ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

আইনের প্যাঁচে দিশেহারা বর্ণা!

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:২৯ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম
আইনের প্যাঁচে দিশেহারা বর্ণা!
প্রতীকী ছবি

উচ্চ আদালতের রায়ের পরও দেনমোহরের মামলার কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না মাদারীপুরের বালিয়া গ্রামের সুবর্ণা আক্তার বর্ণা। মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালত এবং পরে হাইকোর্টের রায়ের পরও শেষ হয়েও হলো না বিচার!

মাদারীপুর জেলার বালিয়া গ্রামের অনাথ মেয়ে সুবর্ণা আক্তার বর্ণা। ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল পুলিশে কর্মরত মফিজুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন দাবিতে সুবর্ণাকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করতো।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৩ মে নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে। ওইদিন স্বামীসহ পরিবারের লোকজন বর্ণাকে মারধর করে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পরে এ বিষয়ে মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। যার নম্বর ২১৫/১৭, তারিখ ২৫-০৫-২০১৭। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর এই মামলায় ঘোষিত রায় তার বিপক্ষে যায়।

অপরদিকে মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালতে দায়ের করা মামলায় (নং-২৫/২০১৭) বিবাদী মফিজুল ইসলাম রিপনকে স্ত্রীর মোহরানার টাকা পরিশোধের রায় ঘোষণা করেন বিচারক। 

পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মফিজুল ইসলাম রিপন। কিন্তু হাইকোর্ট তার আপিল বাতিল করে সুবর্ণা আক্তারকে প্রাপ্য মোহরানা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। 

পরে হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করতে পুনরায় মাদারীপুর জেলা আদালতে আবেদন করেন মফিজুল ইসলাম রিপন। 

মাদারীপুর জেলা পারিবারিক আদালত মফিজুলকে অনতিবিলম্বে দুই লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। 

নিম্ন আদালতের এই নির্দেশের পর এই রায়ের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন মফিজুল। পরে চলতি বছরের ২৮ মার্চ ওই আদালতের বিচারক মো. ইসমাইল হোসেন মফিজুল ইসলাম রিপনকে প্রাপ্য মোহরানার টাকা প্রতিমাসে পাঁচ হাজার করে পরিশোধের নির্দেশ দেন।

রায়ে যদি ধরে নেওয়া হয়, বিবাদী অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সময়সীমা অনুসরণ করবে তাহলেও এই হারে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করতে আট বছর চার মাস সময় লাগবে। বিভিন্ন অজুহাতে এই সময়সীমা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ফলে প্রক্রিয়াটি অসহায় বাদীর জন্য খুবই কষ্টকর ও হয়রানিমূলক হবে। 

আইনের প্যাঁচে বিবাদী অনির্দিষ্টকাল বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করেন বাদী। 

তিনি মনে করেন, মফিজুল ইসলাম রিপন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নানা অপকৌশলের মাধ্যমে ক্রমাগত ন্যায্য বিচার লাভ ও প্রতিকার লাভের সকল উপায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এর প্রতিকার চেয়েছেন সুবর্ণা আক্তার বর্ণা।

এমপি আনার হত্যা: ৮ দিনের রিমান্ডে মিন্টু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
এমপি আনার হত্যা: ৮ দিনের রিমান্ডে মিন্টু
সাইদুল করিম মিন্টু

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে তাকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মিন্টুর ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ডিবি পুলিশের সিনিয়ার সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। পরে আদালত আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মিন্টুকে আটক করে ডিবি। এর পর তাকে ডিএমপির গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

অমিয়/

সরকারি খরচে আইনি সহায়তার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:৩১ পিএম
সরকারি খরচে আইনি সহায়তার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ
ছবি : খবরের কাগজ

সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বেগবান ও মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) ও আগের দিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে অবস্থিত জগন্নাথ-সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এই কর্মসূচিতে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের প্যানেল আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।

‘বিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবীগণের অংশগ্রহণে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বেগবান ও মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন।

তিনি সরকারি খরচে আইনগত সেবা বেগবান ও মানোন্নয়নে প্যানেল আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী আইনি সমঅধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০০০ সালে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের আইনগত সহায়তা প্রদানকল্পে লিগ্যাল এইড আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে আমাদের এই সোনার বাংলায় শুরু হয় লিগ্যাল এইডের অগ্রযাত্রা। তাই অসহায়, সহায় সম্বলহীন ও দুস্থ মানুষকে সরকারি আইনি সেবা প্রদানকালে তাদের প্রতি সব প্যানেল আইনজীবীকে সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানাই।’

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দুই পর্বে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মোট ৬০ জন প্যানেল আইনজীবী অংশ নেন।

তাদের প্রশিক্ষণ দেন ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আলমগীর হোসাইন, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রকিবুল হাসান এবং ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. সায়েম খান।

মাহমুদুল আলম/অমিয়/

সাধারণ নাগরিকের মতোই ড. ইউনূসের বিচার হচ্ছে : আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম
সাধারণ নাগরিকের মতোই ড. ইউনূসের বিচার হচ্ছে : আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘দেশের যেকোনো নাগরিক আইন ভঙ্গ করলে তার যেভাবে বিচার হয়, ড. ইউনূসেরও ঠিক সেভাবেই বিচার হচ্ছে। তবে তিনি (ড. ইউনূস) যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন, এসব কথা অসত্য। এসব কথা বাংলাদেশের জনগণের জন্য অপমানজনক।’

বুধবার (১২ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলকেও একই কথা জানান আইনমন্ত্রী। 

তিনি জানান, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি মামলা করেছে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। আদালতে বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে কোনো কথা বলা সমীচীন নয়। ইউনূস সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু কর ফাঁকির মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গিয়ে হেরে যাওয়ার পর কর (ট্যাক্স) পরিশোধ করেছেন। এ ছাড়া, ড. ইউনূস শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন, সেকারণে শ্রম আইনে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। এখনো অনেক মামলা পেন্ডিং আছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আর কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স আইন, উপাত্ত সুরক্ষা আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইন, ইইউ নির্বাচন কমিশন থেকে বাংলাদেশে একটি টিম এসেছিল, সেই টিমের রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কি চিন্তা-ভাবনা করছে, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী আইন সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানতে চেয়েছিল, কবে নাগাদ সংশোধিত শ্রম আইন পাস করা হবে? এর উত্তরে তাদের বলেছি- আন্তর্জাতিক শ্রম আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে নালিশ করা হয়েছিল, সেই নালিশটার শেষ আমরা চাই। তাদের আরও বলেছি, শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি। আমার মনে হয়, বিষয়টা শেষ করে দেওয়া উচিত। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে আইএলও-এর যে গভর্নিং বডির মিটিং হবে, সেখানে আমাদের সমর্থন করতে বলেছি।’ 

নড়াইলে হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যদণ্ড

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ০৩:৫৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৪, ০৪:০২ পিএম
নড়াইলে হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যদণ্ড
ছবি : খবরের কাগজ

নড়াইলে ইজিবাইক কেনার প্রলোভনে পলাশ মোল্যাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

নিহত পলাশ মোল্যা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের আব্দুস সালাম মোল্যার ছেলে।

বুধবার (১২ জুন) দুপুরে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ আলমাচ হোসেন মৃধা এ আদেশ দেন।

নড়াইলের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইমদাদুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,  ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন লোহাগড়া উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের মৃত আবুল খায়ের মোল্যার ছেলে আনারুল মোল্যা, মরিচপাশা গ্রামের মৃত মোক্তার সর্দারের ছেলে জিনারুল ইসলাম ওরফে তারা মিয়া এবং আড়পাড়া গ্রামের আকুব্বার শিকদারের ছেলে মো.নাজমুল শিকদার। 

রায় ঘোষণার সময় জিনারুল ইসলাম ওরফে তারা মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই আসামি আনারুল মোল্যা ও নাজমুল সিকদার পলাতক।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ জুন সকালে লোহাগড়া উপজেলার মাকড়াইল গ্রামের আব্দুস সালাম মোল্যার ছেলে পলাশকে (২৫) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। তারা ৪০ হাজার টাকায় ইজিবাইক কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পলাশ মোল্যাকে অপহরণ করে। পরে ২৬ জুন মাগুরা জেলার সদর থানার ধানখোলা গ্রাম থেকে পলাশ মোল্যার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পলাশের ভাই আহাদ আলী বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। 

শরিফুল ইসলাম/অমিয়/

অর্থ আত্মসাৎ মামলা: ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৪, ১২:১৫ পিএম
অর্থ আত্মসাৎ মামলা: ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা এক মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযোগ গঠনের ফলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। 

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের সংরক্ষিত ফান্ডের লভ্যাংশের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১২ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪-এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। 

এ সংক্রান্ত আদেশের জন্য ১২ জুন দিন ধার্য রেখে গত ২ জুন আদেশ দেন আদালত।

ওইদিন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে শুনানি করেন। 

আর ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের পক্ষে তাদের আইনজীবী অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক কামরুল ইসলাম।

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে কমিশন। গত বছর ৩০ মে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার। মামলায় আসামি ছিলেন ১৩ জন। চার্জশিটে নতুন একজন আসামির নাম যুক্ত হয়ে মোট আসামি হয় ১৪ জন।

পরে গত ২ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ চার্জশিট গ্রহণ করে মামলার বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪-এ বদলির আদেশ দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরণের জন্য গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট হয় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল।

বোর্ড সভার হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত ৯ মে হলেও হিসাব খোলা হয় একদিন আগে ৮ মে। সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টেও ৮ মে ব্যাংক হিসাব দেখানো আছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। এ রকম ভুয়া সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী ও ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২২ সালের ১০ মে গ্রামীণ টেলিকমের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মিরপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৪৩৭ কোটি এক লাখ ১২ হাজার ৬২১ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

পরে ২২ জুন অনুষ্ঠিত ১০৯তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাডভোকেট ফি হিসেবে অতিরিক্ত এক কোটি ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৯ টাকা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। 

অন্যদিকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাব থেকে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নামীয় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিসের হিসাব থেকে তিন দফায় মোট ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

কিন্তু কর্মচারীদের লভ্যাংশ বিতরণের আগেই তাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের না জানিয়ে অসৎ উদ্দেশে ২০২২ সালের মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে সিবিএ নেতা মো. কামরুজ্জামানের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখার হিসাবে মোট তিন কোটি টাকা, সিবিএ নেতা মাইনুল ইসলামের হিসাবে তিন কোটি ও সিবিএ নেতা ফিরোজ মাহমুদ হাসানের ডাচ-বাংলা ব্যাংক মিরপুর শাখার হিসাবে তিন কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।

একইভাবে অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে চার কোটি টাকা ও দ্য সিটি ব্যাংকের গুলশান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগসংবলিত একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই অনুসন্ধান শুরু হয়।

মাহমুদুল আলম/অমিয়/