আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) মাসের পর মাস আটকে থাকার পর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরছেন নাসার দুই নভোচারী। স্পেসএক্সের একটি ক্যাপসুল আইএসএস-এ ডকিং করেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরকে নিয়ে পৃথিবীতে ফিরবে স্পেসএক্সের এই ক্যাপসুল। বোয়িংয়ের স্টারলাইনার রকেটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দুই নভোচারীর আইএসএস-এ আটকে থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৫ জুন বোয়িংয়ের স্টারলাইনার রকেটে আইএসএস-এর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন এ দুই নভোচারী। প্রাথমিকভাবে তাদের আট দিন সময় কাটানোর কথা থাকলেও স্টারলাইনারের প্রোপালশন সিস্টেমে সমস্যার কারণে তারা বেশ কয়েক মাস ধরেই মহাকাশ স্টেশনে আটকে আছেন। আগস্টে নাসা নিশ্চিত করেছে, ২০২৫ সালের আগ পর্যন্ত তাদের ফেরার সম্ভাবনা নেই। এরপর ‘ক্রু ড্রাগন’ ক্যাপসুলে করে তাদের ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পায় স্পেসএক্স।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ড্রাগন ক্যাপসুল। এরপর রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৩টায় নাসার নভোচারী নিক হগ ও রাশিয়ান নভোচারী আলেকজান্ডার গরবুনভকে নিয়ে আইএসএস অবতরণ করে। মহাকাশযানটিতে নিক হেগ ও আলেকজান্ডার গরবুনভ থাকলেও সুনিতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোরের ফেরার জন্য দুটি আসন খালি রাখা হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মহাকাশ স্টেশনে আটকে পড়া দুই নভোচারীকে নিয়ে পৃথিবীতে ফেরত আসবে ড্রাগন ক্যাপসুল। তবে ওই ফিরতি যাত্রায় হগ ও গরবুনভ ফিরবেন না বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নাসা বলেছে, মহাকাশ স্টেশনে দুই নতুন নভোচারীর আগমনের মানে দাঁড়ায়, আইএসএস-এ এখন থেকে ১১ জন ব্যক্তি থাকবেন। রকেট উৎক্ষেপণের আগে হগ বলেছেন, ‘মহাকাশ যাত্রায় সবসময়ই কোনো না কোনো পরিবর্তন দেখা যায়। তবে এবার হয়তো সেটা জনসমক্ষে একটু বেশিই স্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে।’
তিনি গত সপ্তাহে কেপ ক্যানাভেরালে পৌঁছে বলেছিলেন, ‘আমাদের জন্য সামনে বড় এক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমরা একে অপরকে চিনি। আর আমরা পেশাদার হওয়ায় আমাদের কাছে যে নির্দেশনাই আসুক না কেন, আমরা তার জন্য প্রস্তুত আছি।’
সেপ্টেম্বরে আইএসএস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাউকে না নিয়েই পৃথিবীতে ফিরে এসেছে বোয়িংয়ের স্টারলাইনার। এর থ্রাস্টার ব্যর্থতা ও হিলিয়াম ছিদ্র এতটাই গুরুতর ছিল যে নাসা কোনো যাত্রী না নিয়েই রকেটটির ফিরতি যাত্রা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই মাসে দেওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর জানিয়েছেন, মহাকাশ স্টেশন তাদের জন্য আনন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, নাসার নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর স্টারলাইনারের প্রথম যাত্রী হিসেবে মহাকাশে ভ্রমণ করছেন। তারা এখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকারী অন্য নভোচারীদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজ করছেন।
/আবরার জাহিন


