরানি স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী এই বাহিনীর অধীনেই বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা সম্পন্ন করতে হয়েছে।

এদিকে ইরানি দলটি ইতোমধ্যেই তুরস্কের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যেখানে টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা অবস্থান করবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্বোধনী ম্যাচ ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ইরানের।

অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র: বিবিসি

আজহার/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি সামাজিক উৎসবের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। 

টলেডো পুলিশের ডেপুটি প্রধান জো হেফারনান জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুজন ব্যক্তি অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছে এবং তারা সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করেই গুলি করছিল।

টলেডো পুলিশ বিভাগ জানায়, শনিবার (৬ জুন) রাতে শহরের ঐতিহাসিক এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’-এর কাছেই এ ঘটনা ঘটে। উৎসবটিতে লাইভ সংগীত, ঐতিহাসিক বাড়ি পরিদর্শন, খাবারের স্টল এবং কেনাকাটার নানা আয়োজন ছিল।

পুলিশ জানায়, হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তল্লাশি চলছে।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেন, আজ রাতে টলেডোর পরিস্থিতি আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। গ্রীষ্মকালীন উৎসবগুলো পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ মিলনস্থল হওয়া উচিত, যেখানে সহিংসতার কোনো ভয় থাকবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শোনার পর মানুষ আতঙ্কে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবাকর্মীদের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কেভিন বেরি জানান, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে একটি বৃক্ষ উদ্যানে বসে লাইভ সংগীত উপভোগ করছিলেন। হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে তিনি সবাইকে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলেন।

কিছুক্ষণ পর মাথা তুলে তাকিয়ে তিনি দেখেন, তার অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি বন্দুক মাটিতে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। উৎসবে আগে থেকেই দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান।

মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেরি জানান, তিনি আহতদের খুঁজে বের করতে এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়ান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখেছেন।

দুই দিনব্যাপী ‘ওল্ড ওয়েস্ট অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল’ টলেডোর অন্যতম জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন আয়োজন। কেভিন বেরি এটিকে টলেডোর গ্রীষ্মকালীন উৎসব মৌসুমের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প

এইচআইভি বা এইডস প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু ‘সুপার হিউম্যান’ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের সন্ধান চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই হিসাবকে নতুন করে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। তারা ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে এই ভাইরাসক প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা এখন সেই ব্যতিক্রমী মানুষ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে এইচআইভি নিরাময়ের কার্যকর পথ দেখাতে পারবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই এক বিস্ময়কর নারীর গল্প। লোরিন উইলেনবার্গ নামের ৭১ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা গত তিন দশক ধরে এইচআইভি গবেষকদের কাছে ছিলেন এক গভীর রহস্য। ১৯৯২ সালে লোরিনের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। সাধারণত এই ভাইরাস মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়, কিন্তু লোরিনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল অলৌকিক ঘটনা। কোনো ধরনের ওষুধ না খেয়েই তিনি আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন পার করেছেন।

২০২৫ সালের আগস্টে লোরিন উইলেনবার্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ডাক্তাররা আমাকে সবসময় বলতেন, এইচআইভির বিরুদ্ধে আমার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই আলাদা। অনেক বছর ধরে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তবে তারা জানতেন আমি সাধারণ নই।’

চলতি বছরের এপ্রিলে লোরিন মারা যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘এলিট কন্ট্রোলার’। এটি এমন একদল এইচআইভি পজিটিভ মানুষকে বোঝায় যাদের শরীর কোনো ওষুধ ছাড়াই ভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। বিশ্বে মোট এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই মানুষগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ রোগীকে বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।

উইলেনবার্গের ঘটনা আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে ২০২২ সালে। সে সময় তার চতুর্থ ধাপের ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসার ফুসফুস থেকে মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যায়। অস্ত্রোপচার ও শক্তিশালী ওষুধে তিনি ভালো সাড়া দেন। তবে এসব চিকিৎসায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কথা। ফলে শরীরে লুকিয়ে থাকা এইচআইভি আবার সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু গবেষকরা যখন তার শরীরের কোটি কোটি কোষ পরীক্ষা করেন, তখন তারা এইচআইভির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাননি।

ম্যাস জেনারেল ব্রঘাম, এমআইটি এবং হার্ভার্ডের রাগন ইনস্টিটিউটের মেডিসিনের অধ্যাপক জু ইউ দীর্ঘদিন ধরে লোরিনের শরীর নিয়ে গবেষণা করছেন। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটির এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘লোরিন সম্ভবত পুরোপুরি এইচআইভি মুক্ত হয়ে গেছেন।’ তবে এই সুখবর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২৬ সালের এপ্রিলে মারা যান উইলেনবার্গ। কিন্তু তার জীবন বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে; তা হলো মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এইচআইভির মতো ভাইরাসকেও পরাজিত করতে পারে।

শুধু লোরিন একাই নন, আর্জেন্টিনার আরেক নারীও বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখা এই নারী ‘এসপেরানজা রোগী’ নামে পরিচিত। স্প্যানিশ ভাষায় এসপেরানজা অর্থ ‘আশা’। গবেষকদের ধারণা, তিনিও হয়তো লোরিনের মতো প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো বিজ্ঞানীদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ‘এলিট কন্ট্রোলারদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার রহস্যভেদ করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এইডসের স্থায়ী নিরাময় আবিষ্কার করা সম্ভব।’

সাধারণত এইচআইভি শরীরে ঢোকার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষের কোষের ডিএনএর সঙ্গে নিজের জিনগত উপাদান যুক্ত করে বংশবিস্তার করে। ধীরে ধীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে। চিকিৎসা না করালে রোগী এইডসে আক্রান্ত হয় এবং সাধারণ কোনো সর্দি-কাশি বা ইনফেকশনেই মারা যেতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ‘অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল’ নামের ওষুধ আবিষ্কারের পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। এই ওষুধ ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি আটকে দেয়, যার ফলে আক্রান্তরা কিছুটা সুস্থ জীবন পান। 

তবে সমস্যা হলো, এই ওষুধ সাধারণত ভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। এইচআইভি শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে রক্ত, লিম্ফ নোড, মস্তিষ্ক ও অন্ত্রে এর গোপন ভান্ডার বা ‘রিজার্ভয়ার’ তৈরি হয়। সুযোগ পেলেই সেখান থেকে ভাইরাস আবার সক্রিয় হতে পারে। এখানেই লোরিন বা এসপেরানজার মতো এলিট কন্ট্রোলারদের শরীর আলাদা।

২০২০ সালে অধ্যাপক শু ইউ ও তার সহকর্মীরা ৬৪ জন এলিট কন্ট্রোলারকে নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখতে পান, এসব মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে ডিএনএর এমন কিছু এলাকায় আটকে রাখে, যেগুলোকে ‘জিন ডেজার্ট’ বলা হয়। আমাদের সবার জিনোমে এমন কিছু এলাকা থাকে যার কোনো কাজ নেই, এগুলো নিষ্ক্রিয়। এলিট কন্ট্রোলারদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসকে তাড়িয়ে ঠিক ওই নিষ্ক্রিয় এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। ফলে ভাইরাসটি সেখানে আটকা পড়ে যায় এবং বংশবৃদ্ধির জন্য শরীরের কোনো অংশ ব্যবহার করতে পারে না।

অধ্যাপক জু ইউ-এর ভাষায়, ভাইরাসগুলো শরীরে ঠিকই থাকে, কিন্তু সেগুলো এমন এক জায়গায় বন্দি থাকে যেখান থেকে আর কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের থাকে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একই ঘটনা ‘পোস্ট-ট্রিটমেন্ট কন্ট্রোলার’ নামে পরিচিত আরেক গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। তারা শুরুতে দীর্ঘদিন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ নিলেও পরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর পরও তাদের শরীরে ভাইরাস আর সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শুধু সিডি৮+ টি-সেল নয়, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আরেকটি অংশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’।

গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে ন্যাচারাল কিলার সেলকে সক্রিয় করবে। এতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করা সহজ হতে পারে।

গবেষণায় আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। অধ্যাপক জু ইউ জানান, এলিট কন্ট্রোলারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। পুরুষদের চেয়ে নারীদের এলিট কন্ট্রোলার হওয়ার সম্ভাবনা দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এইডসের বেশির ভাগ পরীক্ষামূলক গবেষণা পুরুষদের ওপরই করা হয়েছে। নারীদের ওপর আরও বেশি গবেষণা হলে এই রোগ নিরাময়ের পথ আরও দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে লোরিন উইলেনবার্গ এক আবেগঘন কথা বলেছিলেন, ‘আমি এই মহামারির শেষ দেখে যাওয়ার জন্য আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই। আমার অবদান যদি বিজ্ঞানকে একটুও এগিয়ে নিয়ে থাকে, তবে তা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান।’

লোরিন হয়তো পৃথিবী থেকে এইডসের চিরতরে বিদায় দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু বিজ্ঞানীদের জন্য তিনি যে আশার আলো জ্বেলে দিয়ে গেছেন তা কোটি কোটি মানুষকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।সূত্র: বিবিসি

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা
ক্যানসারের ভ্যাকসিন নিয়ে ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন গবেষক। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীদের নিত্যনতুন আবিষ্কার এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন–আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (অ্যাসকো) ২০২৬ সালের বার্ষিক অধিবেশন। প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্য পেশায় নিযুক্তরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল–‘অনুবাদমূলক বিজ্ঞান ও অনুশীলন: বিশ্বব্যাপী ক্যানসারের ফলাফলের উন্নয়ন’। সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হচ্ছে– 

স্মার্ট ড্রাগের মাধ্যমে ক্যানসারের ‘অদৃশ্য পর্দা’ দূর

ইমিউনোথেরাপির ওষুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে টিউমার ধ্বংস করে। তবে ক্যানসার কোষ যখন লুকিয়ে থাকে, তখন এই চিকিৎসা কাজ করে না। বিজ্ঞানীরা এখন এমন একটি স্মার্ট ড্রাগ তৈরি করেছেন, যা লুকিয়ে থাকা ক্যানসার কোষ বন্ধ করে দেবে।

‘জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯’ নামের এই পরীক্ষামূলক ট্যাবলেটটি ক্যানসার কোষের ‘অদৃশ্য পর্দা’ সরিয়ে দেয়। ফলে ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘সেমিপ্লিম্যাব’ ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার রোগীদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। যাদের অন্য কোনো চিকিৎসার উপায় ছিল না, তাদের ক্ষেত্রে এটি দারুণ কাজ করেছে। ৮৩ জন রোগীর মধ্যে ২৬ জনের টিউমার সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের টিউমার অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে।

ট্রায়ালের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ফিওনা থিসলথওয়েট বলেন, ‘ট্যাবলেটের জন্য এটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক বলা যায়। যদিও এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও গবেষণার প্রয়োজন, তবে এটি নতুন মেকানিজম, যা ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।’

অন্য একটি ট্রায়ালে ‘আইভোনেসিম্যাব’ নামের স্মার্ট ড্রাগ কেমোথেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করে ফুসফুসের ক্যানসার রোগীদের আয়ু গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ‘ওজেকিব্যার্ট’ নামের আরেকটি স্মার্ট ড্রাগ মলাশয়ের (বয়েল) ক্যানসারের ক্ষেত্রে ভালো ফল দেখিয়েছে।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় দৈনিক একটি বড়ি

সম্মেলনে জানানো হয়, একটি নতুন বড়ি বা পিল অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক এই ক্যানসারের চিকিৎসায় একে ‘গেমচেঞ্জার’ ও কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

৫০০ জন রোগীর ওপর চালানো ট্রায়ালে দেখা গেছে, ‘ড্যারাক্সনরাসিব’ নামের এই পিলটি কেমোথেরাপির চেয়ে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ রোগীদের বেঁচে থাকার গড় সময় ৬ দশমিক ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ২ মাস করেছে।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা ক্যানসার সেন্টারের অনকোলজি প্রধান ড. রচনা শ্রফ বলেন, ‘এই ফলাফলগুলো ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তনকারী। আমরা নজিরবিহীন বেঁচে থাকার হার দেখতে পাচ্ছি।’

ফলাফল দেখে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন বলেও জানান। এ ছাড়া ‘মেজিগডোমাইড’ নামের আরেকটি নতুন পিল ট্রিপল থেরাপির অংশ হিসেবে রক্তের ক্যানসারে (মাল্টিপল মায়লোমা) আক্রান্ত রোগীদের রোগহীনভাবে বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করেছে।

নিরাপদে কেমোথেরাপি ও সার্জারি এড়ানোর সুযোগ

চিকিৎসায় এখন কোন কোন উপাদান নিরাপদে বাদ দেওয়া যায়, এ নিয়েও চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। একটি যুগান্তকারী জিনোমিক টেস্টের মাধ্যমে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত লাখ লাখ নারী কেমোথেরাপি এড়াতে পারবেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চার হাজার রোগীর ওপর চালানো ‘অপটিমা’ ট্রায়ালে দেখা গেছে, জিনোমিক টেস্টে যাদের স্কোর কম এসেছে, তারা কেমোথেরাপি ছাড়াই শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে নিরাপদে সুস্থ থাকতে পারেন। একইভাবে মূত্রাশয়ের (ব্লাডার) ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সঙ্গে ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘ডারভালুম্যাব’ যোগ করলে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমে। ফলে রোগীদের জীবন পরিবর্তনকারী জটিল সার্জারি এড়ানো সম্ভব হয়।

ক্যানসার বৃদ্ধিতে সতর্কতা ও কর্মীসংকট

সব খবর ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কবার্তা এসেছে। ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যানসার শনাক্তকরণের রক্ত পরীক্ষা ‘গ্যালেরি’ একটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্তকরণের হার বাড়াতে পারেনি। একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘ট্রায়ালটি পরিষ্কারভাবে ফ্লপ করেছে।’

এদিকে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের গড় আয়ু বাড়ার কারণে ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিদিন এক লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন ও বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ দশমিক ৩ মিলিয়নে পৌঁছাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিংয়ের গ্লোবাল ক্যানসার রিসার্চের পরিচালক ড. পিটার কিংহাম বলেন, ‘ক্যানসার মূলত বার্ধক্যজনিত রোগ। 

বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু বাড়ার কারণে আরও বেশি মানুষ ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই ডেমোগ্রাফিক শিফট কোনো ব্যর্থতা নয়, এটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে। তবে এর জন্য ক্যানসার চিকিৎসায় সমান উচ্চাভিলাষী সাড়া প্রয়োজন।’

লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও যোগব্যায়ামের ভূমিকা

সম্মেলনে জানানো হয়, গত তিন দশকে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তের হার প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। দুটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত বা দুর্বল ঘুমের অভ্যাস তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অনিদ্রায় আক্রান্ত ৫০ অনূর্ধ্ব ব্যক্তিদের পাঁচ বছরের মধ্যে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কিছু ক্ষেত্রে তিন গুণ বেশি।

তবে ক্যানসার ধরা পড়ার পরও লাইফস্টাইল পরিবর্তন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইয়োগা ও রিল্যাং করা যোগব্যায়াম ক্যানসার রোগীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও অনিদ্রা কমাতে ওষুধ ছাড়াই দারুণ সাহায্য করে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান